আবার সুপার ওভারে কপাল পুড়ল নিউজিল্যান্ডের|195980|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
আবার সুপার ওভারে কপাল পুড়ল নিউজিল্যান্ডের
ক্রীড়া ডেস্ক

আবার সুপার ওভারে কপাল পুড়ল নিউজিল্যান্ডের

রোহিত শর্মার ঝড়ো ফিফটিতে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল ভারত। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে সেই রান পেরিয়ে অনায়াসে জেতার পথে ছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ওভারে নাটকে সেঞ্চুরির সুযোগ, জয়ের সুযোগও হারান উইলিয়ামসন। ম্যাচ হয়ে যায় টাই। পরে সুপার ওভারেও উইলিয়ামসন নেমে ঝড় তুলেছিলেন, পাল্টা ঝড়ে জবাব দিয়ে ম্যাচ কেড়ে নেন সেই রোহিতই। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তৃতীয় চেষ্টায় প্রথম টি-২০ সিরিজ জিতল।

২০১৬ সালের বেঙ্গালুরুটাই যেন ফিরে এলো হ্যামিল্টনে। ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে শেষ তিন বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরে হেরেছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার হ্যামিল্টনে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট হাতে নিয়েও ৪ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারল না নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারের রোমাঞ্চে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত (৩-০)। তাদের করা ১৭৯ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডও থামে ১৭৯-এ। পরে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮ রানের লক্ষ্য টিম সাউদির করা ওভারের ৫ম ও শেষ বলে দুই ছক্কায় পুরো করে ফেলেন রোহিত। ম্যাচ শেষে উইলিয়ামসনের কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘সুপার ওভার আমাদের জন্য বরাবরই খারাপ। তাই আমাদের এ দিকটি নিয়ে আরও চেষ্টা করতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে হবে।

মনে করিয়ে দেন গত বছরের ১৪ জুলাই লর্ডসে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল। নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে ইংল্যান্ডও সেদিন ২৪১-এ থামলে টাই হয় ৫০ ওভারের ম্যাচটি। টাই ভঙ্গকারী হিসেবে অনুষ্ঠিত সুপার ওভারও টাই হয়। ইংল্যান্ড প্রথমে করে ১৫। শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ১ রান নিয়ে ইংল্যান্ডকে ছুঁয়ে ফেলার পর দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় শুরু করেন। কিন্তু রান পুরো করার আগেই তাকে রানআউট করেন ইংল্যান্ড উইকেটরক্ষক জশ বাটলার। মূল ম্যাচে দু’দলের বাউন্ডারির হিসাবে নিউজিল্যান্ডকে ২৬-১৭তে পেছনে ফেলে ট্রফি জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

গতকালের ম্যাচে সেই বিতর্কিত নিয়ম ছিল না। সুপার ওভারও টাই হলে সুপার ওভার চালিয়ে যেত দু’দল। তবে সেই পথে যায়নি ম্যাচটি। সুপার ওভারের প্রথম দুই বলে দুই সিঙ্গেল, তৃতীয় বলে ছক্কা, চতুর্থ বলে চার মারেন উইলিয়ামসন। পঞ্চম বলে এক রানের পর শেষ বলে মার্টিন গাপটিল পেটান আরেক চার। ওভারে আসে ১৭ রান। ওই রান তাড়ায় নেমে লোকেশ রাহুল-রোহিত শর্মা প্রথম চার বলে নেন ৮ রান। শেষ দুই বলে দরকার দাঁড়ায় ১০ রান। টিম সাউদিকে টানা দুই ছক্কা মেরে উল্লাসে মাতেন রোহিত।

