যুদ্ধাপরাধ বিচারে পর্যাপ্ত সময় দরকার|195058|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের নিবন্ধে সু চি
যুদ্ধাপরাধ বিচারে পর্যাপ্ত সময় দরকার
রূপান্তর ডেস্ক

 যুদ্ধাপরাধ বিচারে পর্যাপ্ত সময় দরকার

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানের ওপর তদন্ত শেষ করেছে দেশটির একটি স্বাধীন কমিশন। কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে মিয়ানমার সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি নিবন্ধ লেখেন। লিখিত নিবন্ধে সু চি বলেছেন, সংঘাত-কবলিত রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় ন্যায় নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের আরও সময় দরকার।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধে সু চি লিখেছেন, মিয়ানমারের বিচারব্যবস্থাকে নিজস্ব গতিতে পরিচালিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিলেই কেবল রাখাইনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি মিয়ানমারের বিচার ব্যবস্থাকে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানে সরকারি সেনাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার মিয়ানমারের সামরিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে করা হবে। তবে সু চি স্বীকার করেছেন, বিশ্বের যেকোনো সেনাবাহিনীর মতো মিয়ানমার সেনাবাহিনীও, ‘নিজেদের সেনাসদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ’ পাওয়া কঠিন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ অভিযোগ বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বলে অভিযোগ করেন সু চি। যা সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মতে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত সোমবার এই কমিশন তাদের প্রতিবেদন মিয়ানমার সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাখাইনে ২০১৭ সালের সেনা অভিযানে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সেখানে গণহত্যার উদ্দেশ্যের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে তিনটি বড় ধরনের নিধনযজ্ঞের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি ঘটনা হলো মংডুর মিন গুই গ্রামে। যেখানে আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির সঙ্গে সরকারি সেনাদের যুদ্ধে ৬০০ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন।

অপর দুটি নিধনযজ্ঞের একটি রাথেডাউং শহরের চুট পাইন গ্রামে। যেখানে সন্দেহভাজন আরসা যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সেনা হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এছাড়া বুথিডাউংয়ের মাউং নু গ্রামে প্রায় ২০০ মানুষকে ইচ্ছে করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত আরও তীব্রতর না হওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।