বিএনপি ভায়োলেন্স করলে দাঁতভাঙা জবাব: কাদের|197907|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৫৯
বিএনপি ভায়োলেন্স করলে দাঁতভাঙা জবাব: কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি ভায়োলেন্স করলে দাঁতভাঙা জবাব: কাদের

বিএনপি আন্দোলনের নামে ‘ভায়োলেন্স’ করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিতে পারে। রাজনৈতিক আন্দোলন যদি করতে চায় করবে। আন্দোলন যদি রাজনৈতিক কোনো মুভমেন্ট হয়, আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। কিন্তু আন্দোলনের নামে যদি সহিংসতা হয় । যেটা তারা বারবার করে আসছে। আদালতকেও তারা কলুষিত করেছে। সেরকম কোনো আন্দোলন যদি তারা করতে চান, সেটা কিন্তু মোকাবিলা করা হবে। দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’।

শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নবনির্বাচিত মেয়রদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যদি মনে করেন তারা ( বিএনপি) আন্দোলন করে সরকারকে বাধ্য করবে, বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে, সরকারকে বাধ্য করতে পারে না। বাধ্য করতে পারবে আদালতকে, এটা কতটা যুক্তিযুক্ত! আদালতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, আন্দোলন ঘোষণা তারা করছে এটা কোন গণতন্ত্র? ড. কামাল হোসেন সাহেবকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই’।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন তারা (বিএনপি) করুক। তারা কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আদালতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। যাদের বিবেক আছে, তাদের কাছে আপিল করছি। আওয়ামী লীগ সরকার বেগম জিয়াকে কারাবন্দী করেনি। এই সরকার মামলাও দেয়নি। এটা রাজনৈতিক মামলাও নয়। এটা দুর্নীতির মামলা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছে’।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে সরকার যদি বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার করত, তাহলে রাজনৈতিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার প্রশ্ন আসতে পারত। কিন্তু যেহেতু এটা রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কাজেই সরকারের রাজনীতি বিবেচনার কোনো এখানে সুযোগ নেই। তারা এখন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের আন্দোলনের এই হুমকিতে আমরা অভ্যস্ত। এই হুমকি আমরা বারবার শুনে আসছি। বেগম জিয়াকে আন্দোলন করে মুক্ত করবেন এটা আজকেও তারা অনেকে উচ্চারণ করেছে’।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে। কারচুপি বা জালিয়াতি ছিল না। ভোট হয়েছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। ছোটখাটো ভুলত্রুটি বাদ দিলে স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। পর্যবেক্ষকরাও কারচুপির - জালিয়াতির বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিএনপি বিষোদ্‌গার করছে। হেরে যাওয়ায় তাদের বিষোদ্‌গার আরো বেড়ে গেছে। ইভিএম পদ্ধতিতে এই নির্বাচন এত বড় এলাকায় এই প্রথম এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। ছোটখাটো কিছু সমস্যা প্রথমবার হয়েছে অনভিজ্ঞতার কারণে’।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিটি ভোটের সময় এসএসসি পরীক্ষা ছিল। পরিবহন সংকট ছিল। লম্বা ছুটিতে অনেকে গ্রামে চলে গেছে। তা ছাড়া আমাদের দলেরও কাঠামোগত সমস্যা আছে দুর্বলতা ছিল। যে কারণে ভোটারদের আনয়নের ব্যাপারটা এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি’।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।