স্বামীকে বাঁচাতে শাড়ি পরেই ম্যারাথন জিতে চলেছেন ষাটোর্ধ্ব নারী|199604|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:৪৮
স্বামীকে বাঁচাতে শাড়ি পরেই ম্যারাথন জিতে চলেছেন ষাটোর্ধ্ব নারী
অনলাইন ডেস্ক

স্বামীকে বাঁচাতে শাড়ি পরেই ম্যারাথন জিতে চলেছেন ষাটোর্ধ্ব নারী

স্বামীকে বাঁচাতে অভাবনীয় এক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের এক ষাটোর্ধ্ব নারী। ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় প্রশিক্ষিত সব দৌড়বিদের হারিয়ে দিয়েছেন শাড়ি পরে দৌড়ে।

দ্য ওয়াল জানায়, মহারাষ্ট্রের বারামতি এলাকার ঘটনাটি ২০১৩ সালে হলেও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন লতা ভগবান কারে নামে সেই নারী। এখনো তিনি দৌড়ে চলেছেন নিয়মিত।

শুরুর ম্যারাথনটা কী রকম ছিল। তিন কিলোমিটারের ম্যারাথন ট্র্যাকে দামি পোশাক, স্পোর্টস স্যু-তে দৌড়াচ্ছিলেন প্রতিযোগীরা। আর দর্শকদের নজর কাড়েন লতা। পোশাকে, চেহারায় ম্যারাথনের প্রতিযোগীদের মাঝে বেমানান হলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক প্রৌঢ়া দৌড়ে চলেছেন কোনো এক লক্ষ্য পূরণের আশায়।

পুরোনো শাড়ি হাঁটুর ওপর মালকোঁচা দিয়ে পরা, খালি পা, রোগা শরীরে দৌড়ে চলেছেন লতা। তার গতির কাছে হার মানেন প্রতিযোগীরা। ম্যারাথন জিতে সেই সময়ই খবরের শিরোনাম হন তিনি। তখন তার বয়স ৬১ বছর।

তবে ৬৮ বয়সে এসেও দৌড়ে চলেছেন এই নারী। মহারাষ্ট্রের যে কোনো জায়গায় বয়স্ক নাগরিকদের বিভাগে ম্যারাথনের মধ্যমণি লতা। তাকে দেখতেই ভিড় জমে রাস্তার দু’পাশে। আত্মবিশ্বাসী মুখে আজ শঙ্কার ছিটেফোঁটাও নেই। লজ্জা-সংকোচকে জয় করেছেন। জিততে তাকে হবেই। এই দৌড়ই বাঁচিয়ে রেখেছে তার সংসার। পুরস্কারের টাকাতেই হবে স্বামীর চিকিৎসা। শখ নয়, পেটের টানে, প্রাণের টানে লতার দৌড় তাই যে কোনো প্রশিক্ষিত দৌড়বিদকেও হার মানিয়ে দিতে পারে।

লতা বলেন, ‘শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালে। স্বামীর এমআরআই স্ক্যান করাতে পাঁচ হাজার রুপির দরকার ছিল। প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছিলাম দৌড়লে পয়সা পাওয়া যায়, তবে ভাবিনি জিততে পারব।’

প্রথমবার ম্যারাথনে নাম দিয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন লতা। কারণ নিয়মকানুন কিছু জানা ছিল না। দৌড়বার পোশাকও ছিল না। ফিটফাট প্রতিযোগীদের মাঝে একটু বেশিই বেমানান ছিলেন তিনি। বাকিদের বাঁকা চাহনির মাঝে সিঁটিয়ে গিয়েছিলেন লতা। তবে জানতেন, এই দৌড় শখে নয়, স্বামীকে বাঁচাতেই হবে।

এই নারীর ভাষ্য, ‘এই দৌড় ছিল আমার জীবনের লড়াই। জিতলে প্রাণ বাঁচবে। তাই সাহস ফিরে আসে। সবকিছু পেছনে ফেলে লক্ষ্য স্থির করি। আর তাতেই জয় আসে।’

ছোট্ট একটি ঘরে পাঁচজনের সংসার লতার। তার স্বামী ভগবান কারে, ছেলে সুনীল ও তার স্ত্রী এবং নাতি। ভগবান ও লতা দিনমজুরি করতেন। তবে স্বামী অসুস্থ হওয়ার পরে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে লতার ঘাড়ে। এদিকে ছেলে সুনীলেরও তেমন রোজগার নেই। দিনমজুরি করে দিনে ৮০-১০০ রুপি আয় হয়। এই টাকা পেট ভরাতেই চলে যায়। সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই।

লতা জানান, স্বামীর চিকিৎসায় কম করেও ১৫ হাজার রুপি লাগবে। এই রুপি জোগাড় করতেই রাস্তায় নামতে হয়েছে তাকে। প্রতিবেশীদের কাছে হাত পাতেননি, ভিক্ষাও করেননি। নিজের যোগ্যতায় ম্যারাথন জিতে পুরস্কারের টাকায় স্বামীর চিকিৎসা করাচ্ছেন। সংসারও টানছেন।

লতার ছেলে সুনীল বলেন, ‘মা যেদিন প্রথম ম্যারাথনে নাম দেন, আগের দিন রাতে তার প্রবল জ্বর আসে। আমরা বারণ করেছিলাম। শোনেননি। পরদিন সকালেই সকলকে চমকে দিয়ে দৌড়ে জিতে আসেন।’

প্রতিদিন সকালে উঠে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস ছিলই লতার। তবে কখনো দৌড়েননি তিনি। বয়স বাড়লেও হার মানেননি প্রৌঢ়া। এখনো দৌড়ে চলেছেন তিনি এবং জিতে চলেছেন ম্যারাথন।