অথচ ম্যাচটা সুপার ওভারে যাওয়ার কোনো আভাসই ছিল না। বরং দুই-এক বল আগেই জেতার অবস্থায় ছিল কিউইরা। শেষ ওভারে জেতার জন্য তাদের দরকার ছিল ৯। আর সেঞ্চুরি পেতে উইলিয়ামসনের ৫। মোহাম্মদ শামির প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দেন রস টেইলর। পরের বলে সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইক পান উইলিয়ামসন। জিততে দরকার ৪ বলে মাত্র ২ রান। কিউই অধিনায়ক আপার কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে তুলে দেন ক্যাচ। এতে বদলে যায় ম্যাচ। পরের তিন বল থেকে এলো আর ১ রান, আউট হলেন রস টেইলরও। ম্যাচ হয়ে গেল টাই। এর আগে ম্যাচে বার কয়েক বদলেছে রং। কখনো ম্যাচ হেলেছে নিউজিল্যান্ডের দিকে, কখনো ভারতকে দেখা গেছে এগিয়ে। ১৮০ রানের লক্ষ্যে দারুণ শুরু পায় নিউজিল্যান্ড। ওপেনার গাপটিল ছিলেন তেতে। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান বাড়ান কিউই ওপেনাররা। ২১ বলে ৩১ করা গাপটিলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শার্দুল ঠাকুর। ১৬ বলে ১৪ করে কলিন মুনরো ফিরে যান রবীন্দ্র জাদেজার স্পিনে। ৫২ রানে ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৩-এ নেমে অধিনায়ক উইলিয়ামসন নেন পুরো দায়িত্ব। স্যান্টনারকে ৯, গ্র্যান্ডহোমকে ৫ রানে ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরে ভারত। তবে একপাশে উইকেট গেলেও রানের চাকা পড়তে দেননি উইলিয়ামসন। নিজে সেঞ্চুরি আর দলকে জেতানোর দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষদিকে নেমে কাজটা সহজ করে দিচ্ছিলেন রস টেইলর। কিন্তু শেষ ওভারের নাটকে তালগোল পাকিয়ে যায় সব। ৪৮ বলে ৮ চার, ৬ ছক্কায় ৯৫ রানে প্রথম দফায় শেষ হয় উইলিয়ামসনের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বোচ্চ ইনিংস এটি।

টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে ভারতের শুরুটাও হয়েছিল উড়ন্ত। রোহিত শর্মা আর লোকেশ রাহুল ওভারপ্রতি ১০ করে আনতে থাকেন। রাহুল ১৯ বলে ২৭ করে ফিরলে জুটি ভাঙে নবম ওভারে। ততক্ষণে স্কোর বোর্ডে জমা ৮৯ রান। এক ওভার পর থামেন রোহিত। ততক্ষণে ৪০ বলে করে ফেলেছেন ৬৫। এরপর অধিনায়ক বিরাট কোহলি ২৭ বলে ৩৮, শ্রেয়াস আইয়ার আউট হন ১৬ বলে ১৭ করে। মানিষ পা-ে ৬ বলে ১৪ আর রবীন্দ্র জাদেজা ৫ বলে ১০ করলে ভারত পায় শক্ত পুঁজি। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ‘টাই’ করল ভারত। সেই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বোল আউটে জিতেছিল ভারতীয়রা। কাল সুপার ওভারেও জিতল বিরাট কোহলির দল।

ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘সম্ভবত খেলাটা শেষ করা ওদেরই প্রাপ্য ছিল। আমি তো ভেবেছিলাম আমরা হেরে গেছি। একপর্যায়ে হাতছাড়াই তো হয়েছিল ম্যাচ।’ কিন্তু উইলিয়ামসনকে আউট করে শামি পথে বের করে আনেন। ‘চেষ্টা করতে হবে, স্টাম্পে বল লাগাতে হবেÑ এভাবেই উপায়টা বের করে আনি। না হলে একটা সিঙ্গেলেই ম্যাচ হেরে যেতাম আমরা’Ñ বলেছেন তিনি। প্রশংসা করলেন ৩ ফরম্যাটে ওপেনার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করা রোহিত শর্মার, ‘অসামান্য খেলেছে সে। ম্যাচের প্রথমভাগে এবং শেষ দুটি বলেও (সুপার ওভারের)। জানতাম যে তার যদি একটা শট মারতে পারে তবে বোলাররা চাপে পড়ে যাবে। ও দারুণ ক্লিন স্ট্রাইকার।’

চতুর্থ খেলা কাল ওয়েলিংটনে। শেষটি রবিবার মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে।
 

ভারত       : ১৭৯-৫ (রোহিত ৬৫, বেনেট ৩/৫৪)

নিউজিল্যান্ড                : ১৭৯-৬ (উইলিয়ামসন ৯৫, শার্দুল ২/২১)

ফল           : ম্যাচ টাই

সুপার ওভার               : নিউজিল্যান্ড ১৮, ভারত ২০

ভারত       : ১৭৯-৫ (রোহিত ৬৫, বেনেট ৩/৫৪)

নিউজিল্যান্ড                : ১৭৯-৬ (উইলিয়ামসন ৯৫, শার্দুল ২/২১)

ফল           : ম্যাচ টাই

সুপার ওভার               : নিউজিল্যান্ড ১৮, ভারত ২০

ভারত       : ১৭৯-৫ (রোহিত ৬৫, বেনেট ৩/৫৪)

নিউজিল্যান্ড                : ১৭৯-৬ (উইলিয়ামসন ৯৫, শার্দুল ২/২১)

ফল           : ম্যাচ টাই

সুপার ওভার               : নিউজিল্যান্ড ১৮, ভারত ২০