‘ভারতের নাগরিক হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে উইপোকা হয়ে থাকা ভালো’|199433|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৫৪
‘ভারতের নাগরিক হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে উইপোকা হয়ে থাকা ভালো’
অনলাইন ডেস্ক

‘ভারতের নাগরিক হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে উইপোকা হয়ে থাকা ভালো’

ভারতের অর্থনৈতিক দুরবস্থার সমালোচনা করে বাংলাদেশের প্রশংসা করলেন ভারতের বিখ্যাত লেখক ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক করন থাপার। অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্য পঞ্চমুখ এই সাংবাদিক বসবাসের জন্য ভারতের চেয়ে বাংলাদেশকেই অধিক উপযুক্ত মনে করেন।  

শনিবার ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসে এমন মতামত জানান করন থাপার।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, হেনরি কিসিঞ্জারকে আমি দোষারোপ করছি। কারণ ৭০ এর দশকে তিনি বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ ভিক্ষাকারী তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উল্লেখ করেছিলেন। কোনো সন্দেহ নেই, যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমনটাই ছিল। তখন প্রায়ই টেলিভিশন সংবাদে প্রচারিত বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যার ছবি সেই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে।’ 

করন থাপার বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ অবশ্য ভিন্ন এক দেশ। যদিও বাংলাদেশকে নিয়ে গোটা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সময় লেগেছে। তবে আমার মতো ভারতবাসীরও বাংলাদেশ নিয়ে সেই ৭০’এর দশকের মতো পুরোনো ধারণা রাখা উচিত নয়। যেটি গত সপ্তাহে আমাদের উপস্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জি কে রেড্ডি করেছেন।’

ভারতীয় সাংবাদিক বলেন, ‘এই মন্ত্রী বলেছেন, নাগরিকত্ব দিলে নাকি অর্ধেক বাংলাদেশের মানুষ নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসবেন। এমন আপত্তিকর বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক শালীনতা লঙ্ঘন নয়, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। তিনি জানেন না, জীবনমান এবং মানব উন্নয়নের সূচকের সব কয়টিতেই ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিদের নারী ও পুরুষদের গড় আয়ু এখন যথাক্রমে ৭৪ এবং ৭১ বছর। ভারতে যা মাত্র ৭০ এবং ৬৭ বছর। এক মাসের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ভারতে হাজারে ২২ দশমিক ৭৩টি। বাংলাদেশে যা মাত্র ১৭ দশমিক ১২। এক বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার ভারতে হাজারে ২৯ দশমিক ১৪ এবং বাংলাদেশে ২৫ দশমিক ১৪। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুতে ভারতীয় সংখ্যা ৩৮ দশমিক ৬৯ আর বাংলাদেশে ৩০ দশমিক ১৬।’

করন থাপার আরও জানান, ‘লন্ডন বা নিউইয়র্কের হাই স্ট্রিটগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক দেখা যায়। সেই তুলনায় ভারতীয় পোশাক খুব একটা চোখে পড়ে না। আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ডাবল ডিজিট আকারে বেড়েছে। একই সময়ে রপ্তানি বাজারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে ব্যর্থ হয় ভারত।’

এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেছেন, ভারতের অনেক নাগরিক এখন বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন। এ কথার সত্যতা সব ভারতীয়কে অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরও অসংখ্য পরিসংখ্যান দেখানো যাবে, যাতে নারী শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা ইত্যাদি দিকে উন্নতিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অথচ আমাদের মন্ত্রী বলছেন বাংলাদেশিদের নাকি ভারতীয় নাগরিকত্ব দিলে দেশটি খালি হয়ে যাবে। বিজেপি পাণ্ডাদের প্রিয় গরু খেতে কোনো বাংলাদেশি ভারতে আসে না, বরং ভারতীয়রাই সেদেশে যায়। কারণ তারা জানেন, ভারতে বৈধ নাগরিক হয়েও জীবনের কোনো মূল্য নেই। তার চাইতে বরং বাংলাদেশে উইপোকা হয়ে বেঁচে থাকা বরং আকর্ষণীয়।’