মমির কণ্ঠস্বরের ফিরে আসা|195577|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
মমির কণ্ঠস্বরের ফিরে আসা
রূপান্তর ডেস্ক

মমির কণ্ঠস্বরের ফিরে আসা

মৃত্যুর পরে ফের বেঁচে ওঠার আশা ছিল মিসরীয় পুরোহিত নেছায়মুনের। কাকতালীয়ভাবে তার সেই আকাক্সক্ষাই যেন পূরণ করলেন বিজ্ঞানীরা। খ্রিস্টপূর্ব ১০৯৯ থেকে ১০৬৯ সময়ের মধ্যে ফারাও একাদশ রামেসেস রাজত্বের সময় মারা যান তিনি। তখনকার নিয়ম অনুসারে তিনি অভিজাত হওয়ায় মমি করে রাখা হয় তার দেহ। সেই মমির কণ্ঠেই স্বর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নেছায়মুনের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে প্রাচীন মিসরীয় শব্দও। 

পুরোহিত হিসেবে নেছায়মুনকে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য উচ্চ স্বরে কথা বলতে হতো, গানও গাইতে হতো। তবে মৃত্যুর পরে তার সেই কণ্ঠ থেমে যায়। তবে তিন হাজার বছর পরে, গবেষকদের একটি দল যেন সেই কণ্ঠে আবার জীবন ফিরিয়ে এনেছেন।

ওই পুরোহিতের কণ্ঠনালির অনুসরণে বিজ্ঞানীরা থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে বাগ্্যন্ত্র তৈরি করেছেন। কণ্ঠনালির ভেতর সেই বাগ্্যন্ত্র ব্যবহার করে নেছায়মুনের কণ্ঠের অনুকরণে একটি স্বরধ্বনি তৈরি করতে সক্ষম হন তারা।

সিএসএন বলছে, রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক এবং লিডস মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মৃত কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর সফলভাবে পুনরায় তৈরি করা।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে তারা নেছায়মুনের কণ্ঠে পুরো একটি বাক্য তৈরি করতে পারবেন। ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের প্রতœবিদ্যার অধ্যাপক ও গবেষক দলের অন্যতম সদস্য জোয়ান ফ্লেচার বলেছেন, বিষয়টি অভূতপূর্ব। আমাদের অনেক আগে মৃত ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর পুনরায় শোনার সুযোগ করে দিয়েছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্বের অধ্যাপক জন স্কোফিল্ড বিবিসিকে বলেছেন, নেছায়মুনের ‘বিশেষ আকাক্সক্ষা’ ছিল মৃত্যুর পরে যেন তার কণ্ঠ শোনা যায়, যা তার ধর্মবিশ্বাসের অনুষঙ্গ। সেটি তার কফিনেও লেখা ছিল। আমরা সেই ইচ্ছাকে সত্যি করতে চেষ্টা করেছি।

তিনি জানান, মানব শরীরে কণ্ঠনালি হচ্ছে এমন একটি পথ, যেখানে শব্দ পরিস্রাবিত হয়। সেই শব্দ তৈরি হয় বাগ্্যন্ত্রের মাধ্যমে কণ্ঠনালি হয়ে বেরিয়ে আসে। নেছায়মুনের কণ্ঠনালি থেকে বের হওয়া শব্দের অনুরূপ শব্দ বের করার জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে সঠিক মাত্রা অনুযায়ী সেটার একটা অনুলিপি তৈরি করা হয়েছে।