তিউনিশিয়ার উন্স জাবিরের ইতিহাস|195438|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
তিউনিশিয়ার উন্স জাবিরের ইতিহাস

তিউনিশিয়ার উন্স জাবিরের ইতিহাস

গতবারের চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাকে হারিয়ে সারা ফেলে দেওয়া আমেরিকান কিশোরী কোকো গফ পরের রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে। সপ্তম দিনের এ হতাশার দিনে আছে একটা সুখবরও। টেনিসে আরব বসন্তের আভাস দিয়ে উঠে এসেছেন উন্স জাবির। তিউনিশিয়ার ২৫ বছর বয়সী এ নারীই প্রথম আরব হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন। হারিয়েছেন কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসকে বিদায় করে সারা ফেলা চীনের ওয়াং কিয়াংকে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অঘটন ঘটানোর দুদিন পরই বিদায় নিতে হলো গফ ও কিয়াংকে। নারী টেনিসে ‘নতুন সেরেনা’খ্যাত ১৫ বছর বয়সী কোকো গফ চতুর্দশ বাছাই সোফিয়া কেনিনের কাছে ৭-৬, ৩-৬, ০-৬ সেটে হেরেছেন। আর র‌্যাংকিংয়ের ৭৮-এ থাকা জাবির ৭-৬(৪), ৬-১-এ হারিয়েছেন ২৭তম র‌্যাংকিংয়ে থাকা কিয়াংকে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মঙ্গলবার সোফিয়া কেনিনের সঙ্গে খেলবেন জাবির।

গতকাল মেলবোর্ন পার্কের সব আলো কেড়ে নেন জুবের। মাত্র তিন বছর বয়সে র‌্যাকেট হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আমেরিকান কলেজের লোভনীয় স্কলারশিপ ফিরিয়ে দিয়ে থেকে যান তিউনিশিয়ায়। শুধু তাই নয়, বেলজিয়াম এবং ফ্রান্সের টেনিস একাডেমিতেও সুযোগ পেয়েছিলেন জুবের। কিন্তু যাননি। তাই নিজেকে ১০০ ভাগ খাঁটি তিউনিশিয়ান মনে করেন তিনি। ২০১১ সালে ফরাসি ওপেনের গার্লস সিঙ্গেলজয়ী জাবির বলেছেন, ‘আমি তরুণ প্রজন্মকে ঘরে ফেরায় উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করি। অসাধারণ লাগবে যদি তারা তিউনিশিয়ায়, আরব বিশ্বের কিংবা আফ্রিকায় ফিরে আসে। আমি একশভাগ খাঁটি তিউনিশিয়ান প্রডাক্ট।’ ২০১১ সালে ফরাসি ওপেনের সাফল্যে টেনিস দুনিয়ায় নিজের দ্রুত উত্থান আশা করেছিলেন জুবের। ১১টা টুর্নামেন্ট শিরোপা জিতলেও গ্র্যান্ড স্ল্যামে তার সাফল্য বলার মতো ছিল না। তাই হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘জুনিয়র লেভেলে সাফল্যের পর এটা ছিল হতাশাজনক। কারণ আমি আরও ভালো করতে চেয়েছিলাম। জুনিয়র পর্যায়ে আমি অনেকের সঙ্গে খেলেছি, যাদের কেউ কেউ এখন শীর্ষ ৫০ কিংবা সেরা ২০ এর মধ্যে আছে।’ এখন জাবিরের লক্ষ্য র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি ঘটানো। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে র‌্যাংকিংয়ে আরও কয়েক ধাপ উন্নতি ঘটবে তার। তবে ছোট্ট দেশ তিউনিশিয়ার হয়ে ইতিমধ্যে যা অর্জন করেছেন তার জন্যও কৃতজ্ঞ জাবির, ‘জেতার পরেই আমি মাকে ফোন করেছিলাম। খুব খুশি হয়েছে সে। বাবা তো মনে হচ্ছিল খুশিতে কেঁদে ফেলেছেন। আমার দুই ভাইয়ের একজন এখন জার্মানিতে অন্যজন ফ্রান্সে। আমার পরিবার সবসময় আমার সঙ্গে থেকেছে। তারা হয়তো ঠিকঠাক ঘুমায়নি। এ সহযোগিতার জন্য আমি খুব খুশি। কারণ একটা সময়ে আমরা কঠিন সময় পার করেছি। এখন পরিশ্রমের প্রতিদান পাচ্ছি।’

নারী এককের শীর্ষ বাছাই অ্যাশলি বার্টিও উঠেছেন কোয়ার্টারে। গতকাল ৬-৩, ১-৬, ৬-৪ সেটে তিনি হারিয়েছেন আমেরিকান অ্যালিসন রিস্কেকে। শেষ আট-এ বার্টির প্রতিপক্ষ দুবারের উইম্বলডনজয়ী পেত্রা কেভিতোভা। গত বছর মেলবোর্ন পার্কে কিভিতোভার কাছে কোয়ার্টারেই হেরেছিলেন বার্টি।