চীনে ৮১ জনের মৃত্যু|195644|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
চীনে ৮১ জনের মৃত্যু
রূপান্তর ডেস্ক

চীনে ৮১ জনের মৃত্যু

চীনে হু হু করে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮১ জন। আক্রান্ত প্রায় তিন হাজার জনের মধ্যে ৪৬১ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া আরও ৫ হাজার ৭৯৪ জনকে ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক কোটি মানুষ কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছে। চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। বেশ কিছু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অথবা কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলেছে চীন সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। তবে আশার কথা গতকাল পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৫১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তারপর থেকেই চীনের বিভিন্ন শহরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটি শুধু চীনেই নয় ছড়িয়েছে হংকং, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, থাইল্যান্ডসহ আমাদের প্রতিবেশী ভারতেও। এ অবস্থায় ভাইরাসটির আরও ছড়িয়ে পড়া রোদ করতে চীনে জরুরি বৈঠকে বসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত শনাক্ত ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক দিনের ব্যবধানেই ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং নতুন করোনাভাইরাসের উৎসস্থল বলে বিবেচিত মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী উহান পরিদর্শন করেছেন।

সে সময় তিনি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চান্দ্র নববর্ষের ছুটি বৃদ্ধি করার কথা জানান। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অথবা কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে আহ্বান জানান।

দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চীন সরকার চান্দ্র নববর্ষের সপ্তাহব্যাপী ছুটি আরও তিন দিন বাড়িয়ে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করেছে।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস যাতে আরও ছড়াতে না পারে, সে জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল হেলথ কমিশন।

চীনের বাইরে আরও অন্তত ১৪টি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে চীনের বাইরে কারও মৃত্যুর তথ্য এখনো আসেনি।

চীন শাসিত হংকং আটজনের আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ দিনের মধ্যে যারা হুবেই গেছেন তাদের হংকং প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। চীনের নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হংকংয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন নেত্রী ক্যারি লাম। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চীনে সব ধরনের সরকারি সফর এবং চান্দ্র নববর্ষ উদযাপনও অবিলম্বে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে চীনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় বিশেষ বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সোমবার পেইচিংয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই দিন ভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ডক্টর পুনম ক্ষেত্রপাল।

পুনম ক্ষেত্রপাল বলেছেন, ‘নতুন ধরনের করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর এখনই সময়। যেকোনো ধরনের নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই অজানা থাকে। নতুন বড় ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাস শনাক্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সেবা প্রদানকালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহভাজন রোগীদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা প্রদান ও সংক্রমণ কমাতে গাইডলাইন তৈরি করেছে।’

বিশ্বব্যাপী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারাবাহিকভাবে গবেষক ও অন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে।’ উল্লেখ করেন তিনি।

চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নভেল করোনাভাইরাস-২০১৯ নামে পরিচিত এই রোগটি এখনো পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি হিসেবে ঘোষণা করেনি ইমার্জেন্সি কমিটি অব ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক এ কমিটি।