স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন|198911|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন

সুস্বাস্থ্য আশীর্বাদ স্বরূপ। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য অর্জন করা সম্ভব। তবে বলা যতটা সহজ, নিয়মিত পালন করা কিন্তু মোটেই ততটা সহজ কাজ নয়। তাই স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা, সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং পরিপূর্ণ সচেতনতার সমন্বয় করা জরুরি। সুস্বাস্থ্যের জন্য মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। যেমন-

 সুস্থ থাকতে হলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া উত্তম। অকারণে মোটেও রাত জাগা উচিত নয়। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে চেষ্টা করুন মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন থেকে দূরে থাকতে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে পারলে নতুন উদ্যমে কাজকর্ম শুরু করার স্পৃহা বাড়বে।

 সঠিক নিয়মে সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। আঙুলের খাঁজে, নখের ভেতরে যেন কোনোক্রমেই ময়লা না জমে থাকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

 সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতের খাবারের পর দিনে কমপক্ষে ২ বার নিয়মিত সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করুন।

 হেঁটে যাওয়া যায় এমন দূরত্বে রিকশা বা গাড়ির পরিবর্তে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অবসরে পার্কে বা ফুটপাতে হাঁটুন। ধীরে ধীরে হাঁটার পরিমাণ বৃদ্ধির চেষ্টা করুন।

 দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে টাটকা ও মৌসুমি শাকসবজি, ফলমূল, পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি রাখুন। সম্ভব হলে পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করুন।

 ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন একগ্লাস পানি এবং সারা দিনে ২/৩ লিটার পানি পানের চেষ্টা করুন। কর্মক্ষম থাকার পাশাপাশি ত্বকের লাবণ্যও বৃদ্ধি পাবে।

 অত্যধিক মশলাযুক্ত খাবার ও অধিক চর্বিযুক্ত লাল মাংসের পরিবর্তে টার্কি বা মুরগির মতো কম চর্বিবিশিষ্ট মাংস খাদ্যাভ্যাসে নির্বাচন করতে পারেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, বাইরের খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার প্রভৃতি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

 ফুসফুস ও লিভার সুস্থ রাখতে ধূমপান ও মদ্যপানসহ অন্যান্য বদভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

 শারীরিক কার্যক্রম যেমনÑ সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালালে মানসিক ক্লান্তি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

 মস্তিষ্কের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে বই। তাই সময় পেলেই বই বা ম্যাগাজিন পড়ার চেষ্টা করুন।

 কাজের চাপ বেশি হলে ছুটি নিন। ছুটি শেষে পূর্ণোদ্যমে কাজে মনোনিবেশ করুন।

 নেতিবাচক চিন্তা না করে সবসময় ইতিবাচক থাকুন। পারিবারিক ও পেশাগত কাজের বাইরে এমন কোনো নতুন শখ তৈরি করুন যা করতে আপনার ভালো লাগে।

 হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। কোনো অবস্থাতেই হাত দিয়ে নাক মুছবেন না। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। অকারণে কান খোঁচানোর অভ্যাস থাকলে তা থেকে বিরত থাকুন।

 অসুস্থ হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

ডা. হিমেল ঘোষ

এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

মেডিকেল অফিসার

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডুমুরিয়া, খুলনা

মোবাইল- ০১৮৫৭৫৫১১২৩