জলবাগিচার মুক্ত পরিসর|195216|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
হাতিরঝিল প্রকল্প
জলবাগিচার মুক্ত পরিসর
আহমেদ মুনীরুদ্দিন

জলবাগিচার মুক্ত পরিসর

ছবিঃ সাহাদাত পারভেজ

২০০৪-০৫ সাল থেকে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের’ ব্যানারে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল হাতিরঝিল নিয়ে। আন্দোলনটি শুরু হয় হাতিরঝিলে রাজউকের প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিরুদ্ধে। সে সময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাতিরঝিলকে দুই ভাগে ভাগ করে রেললাইন ও মগবাজার সড়ক বিভাজন হিসেবে ধরে, সোনারগাঁও হোটেলের পাশটাকে ‘এক্সটেনশন অব কারওয়ান বাজার কমার্শিয়াল ডিস্ট্রিক্ট’ এবং পরের অংশটিকে ‘হাতিরঝিল হাউজিং প্রকল্প’ নামে দুটি প্রকল্প করার পাঁয়তারা করছিল। অথচ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরের জন্য ১৯৯৭ সালের ‘স্ট্রাকচার প্ল্যান অব ডিএমডিপি’ বা ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের কাঠামো পরিকল্পনা’য় হাতিরঝিলকে জলাধার অঞ্চল/বারিপাত ধারণ অঞ্চল হিসেবে পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। যেকোনো নগরীর পরিবেশ ভারসাম্যের জন্যই এমন জলাধারের প্রয়োজন। ঢাকা মহানগরীতে প্রাকৃতিকভাবেই সেসব ছিল।

আধুনিক ঢাকার শুরু বুড়িগঙ্গার পাড় ধরে, যেটাকে ওয়াটার ফ্রন্ট সিটি ডেভেলপমেন্ট বলে। ঢাকার ওয়াটার ফ্রন্ট হারিয়ে গেছে এবং উন্নয়নের তাগিদে ওয়াটার ফ্রন্ট ব্যাক ইয়ার্ড হয়ে গেছে। অফিশিয়ালি ওয়াসার পাইপ-নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াটার ফ্রন্ট ম্যানেজমেন্ট করা হলে নদীর সৌন্দর্য-মণ্ডিত একটি নগরী হতে পারত ঢাকা। একদিকে ঢাকার এই ঐতিহাসিক বিপর্যয়, আরেকদিকে প্রাচ্যের নগর দর্শনের নদী ও জলকেন্দ্রিকতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন চলতে থাকে। কেননা, প্রাকৃতিকভাবেই বালু নদী থেকে নড়াই নদী হয়ে বর্তমান হাতিরঝিল, পান্থপথ এলাকার খাল, কলাবাগান খাল, কাঁঠালবাগান খাল, ধানমন্ডি লেক এবং সবশেষে মোহাম্মদপুর খাল হয়ে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ পর্যন্ত কয়েকটা সংযোগ মতো বিস্তৃত ছিল। আর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের পরের অংশটুকু ছিল জলাঞ্চল; বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল। ঢাকায় পূর্ব-পশ্চিম সড়ক নেটওয়ার্ক খুব বেশিদিন আগেও ছিল না। বেশির ভাগ উত্তর-দক্ষিণ ছিল। কিন্তু ঢাকার চারপাশে যে সার্কুলার ওয়াটারওয়ে আছে সেখানে নড়াই নদী হয়ে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদ যদি ভাবি সেটি ঢাকার মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে একটা জলসংযোগ ছিল।

