সুবিধা নিতে স্ত্রীকে, নিজেকে প্রতিবন্ধী প্রত্যয়নপত্র হাসপাতাল সুপারের!|198035|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৩১
সুবিধা নিতে স্ত্রীকে, নিজেকে প্রতিবন্ধী প্রত্যয়নপত্র হাসপাতাল সুপারের!
অনলাইন ডেস্ক

সুবিধা নিতে স্ত্রীকে, নিজেকে প্রতিবন্ধী প্রত্যয়নপত্র হাসপাতাল সুপারের!

প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সুবিধা পেতে নিজেকে এবং স্ত্রীকে প্রতিবন্ধী প্রত্যয়নপত্র দিলেন হাসপাতাল সুপার। অথচ তারা দুজনই সুস্থ, স্বাভাবিক। বিষয়টি ফাঁস হতেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালের সুপার শচীন্দ্রনাথ সরকার এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

আনন্দবাজার জানায়, নিজের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডে অন্যতম আবেদনকারী তিনি নিজেই। নিজেকে ৫৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রীকেও ওই একই মেডিকেল বোর্ড থেকে ৫৮ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন!

স্বাস্থ্য ভবন এক বছর পরে ঘটনা জানতে পেরেছে। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এদিকে প্রত্যয়নপত্র দেখে তদন্ত কমিটি ‘চমকিত’। কারণ, সেখানে সুপার নিজের প্রতিবন্ধকতার কারণ হিসেবে লিখেছেন ‘আইএইচডি তথা ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ’, যে অসুখে প্রতিবন্ধীর সার্টিফিকেট দেওয়া হয় না।

হাসপাতাল প্রধানের নিজের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হলে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (সিএমওএইচ) কাছে আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়েছে কেন এমন প্রশ্নে শচীন্দ্রনাথ বলেন, ‘আমার নিয়ম জানা ছিল না। না জেনে ভুল করে ফেলেছি। অজ্ঞতা থেকেই তো ভুল হয়।’

তার প্রতিবন্ধকতা ঠিক কী রকম- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তার ফলে দুর্বলতা আছে। হাঁটতে-চলতে বুকে টান ধরে।’

এটা তো অসুস্থ, কোন দিক দিয়ে ৫৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী- এমন প্রশ্নের জবাবে শচীন্দ্রনাথ বলেন, ‘আমার হার্টের রোগ আছে। এটাকেই বোর্ডের সদস্যেরা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মেনেছেন। আর আমার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তা-ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ে।’

রাজ্যের কমিশনার (প্রতিবন্ধকতা) দেবব্রত চট্টোপাধ্যায় জানান, ৫০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতার প্রত্যয়নপত্র থাকলে বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হয়। বেকাররা সরকারি ঋণ পেতে পারেন। পুনর্বাসন অনুদান পাওয়া যায় ১০ হাজার রুপির। পেনশন মাসে ১ হাজার টাকা করে। চাকরিতে ৪ শতাংশ কোটা সুবিধা মেলে। সরকারি বাস-ট্রামে টিকিট লাগে না। ট্রেনের টিকিটে ৫০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মেলে।