বিশেষ প্রস্তুতি -৩৪|195579|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
বিশেষ প্রস্তুতি -৩৪

বিশেষ প্রস্তুতি -৩৪

আতিকুর রহমান

শিক্ষক, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

মডেল টেস্ট : বহুনির্বাচনী

১. ‘ভবন’ কোন শ্রেণির শব্দ?

ক. পারিভাষিক শব্দ           খ. যৌগিক শব্দ

গ. তৎসম শব্দ      ঘ. তদ্ভব শব্দ

২. ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?

ক. অর্থতত্ত্বের       খ. রূপতত্ত্বের

গ. বাক্যতত্ত্বের      ঘ. ধ্বনিতত্ত্বের

৩. ধ্বনি উৎপাদনের মূল উপকরণ বা উচ্চারক কোনটি?

ক. কণ্ঠ ও জিহ্বা

খ. জিহ্বা ও ওষ্ঠ

গ. জিহ্বা ও তালু

ঘ. তালু ও নাসিকা

৪. অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে কী বলে?

ক. সমীভবন

খ. গ্রগত স্বরসংগতি

গ. অন্যোন্য

ঘ. পরাগত স্বরসংগতি

৫. ‘সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।’ এর উদাহরণ কোনটি?

ক. যতন খ. গ্রন্থ

গ. স্টেশন           ঘ. ত্রিনয়ন

৬. কোন প্রকারের সন্ধি মূলত বর্ণ সংযোগের নিয়ম?

ক. তৎসম সন্ধি    খ. বাংলা সন্ধি

গ. স্বরসন্ধি                      ঘ. ব্যঞ্জনসন্ধি

৭. নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা প্রভৃতি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক হয়েছে?

ক. বিশেষ অর্থে    খ. ক্ষুদ্রার্থে

গ. সাধারণ অর্থে   ঘ. বিশিষ্ট অর্থে

৮. চিকমিক করে বালি কোথা নাহি কাদা এ বাক্যের দ্বিরুক্তি গঠিত হয়েছে কোন পদযোগে?

ক. বিশেষ্য                      খ. বিশেষণ

গ. ক্রিয়া বিশেষণ  ঘ. সর্বনাম

৯. নিচের কোনগুলো কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?

ক. রা, এরা                     খ. গুলা, গুলো

গ. খানা, খানি      ঘ. পাল, যুথ

১০. নির্দেশক সর্বনামের পর টা, টি যুক্ত হলে তা কী হয়?

ক. অনির্দিষ্ট                     খ. এক বচন

গ. সুনির্দিষ্ট                      ঘ. বহুবচন

১১. জলচর, জলদ এগুলো কোন সমাসের উদাহরণ?

ক. প্রত্যয়যুক্ত বহুব্রীহি

খ. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি

গ. উপপদ তৎপুরুষ

ঘ. প্রাদি সমাস

১২. দ্বিগু সমাসের সমাসনিষ্পন্ন পদটি কী হয়?

ক. বিশেষ্য পদ    খ. বিশেষণ পদ

গ. সর্বনাম পদ     ঘ. ক্রিয়াপদ

১৩. কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া আছে?

ক. সাপুড়ে সাপ খেলায়

খ. প্রভাতে সূর্য উঠলে সবাই জেগে ওঠে

গ. অন্ধকারে মানুষ ভয় পায়

ঘ. সুরমা নদীতে প্রচুর মাছ আছে

১৪. ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে’ এটি কোন কাল?

ক. সাধারণ বর্তমান

খ. পুরাঘটিত বর্তমান

গ. নিত্যবৃত্ত বর্তমান

ঘ. পুরাঘটিত বর্তমান

১৫. ‘সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথচলা শুরু করল।’ এখানে সূর্য কোন কর্তা?

ক. এক কর্তা

খ. অসমান কর্তা

গ. নিরপেক্ষ কর্তা

ঘ. শর্তাধীন কর্তা

১৬. ধাতুর গণ ঠিক করতে প্রথমে কোন বিষয়টি লক্ষ রাখতে হয়?

ক. ধাতুটি কোন শ্রেণির

খ. ধাতুটি কয় অক্ষরে গঠিত

গ. ধাতুটি কোনকালে ব্যবহৃত

ঘ. ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী

১৭. সামীপ্য অর্থে কোন অধিকরণ কারক হয়?

ক. কালাধিকরণ

খ. বৈষয়িক অধিকরণ

গ. অভিব্যাপক অধিকরণ

ঘ. ঐক্যদেশিক অধিকরণ

১৮. ‘বেলা যে পড়ে এল জলকে চল’ জলকে কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ক. করণে ৪র্থী       খ. কর্মে ৪র্থী

গ. নিমিত্তার্থে ৪র্থী   ঘ. সম্প্রদানে ২য়া

১৯. ‘কী হেতু এসেছ তুমি কহ বিস্তারিয়া’ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত?

ক. ব্যাপার           খ. প্রার্থনা

গ. প্রসঙ্গ ঘ. নিমিত্ত

২০. কোন শব্দটি ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত?

ক. লাপাত্তা                      খ. বকলম

গ. আমদরবার      ঘ. অজ্ঞাতমূল

২১. ‘হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?’ এ বাক্যে ‘হের’ কোন ধাতু?

ক. আরবি           খ. হিন্দি

গ. ফারসি            ঘ. অজ্ঞাতমূল

২২. কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে কোন প্রত্যয় হয়?

