ভাইরাসে অবরুদ্ধ ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ|195057|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬
ভাইরাসে অবরুদ্ধ ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ
রূপান্তর ডেস্ক

ভাইরাসে অবরুদ্ধ ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ

চীনে রহস্যময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে

সিএএন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও ইতিমধ্যে আটশর বেশি ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭৭ জনের অবস্থা গুরুতর ও সন্দেহভাজন আরও ১ হাজার ৭২ জনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

মৃত্যু এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই উহান শহরের। হুবেই প্রদেশের এ রাজধানী থেকেই গত বছর নতুন এ করোনাভাইরাস উদ্ভূত হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। চীনের বাইরে আরও ৭টি দেশে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেখানে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ দেশ হিসেবে সৌদি আরবে এই ভাইরাসে এক নার্স আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। যদিও রিয়াদ কর্র্তৃপক্ষ বলছে, তাদের হাসপাতালের কোনো নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি।

সংক্রমণ ঠেকাতে চীন কর্র্তৃপক্ষ গতকাল শুক্রবার দেশের ১৩টি শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এই জরুরি অবস্থার আওতায় শহরের বাসিন্দারা শহরের বাইরে বের হতে পারবে না। ফলে এই ১৪টি শহরের ৪ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চীনের মহাপ্রাচীর বলে খ্যাত গ্রেট ওয়ালের একাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে।

চীনা নববর্ষের ছুটির মধ্যে দেশটির কোটি কোটি মানুষ একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেও কর্র্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। আজ থেকে চীনে লুনার নিউ ইয়ারের সপ্তাহব্যাপী ছুটি শুরু হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে উহান ও হুয়াংগাং শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পেইচিংয়ে সব বড় উৎসব ও মন্দিরের মধ্যে মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র মুক্তি স্থগিত এবং পর্যটনপ্রিয় নিষিদ্ধ নগরী বন্ধ রয়েছে।

হুবেই প্রদেশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। উহানের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ সড়কেও। উহানের সর্বত্র ফেইসমাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরটি একটি ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে চীনা কর্র্তৃপক্ষ। এই হাসপাতালে শুধু করোনাভাইরাসে আক্রান্তদেরই চিকিৎসা দেওয়া হবে।

পরিস্থিতি নিয়ে জেনেভায় বৈঠকও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও অন্যান্য দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ায় পরিস্থিতিকে এখনই ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

ডব্লিউএইচওর প্রধান ট্রেডস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ‘ভুল করবেন না। চীনে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করলেও এটি এখনই বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠেনি, তবে হয়ে উঠতে পারে।’ চীনের বাইরে থাইল্যান্ডেই সবচেয়ে বেশি চারজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও।