আজ জমতে পারে মেলা|197633|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
আজ জমতে পারে মেলা
পাভেল রহমান

আজ জমতে পারে মেলা

অধিকাংশ নতুন বই ইতিমধ্যে মেলায় চলে এসেছে। বাড়ছে লোকসমাগম। তবে বই কেনাবেচায় মেলা জমবে আজ শুক্রবার থেকে। এমনটাই জানিয়েছেন বইমেলায় অংশ নেওয়া একাধিক প্রকাশক। বইমেলার প্রথম ছুটির দিন আজ। তাই দিনটিকে ঘিরে প্রকাশকরা প্রস্তুতি নিয়েছেন অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি বই বিক্রির। প্রকাশকরা এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বইপ্রেমী ক্রেতাদের। দিনটিতে লেখক-প্রকাশক এবং বইপ্রেমীদের মিলনমেলা হবে বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের আদিত্য অন্তর। তিনি বলেন, ‘ছুটির দিনে লোকজনের সমাগম বাড়ে। এবারের বইমেলার প্রথম শুক্রবারকে ঘিরে প্রকাশকরা তাদের নতুন বই স্টলে তুলেছেন। বইপ্রেমীরা ছুটে আসবেন আজ।’

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানিয়েছে, আজ শুক্রবার ছুটির দিনে বইমেলা বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিশেষ সময় ‘শিশু প্রহর’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনের অন্যান্য আয়োজন চলমান থাকবে। বইমেলার অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। উদ্বোধন করবেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, সমাগম বেড়েছে বইপ্রেমীদের। প্রকাশকরা 

জানিয়েছেন বিক্রিও বেড়েছে। নতুন বইয়ের পাশাপাশি বিগত বছরে প্রকাশ হওয়া বইও কিনছেন পাঠকেরা। মেলায় বাতিঘরের স্টল থেকে মোহাম্মদ রফিকের কবিতার বই ‘এই স্বপ্ন এই ভোর প্রভাতের আলো’ কিনেছেন ধানম-ির আব্দুল রসূল। তিনি বলেন, ‘এবারের মেলায় বেশ কিছু কবিতার বই কেনার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস তো কিনবই।’

বৃহস্পতিবার মেলার ৫ম দিনে নতুন বই এসেছে ১১৮টি। এদিন ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন জসিম মল্লিক, অনন্ত উজ্জ্বল, হানযালা হান ও মন্দিরা এষ। এ ছাড়া বিকেল ৪টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নূহ-উল-আলম লেনিন রচিত ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’ বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোহীত উল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসাদ মান্নান ও সাহেদ মন্তাজ। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন নূহ-উল-আলম লেনিন। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘নূহ-উল-আলম লেনিনের গ্রন্থটির মূল অনুসন্ধান এ জায়গায় যে কখন থেকে বঙ্গবন্ধুর মানসে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের আবরণে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান থেকে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কাঠামোয় সৃষ্ট অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ধারণা জন্ম নিল।’ লেখক নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘বর্তমান গ্রন্থের পরিসরে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতার জীবনচর্যার দিকগুলোই আলোচিত হয়েছে।’ সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘বাংলার মানুষের ভালোবাসা ও বাংলার মাটির কোমলতাই বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে নির্মাণ করেছিল এবং তাঁর ভেতর অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উন্মেষ ঘটিয়েছিল।’

আলোচনা পর্বের পর কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন ইকবাল আজিজ, ঝর্ণা রহমান, ফারুক মাহমুদ ও মারুফ রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন রেজিনা ওয়ালী, মীর বরকত ও নাজমুল আহসান। সংগীত পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার, কোহিনুর আক্তার গোলাপী, লতিফ শাহ, রুশিয়া খানম ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন দীপক কুমার দাস (তবলা), রতন কুমার রায় (দোতারা), আবদুস সোবহান (বাংলা ঢোল) ও সুমন রেজা খান (কি-বোর্ড)।  

নতুন বই

বইমেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নূহ-উল-আলম লেনিন রচিত ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’, আগামী প্রকাশনী থেকে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা’, বাতিঘর থেকে মহিউদ্দিন আহমদের ‘৩২ নম্বর পাশের বাড়ি’, সেলিম মোজহারের পালানাট ‘মহাস্থান’, কবি প্রকাশনী থেকে অপু মেহেদীর নাট্যগ্রন্থ ‘ঊনপুরুষ’, কথাপ্রকাশ থেকে ড. এম আবদুল আলীমের স্মৃতিকথা ‘ভাষা সংগ্রামী এম এ ওয়াদুদ’, শোভা প্রকাশ থেকে সৈয়দ শামসুল হকের কিশোর কবিতার বই ‘শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা’, একই প্রকাশনা থেকে সন্জীদা খাতুনের প্রবন্ধের বই ‘রবীন্দ্র কবিতার গহনে’, অবসর প্রকাশনা থেকে রকিব হাসানের গোয়েন্দা কাহিনী ‘দানব রবিন’ প্রভৃতি।