গয়ার বা সাপগলা পাখি|198682|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৯
গয়ার বা সাপগলা পাখি
রিপন দে, মৌলভীবাজার

গয়ার বা সাপগলা পাখি

ছবি: মো. ইমরুল কায়েস।

পাখি হলেও পানির নিচে একটানা কয়েক মিনিট থাকতে পারে। ক্ষিপ্র গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকারও করতে পারে । এদের প্রিয় খাবার মাছ, সাপ ও ব্যাঙ।

পাখিটির বাংলা নাম গয়ার (Darter বা Oriental Darter),  বৈজ্ঞানিক নাম Anhinga melanogaster। এক সময় প্রচুর পরিমাণে দেখা গেলেও গত ৩০ বছরে এদের সংখ্যা দ্রুত কমতে কমতে এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।  

পানির মধ্যে সাঁতার কাটার সময়ও এদের লম্বা গলা ও মাথা এমনভাবে রাখে, যা দেখতে সাপের মতো লাগে। তাই হয়তো এদেরকে সাপ পাখি বা সাপগলা পাখি নামেও ডাকা হয় ।  

আকারে একটু বড় হওয়ার কারণে গয়ার অবৈধ শিকারিদের নজরে পড়ে বেশি। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি পাখির ওজন প্রায় দেড় কেজি। দৈর্ঘ্য প্রায়  ৯০ সেন্টিমিটার। সাধারণত পানির আশপাশে এরা বাসা বাঁধে গাছের ওপর শুকনো সরু ডালপালা দিয়ে পুরুষ এবং স্ত্রী পাখি মিলে বাসা বানায়। জুন থেকে ডিসেম্বর এদের প্রজনন মৌসুম। স্ত্রী পাখি সাধারণ পাঁচ থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটতে ২৪-২৬ দিনের প্রয়োজন হয় । বাচ্চাদের লোম ১২ দিনের মধ্যে গজিয়ে যায়। উড়তে শেখে ৪৫ দিনে। এদের প্রিয় খাবার মাছ হলেও ব্যাঙ, শামুক, ফড়িং ও জলজ উদ্ভিদের নরম ডগা এমনকি সাপের বাচ্চাও খায়।

বিলুপ্তির কারণে এদের মতো আগের মতো দেখা যায় না। দেশের বড় বড় হাওর, বিল, নদী ও হ্রদে মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে। সচরাচর একা, জোড়ায় বা ছোট দলে থাকে। পানিতে ডুব দিয়ে ছোরার মতো ঠোঁট দিয়ে মাছ শিকার করে। ‘চিগি-চিগি-চিগি’ স্বরে ডাকে। পানিতে পুঁতে রাখা বাঁশে, গাছের শাখায় বা মাটিতে সুন্দর ভঙ্গিমায় ডানা মেলে রোদ পোহায়।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পাখিবিদ ইনাম আল হক জানান, গত ৩০ বছরে এরা দ্রুত কমছে।  এক সময় দেশের সব জলাশয়ে এমনকি পুকুরেও এদের দেখা যেত। আমি নিজেও পুকুরে গয়ার পাখি দেখেছি।  বর্তমানে এদের সংখ্যা এত কমেছে যে বড় বড় হাওর ছাড়া কোথাও দেখা যায় না।  তবে কোনো কমছে তার জন্য বৈজ্ঞানিক ভাবে কোণ গবেষণা হয়নি ।  সাধারণভাবে চোরা শিকারিদের নজর, বাসস্থান ও খাবারের অভাবের কারণে গয়ারের সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে হয়।