করোনাভাইরাস এক অজানা আতঙ্ক |195586|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
করোনাভাইরাস এক অজানা আতঙ্ক

করোনাভাইরাস এক অজানা আতঙ্ক

সম্প্রতি চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় বাংলাদেশও কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে এ ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের শরীরে একটি নতুন ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ভাইরাসটি একটি করোনাভাইরাস-সার্সরভাইরাস। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে এই ভাইরাসকে দেখতে মুকুট (পৎড়হি) বা সূর্যরশ্মির (ংড়ষধৎ পড়ৎড়হধ) মতো মনে হয় বলে এর নাম করোনাভাইরাস। নতুন এই করোনাভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নোবেল করোনাভাইরাস’ বা ‘উহান করোনাভাইরাস’ বা ‘২০১৯Ñ ঘঈঙঠ করোনাভাইরাস’। নোবেল করোনাভাইরাস জেনেটিক। অর্থাৎ এই ভাইরাস আগে পশুপাখিতে রোগ সৃষ্টি করত, এখন সঁঃধঃরড়হ ঘটিয়ে মানবদেহেও রোগের প্রাদুর্ভাব করছে। পূর্বের মার্স বা সার্স করোনাভাইরাস যথাক্রমে উট ও বাদুড় থেকে বিস্তার লাভ করলেও এবারের নোবেল করোনাভাইরাস সাপ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বাদুড় থেকে এই ভাইরাস সাপের শরীরে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসটি নতুন বলে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে এখনো তেমন বিস্তারিত জানা যায়নি। তা ছাড়া ভাইরাসটি মানবদেহে কত দিন প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকতে পারে বা কত দ্রুত ছড়াতে পারে বা চিকিৎসা কি তাও অজানা। তবে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

লক্ষণ : এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি) ও শুকনা কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা যায় শ্বাসকষ্ট। পরে নিউমোনিয়াসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াসহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। দেখা গিয়েছে, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর থেকে রোগ লক্ষণ প্রকাশ করতে ৫-১৪ দিন সময় নেয়। এ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেছেন।

প্রতিকার : যেহেতু এই ভাইরাসটি এখনো নতুন, এ পর্যন্ত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। শুধু সাপোর্টিভ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের শুশ্রƒষা করা হচ্ছে।  সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়

 ভালো করে সাবান-পানি অথবা অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ডরাব দিয়ে হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

 হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার অথবা মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে।

 হাত দিয়ে নাক-মুখ ঘষা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 সন্দেহজনক আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা থেকে করতে হবে।

 মাংস ও ডিম ভালো করে রান্না করে খেতে হবে।

 বন্য অথবা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে সাবধানতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।

অন্যকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি পার হওয়া পর্যন্ত সংক্রমিত ব্যক্তিকে আলাদা করে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।

 এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং করে উপদ্রুত এলাকা থেকে প্রত্যাগত যাত্রীদের চেক করতে হবে।

 আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

ডা. হিমেল ঘোষ

এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) বিসিএস (স্বাস্থ্য)

মেডিকেল অফিসার,

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ডুমুরিয়া, খুলনা

যোগাযোগ : ০১৮৫৭৫৫১১২৩