মোট ৩০৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তার সুপরিসর হাতিরঝিল প্রকল্পের। বেগুনবাড়ি, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, উলন, মধুবাগ, মগবাজারকে ঘিরে এখানে দুই লেনের সিগন্যালবিহীন এক্সপ্রেসওয়ে আছে আট কিমি। দুই লেনের সার্ভিস রোড ৮ দশমিক ৮ কিমি। হাতিরঝিলে ফুটপাতের দৈর্ঘ্য নয় কিমি এবং জলের ধারে হাঁটা পথের দৈর্ঘ্য ১০ কিমি। চারটি সেতু, চারটি সংযোগকারী ওভারপাস, চারটি আন্ডারপাস, দুটি ইউলুপ রয়েছে হাতিরঝিলের সড়কগুলোতে। সার্কুলার বাস সার্ভিসের জন্য ছয়টি বাসস্টপ ও যাত্রীছাউনি এবং ওয়াটার ট্যাক্সির জন্য তিনটি টার্মিনাল রয়েছে। ছয়টি পাবলিক টয়লেট, দুটি পুলিশ বক্স এবং ৫০টি সাইকেল রাখার মতো স্ট্যান্ড ও ২৩০টি যানবাহনের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। লেকের ধারে দর্শনার্থীদের জন্য ২৪টি ডেক, দুটি সিড়িবাঁধানো ঘাট এবং বিশ্রামের জন্য ৫০০টি বেঞ্চ রয়েছে এই প্রকল্পে। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হাতিরঝিলে আছে দুই হাজার আসনের একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার এবং ১০-তলার একটি কারপার্কিং ব্যবস্থা।

এসব ভাবনা-চিন্তা আর রাজপথে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-আন্দোলনের মধ্যেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সব সময় কিছু না কিছু করতে চায়। কিছু চমক দিতে চায়; জনগণকে কাছে টানতে চায়। এসব ভাবনা থেকেই একসময় এই আন্দোলনের নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের কাছে গিয়ে উপস্থিত হন। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নেতৃত্বে স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ আন্দোলনের নেতারা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের কাছে হাতিরঝিলকে ঢাকা মহানগরের একটা আধুনিক জলবাগিচা হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার চটজলদি এটা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দ্রুততম সময়ে কাজ করার জন্য এ প্রকল্পের কনসালট্যান্ট হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়-বুয়েট এবং এলজিইডির একটা সমন্বয় সভা করে বুয়েটকে এর দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হলো। শুরু হলো মাস্টারপ্ল্যান। বুয়েট হাতিরঝিল প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান করল। মাস্টারপ্ল্যানের পর আর্কিটেকচারাল ডিজাইন এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হলো। এলজিইডির টেন্ডারে ‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড’-এর ডিজাইন সেরা হিসেবে বিবেচিত হলো। এভাবেই একটা নাগরিক আন্দোলন থেকে ঢাকা মহানগরের আধুনিক জলবাগিচা হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

স্থপতি ইকবাল হাবিব জানান, এই পর্যায়ে তারা হাতিরঝিল প্রকল্পটির মধ্যে মানবকেন্দ্রিকতার চিন্তা শুরু করেন এবং একে একটা ‘পাবলিক স্পেস’ হিসেবে তৈরি করার চিন্তা করেন। কারণ মাস্টারপ্ল্যানে একে পাবলিক স্পেস করার চিন্তা ছিল না। ছিল শুধু একটি ‘ওয়াটার বডি’ আর তার দুই পাশ দিয়ে ড্রেইনেজ আর রোড নিয়ে যাওয়া। স্থাপত্যিক নকশা প্রণয়নের সময় জলাধারের দুই পাশের সড়কের সঙ্গে সেতু, ফুটপাত, মানুষের হাঁটার পথ, ঝিলের পাড়ে পাড়ে ঘাট, ফুটওভারব্রিজ, ওভারপাস, আন্ডারপাস ইত্যাদি বিষয়গুলো যুক্ত করে প্রকল্পটিকে মানুষের যাতায়াত ও কর্মকাণ্ডের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করেন। স্থাপত্য নকশা ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ করতে করতেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার চলে আসে। প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গণতান্ত্রিক সরকারের নজর অনেক বেশি জনগণমুখী হয়ে থাকে। নতুন সরকার প্রকল্পের বর্ধিত প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দিলে প্রকল্পটি জলাধার ও সড়ক সংযোগের স্তর থেকে একটি পরিপূর্ণ সুপরিসর পাবলিক স্পেস প্রকল্পে উপনীত হয়।

হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ছিল বিরাট এই জলাশয়ের চারপাশের পুরনো বসতি। ঝিলের তীরবর্তী বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ, তাদের পুনর্বাসন ইত্যাদি। একপর্যায়ে তৎকালীন সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের যৌক্তিক চিন্তা ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে সেসবও উতরে ওঠা সম্ভব হয়। সে সময় জমি অধিগ্রহণ এবং বাস্তুচ্যুতদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত হওয়া এবং কারও কারও অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ারও অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় বাস্তুচ্যত হয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে। স্থপতি ইকবাল হাবিব জানান, প্রকল্পের ক্যাম্প অফিসের সামনে এক দিন কিছু মানুষ এসে বলেন ‘ঠিক আছে, আমরা না হয় ক্ষতিপূরণ পাব। কিন্তু এখানে এমন একটা প্রকল্প হবে আর আমরা থাকতে পারব না? আমাদের কি এখানে জায়গা দেওয়া যায় না? আমরা তো হাতিরঝিলের পাশে থাকতে পারলাম না।’ পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। সেখানকার বৈধ জমি ও বাড়ির মালিক, যারা প্রকল্পের প্রয়োজনে জমি দিয়েছেন, রাজউক অনুমোদিত বাড়ি ভেঙেছেন এবং ক্ষতিপূরণও পেয়েছেন, তাদের জন্য হাতিরঝিল-সংলগ্ন এলাকায় বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প করে তাদের স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমন অতীত দৃষ্টান্ত হিসেবে কমলাপুর রেলস্টেশন করার সময় বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য খিলগাঁওয়ে নির্মিত হাউজিং, গুলশান মডেল টাউন প্রকল্পের সময় বাড্ডায় বাড়ি করার জন্য জায়গা বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরেন ইকবাল হাবিব। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে পরে তেমন একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পও সম্পন্ন হয় হাতিরঝিলের বাস্তুচ্যুতদের জন্য।

হাতিরঝিল প্রকল্পকে জলাধার ও সড়ক সংযোগের পাশাপাশি সবুজঘেরা জলবাগিচায় পরিণত করা, নাগরিকদের জন্য মুক্ত পরিসর অবসর ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত করতে এবং বাস্তুচ্যুতদের যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারা খুবই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কিন্তু জলকেন্দ্রিক এই প্রকল্পের জলাশয়টিকে দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জলাধার করতে না পারার সমস্যাটি এখনো নিরসন করা যায়নি। ওয়াসার স্যুয়ারেজবর্জ্য হাতিরঝিলে গিয়ে পড়ে বিধায় সেখানকার পানিতে সব সময়ই দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রকল্পের অন্যতম নকশাকার স্থপতি ইকবাল হাবিব দায়ী করেছেন ওয়াসার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ব্যর্থতাকে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন এটি বারিপাত ধারণ অঞ্চল। তার মানে চারপাশের বৃষ্টির জল এখানে আসবে। কিন্তু আমাদের ড্রেইনেজ ব্যবস্থাপনায় দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। একটা হচ্ছে ‘স্টর্ম ড্রেইনেজ’, আরেকটি হচ্ছে ‘স্যুয়েজ ড্রেইনেজ’ ব্যবস্থা। স্টর্ম ড্রেইনেজের কাজ হচ্ছে বৃষ্টির পানিকে ধারণ করে, একে সরাসরি নদী বা কোনো জলাধারে পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা মাটির নিচে পাঠিয়ে দেওয়া। আর স্যুয়েজ ড্রেইনেজে পাইপলাইন ও বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে পানি ও ময়লাকে নিয়ে ট্রিটমেন্টপ্ল্যান্টে ঢুকিয়ে ট্রিটমেন্ট করে; পরিবেশসম্মত বানিয়ে তারপর একে নদীতে ফেলে দেওয়া। কিন্তু ওয়াসা বছরকে বছর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে একের পর এক ভুল-ভ্রান্তিতে পুরো শহরকে অকেজো শহরে পরিণত করেছে। এটা ওপেন-সিক্রেট যে, মাত্র ১২ শতাংশ প্রকৃত ‘স্যুয়েজ ড্রেইনেজ’ ব্যবস্থা কার্যকর আছে, যেটা পাগলায় ট্রিটমেন্ট হয়। বাদবাকি ৮৮ শতাংশ সরাসরি স্টর্ম ড্রেইনেজের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাতিরঝিল প্রকল্পের সময় ওয়াসা দাবি করল, তাদের স্যুয়ারেজ এখানে ঢুকবে না। সে সময় বুয়েটের পরামর্শে ওয়াসা হাতিরঝিলের চারপাশে কিছু ডিভাইস বসায়, যেগুলো স্যুয়ারেজ থেকে ময়লা-দূষিত পানি সরিয়ে রেখে ঝিলের মধ্যে পরিষ্কার পানির প্রবাহ নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো কাজ করেনি। মুশকিল হলো ওয়াসার কারণে আজকে হাতিরঝিল ভুগছে। কিন্তু পানি আসার এসব পথ বন্ধ করে দিলে বৃষ্টির পানি আসা বন্ধ হয়ে গেলে আরও বিপদ বাড়বে; পানি শুকিয়ে যাবে, হাতিরঝিল মরে যাবে আর চারপাশের এলাকাগুলো বিপর্যস্ত হবে। মূলত এই প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে হাতিরঝিলের জলের দূষণ এখনো নিরসন হচ্ছে না। তবে ইতিমধ্যে বুয়েটের পরামর্শে সরকার অস্ট্রেলীয় একটি কোম্পানিকে গত ডিসেম্বরে নিযুক্ত করেছে এ সংকট নিরসনের জন্য।

