দলের ‘অযৌক্তিক’ কাজকর্মে চটেছেন পাপন|195981|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
দলের ‘অযৌক্তিক’ কাজকর্মে চটেছেন পাপন
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দলের ‘অযৌক্তিক’ কাজকর্মে চটেছেন পাপন

পাকিস্তানে বাংলাদেশ দলকে খেলতে দেখে সেটা ‘বাংলাদেশের খেলা’ মনে হয়নি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। দলের কিছু সিদ্ধান্ত তার কাছে পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ মনে হয়েছে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ওপর কিছুটা চটেছেন। কয়েকটি বিষয়ে কথা বলেছেন পাকিস্তানে। এখন কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে তার বসার ইচ্ছে।

‘অনেক দিন পর বাংলাদেশের খেলা দেখে মনে হয়েছে এটা বাংলাদেশের খেলা না।’ গতকাল বিকেলে ধানমন্ডিতে নিজের অফিসে সাংবাদিকদের নাজমুল হাসান পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে হারা দুই টি-টোয়েন্টি প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত আমরা যেভাবে খেলি এটা সম্পূর্ণ উল্টা। এ রকম পরিস্থিতি দেখিনি যে বিনা উইকেটে ৯৬ (আসলে ৭১)-এ থেকেও আমরা রান করতে পারছি না। তারপরও ১২-১৪ ওভার পরও আমরা এত ডিফেন্সিভ অ্যাপ্রোচে খেলছি। এটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।’

দু’ম্যাচেই টস জিতে আগে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ৫ উইকেটে ১৪১ রান তুলে পরে ৫ উইকেটে হার। পরেরটিতে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে পরাজয় ৯ উইকেটে। তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।

নাজমুল হাসান বলছিলেন, ‘অনেক কিছু আসলে বুঝতে হবে। বসতে হবে তাদের সঙ্গে।’ মাহমুদউল্লাহ-তামিমদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর বসেছিলেন। প্রশ্ন ছিল, কেন আগে ব্যাটিং? তখন তিনি টেনে আনেন ভারতে গোলাপি বলের টেস্টেও টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার বিষয়টা। দ্বিতীয় ম্যাচের পর বসে সেসব নিয়েও আলাপ করেছেন। কিন্তু নাজমুল হাসানের অবাক লেগেছে আরেক বিষয়েও। ‘দ্বিতীয় ম্যাচে জিজ্ঞেস করলাম টার্গেট কী? ওরা বলল ১৫০।’ নাজমুল হাসান বিস্ময় নিয়ে বলছিলেন, ‘আমি বললাম ১৬০-এর নিচে টি-টোয়েন্টিতে কোনো স্কোরই হয় না। যে কারও কাছে হেরে যাওয়ার কথা। ১৮০ নিদেনপক্ষে ধরা হয়। দুইশো করেও মানুষ জিততে পারে না। আমাদের টার্গেট এত ছোট কেন?’

বাংলাদেশ এর আগে শেষ পাকিস্তান সফর করেছে ২০০৮ সালে। নাজমুল হাসান বললেন, ‘আমরা এত বছর পর পাকিস্তানে এলাম। একটা অপরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং নিলাম কেন! আমরা রান তাড়া ভালোই জানি। একটা টার্গেট থাকে। এখানে তো টার্গেট জানি না।’ এর সঙ্গে ইডেন টেস্টের দিবারাত্রির টেস্টের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে না বোর্ড প্রধানের, ‘ভারতের সঙ্গেও দেখলাম। টেস্টে পিংক বলে ডে-নাইট ম্যাচ কখনো তো খেলিনি। টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে নিলাম। সব নতুন দেখছি।’ প্রধান কোচের কথা আসে তার উচ্চারণে, ‘কোচের সঙ্গে বসতে হবে। খেলোয়াড়দের কেউ বলেনি আমাদের কোচ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এখন কোচকে জিজ্ঞেস করতে হবে কে সিদ্ধান্তগুলো দিচ্ছিল।’

এই কথা বলার আগে নাজমুল হাসান ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও একপ্রস্থ ধুয়ে দিয়ে গিয়েছেন জাতীয় দলকে, ‘তামিম যখন ছিল না ইন্ডিয়ায় আমরা ওপেন করিয়েছি লিটন দাস আর নাঈমকে। আবার সৌম্য আছে যে নাকি ওপেন করত। দ্বিতীয় ম্যাচে নাঈম আউট হয়ে গেলে লিটন বা সৌম্যকে না নামিয়ে হঠাৎ করে মেহেদীকে নামাল। তার খেলার কথা সাতে। আফিফের ছয়ে।’ এসব দেখে নাজমুল হাসানের সিদ্ধান্ত, ‘আমার মনে হয়নি এটা যৌক্তিক।’ অধিনায়ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে সভাপতির ভাষ্য, ‘যেহেতু মুশফিক নেই, রিয়াদ আসতে পারে। কারণ রিয়াদের খুব শখ উপরে খেলার। কিন্তু এই সিরিজে গিয়ে রিয়াদ পারলে দেখি একেবারে শেষে নামে।’ মাহমুদউল্লাহ-সৌম্যরা একেবারে শেষে ২-৩ ওভারের জন্য নেমে কী করবে সে নিয়েও প্রশ্ন তার। ‘রিয়াদ এমনি কথা বলে কম। কিন্তু ও তো অধিনায়ক। কথা তো বলতে হবে’Ñ সাফ ঘোষণা সভাপতির।

কিছু একটা আড়াল রেখেই বিসিবিপ্রধান বলে গেলেন, ‘সব আপনাদের বলা যাবে না। একটা জিনিস স্পষ্ট ১৩০-৪০ করে কারও সঙ্গেই জেতা সম্ভব নয়। এটা আমার মনে হয় খুব সিরিয়াস ইস্যু।’ কোচ ডমিঙ্গো দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা ভাবেন বলে হয়তো এক্সপেরিমেন্ট বেশি করেন। কিন্তু সেটাও স্পষ্ট করে জানতে চান নাজমুল হাসান।

তবে আরেকটা ঝামেলার কথা আনলেন। ‘সাকিব নিউজিল্যান্ড সফরে যায়নি। এরপর তামিম দুই সিরিজ গেল না। এখন দেখলাম মুশফিক।’ বলছিলেন, ‘এ রকম হঠাৎ করে যদি জানি তাহলে আমাদের জন্য সমস্যা। ওরা আমাদের কি প্লেয়ার। ওদের বিকল্প তো আমাদের তৈরি করতে হবে। তৈরি করতে সুযোগ দিতে হবে।’

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি টেস্ট খেলার কথা বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি শেষ করে এসে বিসিবির মনে হচ্ছে সফরে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। নাজমুল হাসান জানিয়ে দিলেন, ‘সিকিউরিটি ওরা যা দিয়েছে এর চেয়ে বেশি কিছু দেওয়ার নেই। হতে পারে না। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা বলেছি। কারও কোনো উদ্বেগ নেই। কাজেই টেস্ট খেলতে না যাওয়ার কোনো কারণ  নেই।’