৫ শিশু শিক্ষার্থীকে থুতু খাওয়ালেন শিক্ষক!|198965|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
হোমওয়ার্ক জমা না দেওয়ায় রাগ
৫ শিশু শিক্ষার্থীকে থুতু খাওয়ালেন শিক্ষক!
চাঁদপুর প্রতিনিধি

৫ শিশু শিক্ষার্থীকে থুতু  খাওয়ালেন শিক্ষক!

রুটিন অনুযায়ী বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) জমা না দেওয়ায় পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীকে জোর করে নিজের থুতু খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত রবিবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মোশাররফ তালুকদার এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটান বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভাষ্য। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এমন মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে গত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবকরা।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশারফ তালুকদার চতুর্থ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস নেন। ক্লাসের রুটিন অনুযায়ী হোমওয়ার্ক জমা না দেওয়ায় গত রবিবার ওই ক্লাসের শিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার (রোল ১১), ফাতেমা আক্তার (রোল ৯), মারিয়া আক্তার (রোল ৬), শামীম হোসেন (রোল ২৯) ও জনি হোসেনকে (রোল ৩১) শাসনের একপর্যায়ে তাদের গাল চেপে ধরে মুখে নিজের থুতু ছিটিয়ে খাইয়ে দেন। পরে ওই শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেন। প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে অভিভাবকরা পরদিন বিদ্যালয়ে এলেও ওইদিন বিদ্যালয়ে আসেননি শিক্ষক মোশারফ। এতে ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকরা। তবে সেদিন প্রধান শিক্ষক আ. হান্নান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক মোশারফের পক্ষ হয়ে ক্ষমা চান। পরে গত বুধবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের পক্ষে মো. মহিউদ্দিন নামে এক অভিভাবক চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। নীতিবিরুদ্ধ কাজের জন্য শিক্ষক মোশারফকে এর আগে একবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান এক অভিভাবক।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক মোশারফ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি এমনটা রূপ নেবে তা ভাবতে পারিনি। একটি পক্ষ আমার বিপক্ষে কাজ করছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলাম। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শিক্ষক মোশারফের পক্ষ হয়ে ক্ষমা চেয়েছি।’

শিক্ষক মোশারফের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাবউদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্য একটি ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’