স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার|199431|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৩৮
স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার
বগুড়া প্রতিনিধি

স্ত্রীকে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টার ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

রফিকুল ইসলাম।

বগুড়ায় এক গৃহবধূকে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণের পর মাথার চুল ন্যাড়া করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত ওই গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্যাতিতা গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে শনিবার রাতে শাজাহানপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তার স্বজনরা জানান, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পরিবহন শ্রমিক রফিকুল ইসলাম দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। তিনি গত দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে শহরের চকলোকমান এলাকায় নুরুল ইসলামের বাসা ভাড়া নেন।

নির্যাতিতা গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তার স্বামী বিভিন্ন সময় বাসায় অপরিচিত পুরুষ এনে তাকে দেহ ব্যবসা করতে বলত। এতে তিনি রাজি না হলে তাকে অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয় রফিকুল। বিষয়টি তিনি তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জানিয়েছেন। কিন্তু তার স্বামী নিয়মিতভাবে তাকে দেহ ব্যবসার জন্য চাপ দিতে থাকে।

তিনি বলেন, স্বামীর ভয়ে তিনি শনিবার সকাল থেকে বাসায় তালা দিয়ে বসে ছিলেন। বেলা ১২টার দিকে তার স্বামী দুজন অপরিচিত পুরুষ নিয়ে বাসায় যায়। স্বামীর মনোভাব বুঝে তিনি দরজা খুলে দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর রফিকুল তার স্ত্রীর হাত মুখ-বেঁধে রাখে এবং সঙ্গে আসা দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। এরপর রফিকুল তার স্ত্রীর মাথার ডান পাশের কিছু অংশ ন্যাড়া করে দেয়। পরে একটি বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থ তার শরীরে ঢেলে দিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্বামীর দেওয়া আগুনে তার পেট থেকে নিম্নাংশ পুড়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে।

শজিমেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, ওই নারীর চিকিৎসা তদারকি করা হচ্ছে। ওসিসি থেকে তাকে সব সহায়তাই দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পুলিশকে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে আগুনে পোড়া কাপড় ও কাটা চুল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।