বুয়েটের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী হাতিরঝিলের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপিং করেছে ‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড’। তাদের তত্ত্বাবধানে এর ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা করেছে ‘ডিপিএম’ ও সুপারভিশন এবং মনিটরিং করেছে ‘এআই’ নামের আরেকটি প্রকৌশল সংস্থা। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ৫৭ থেকে ৬৮ জন স্থপতি ও অন্য পেশাদাররা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তাদের সবার নাম হাতিরঝিলের বিভিন্ন ব্রিজের গোড়ায় স্টিলের প্লেটে লেখা রয়েছে। নাগরিক চিন্তা এবং সরকার বা প্রশাসনের মেলবন্ধনের একটি ভালো দৃষ্টান্ত হাতিরঝিল প্রকল্প। এই প্রকল্পে এলজিইডি, রাজউক, ওয়াসা, বুয়েট ও কনসালট্যান্ট লাইনের সবাই বাংলাদেশি। সবাই মিলে এক হলে যে মুক্ত-বন্ধন শক্তি তৈরি সম্ভব, হাতিরঝিল প্রকল্প ঢাকা মহানগরে তার একটি বড় দৃষ্টান্ত।

(ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডের ইকবাল হাবিবের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা)

এহসান খান
এহসান খান স্থপতি ও নগর পরিকল্পক। তিনি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে গ্র্যাজুয়েশন করেন। তিনি ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।  এখন এহসান খান আর্কিটেক্টস নামে নিজের স্থাপত্য চর্চায় নিয়োজিত তিনি।  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত  এহসান খান বিশ্বাস করেন নগর ও গ্রামীণ সমাজের নানা স্তরে স্থাপত্যের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। 

ইকবাল হাবিব
একজন সক্রিয় স্থপতি ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী। তিনি ‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড’-এর একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ স্থাপত্যচর্চায় নিয়োজিত তিনি।  ১৯৯০ সালে তিনি স্থাপত্যে গ্র্যাজুয়েশন করেন। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের একজন সক্রিয় সদস্য তিনি। ঢাকার নানা নাগরিক সংকট নিয়ে সোচ্চার কণ্ঠ তিনি।  আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্থপতি মোশে শাফদি ও জাহা হাদীদের সঙ্গে কাজের অভিঞ্জতা রয়েছে তার।

ইশতিয়াক জহির
একজন সক্রিয় স্থপতি ও নগর পরিকল্পক।  তিনি ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। গত ২৬ বছর ধরে স্থাপত্য চর্চায় নিয়োজিত ইশতিয়াক জহির বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের একজন সক্রিয় এবং আমেরিকান  ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস-এর সম্মানসূচক সদস্য। বাংলাদেশে স্থাপত্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভের পর তিনি যুক্তরাজ্যে কম্পিউটিং ও ডিজাইনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেন।  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে তার বহু নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।