ক. নক ও ইন       খ. তব্য ও অনীয়

গ. ণিন           ঘ. শানচ্ ও তৃচ

২৩. ‘জলধি’ কোন ধরনের শব্দ?

ক. রূঢ়ি শব্দ

খ. যৌগিক শব্দ

গ. মৌলিক শব্দ

ঘ. যোগরূঢ় শব্দ

২৪. ভাষার মূল উপকরণ কী?

ক. ধ্বনি  খ. বর্ণ

গ. শব্দ   ঘ. বাক্য

২৫. একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্যের অবতারণা বোঝাতে কী চিহ্ন বসে?

ক. ড্যাস             খ. কোলন

গ. সেমিকোলন     ঘ. পূর্ণচ্ছেদ

২৬. ‘কোনোভাবেই যা নিবারণ করা যায় না।’ এক কথায় কী বলে?

ক. দুর্নিবার          খ. দুর্দমনীয়

গ. অনিবার্য          ঘ. অদম্য

২৭. সৌভাগ্যের বিষয় কোন বাগধার দ্বারা প্রকাশ পায়?

ক. একাদশে বৃহস্পতি

খ. চাঁদের হার

গ. পোয়া বারো

ঘ. রাহুর দশা

২৮. আগ্রহ বোঝাতে মাথা শব্দের ব্যবহার কোনটি?

ক. মাথা ধরা                    খ. মাথা ব্যথা

গ. মাথা দেওয়া    ঘ. মাথা ঘামান

২৯. ‘হস্তী’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

ক. দিপ  খ. দ্বিপ  গ. দ্বীপ ঘ. দীপ

৩০. ‘এ পথে চলা যায় না’ বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?

ক. কর্তৃবাচ্য                     খ. কর্মবাচ্য

গ. কর্মকর্তৃবাচ্য     ঘ. ভাববাচ্য

উত্তর

১. গ, ২. খ, ৩. ক, ৪. ঘ, ৫. ঘ, ৬. ক, ৭. খ, ৮. গ, ৯. ঘ, ১০. গ, ১১. গ, ১২. ক, ১৩. খ, ১৪. ঘ, ১৫. গ, ১৬. খ, ১৭. ঘ, ১৮. গ, ১৯. ঘ, ২০. খ, ২১. ঘ, ২২. খ, ২৩. ঘ, ২৪. ঘ, ২৫. খ, ২৬. গ, ২৭. ক, ২৮. খ, ২৯. খ, ৩০. ঘ।

নবম-দশম শ্রেণি

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

সুধীর বরণ মাঝি

শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, হাইমচর, চাঁদপুর

প্রথম অধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্ন-২

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

হৃদিতা ও নাফিসা মামার সঙ্গে জাতীয় জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বেড়াতে যায়। সেখানে তারা অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে পায়। হৃদিতা মসলিন শাড়ি, নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও গহনা দেখে এবং নাফিসা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষের আত্মসমর্পণ দলিল, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাসংবলিত পুস্তক ও পত্রিকা দেখে আলোড়িত হয়।

ক) ইতিহাসের জনক কে?

খ) ইতিহাস কীভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করে?

গ) হৃদিতা ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান দেখেছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ) প্রাচীন সভ্যতা জানার জন্য নাফিসার দেখা ইতিহাসের উপাদানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ-উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস।

খ. ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। মানবসমাজের উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ-বিনাশের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এভাবে ইতিহাসের শিক্ষাসচেতনতা বৃদ্ধি করে।

গ. ইতিহাসের উপাদান মূলত দুই ধরনের। এক. লিখিত উপাদান। দুই. অলিখিত উপাদান বা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। হৃদিতা ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখেছিল। যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেই বস্তু বা উপাদানই হলো প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনসমূহই মূলত ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। যেমট মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। এসব প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ফলে সেকালের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রাচীন আধিবাসীদের সভ্যতা, ধর্ম, জীবনযাত্রা, নগরায়ণ, নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। এ কথার আলোকে নিশ্চিত বলা যায়, হৃদিতা ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখেছিল।

ঘ. উদ্দীপকের নাফিসা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ পক্ষের আত্মসমর্পণ দলিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাসংবলিত পুস্তক, পত্রিকা তথা ইতিহাসের লিখিত দলিল দেখতে পায়। প্রাচীন সভ্যতা জানার জন্য ইতিহাসের লিখিত উপাদানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তৎকালীন কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যেমন বেদ, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’, কলহনের ‘রাজতরাঙ্গনী’, মিনহাজ-উস-সিরাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’, আবুল ফজল-এর ‘আইন-ই আকবরী’ ইত্যাদি। এসব উপাদান থেকে প্রাচীন সভ্যতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সব সময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যেমন পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে বাংলায় আগত চৈনিক পরিব্রাজক যথাক্রমে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিংয়ের বর্ণনা। পরে আফ্রিকান পরিব্রাজক ইবনে বতুতাসহ অন্যদের লেখাতেও এ অঞ্চলের বিবরণ পাওয়া গেছে। এসব বর্ণনা থেকে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়। ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে আরও রয়েছে রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনী প্রভৃতি। এগুলোর মধ্যেও প্রাচীন সভ্যতার বিবরণ রয়েছে। তা ছাড়া সরকারি নথি, চিঠিপত্র ইত্যাদি থেকেও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য অনেক তথ্য পাওয়া যায়।