শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে আইনের খসড়ার অনুমোদন|199656|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:২৭
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে আইনের খসড়ার অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে আইনের খসড়ার অনুমোদন

ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শিশুদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য এই দুই প্রতিষ্ঠান একীভূত করা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৭ সালে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরিচালনায় এত দিন কোন আইন ছিল না, বরং পূর্বের একটি অধ্যাদেশ অনুযায়ীই এটি চলছিল। হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উক্ত অধ্যাদেশের আলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের জন্যই খসড়াটি অনুমোদন করা হয়েছে।

এই হাসপাতালে দরিদ্র এবং অসচ্ছলদের জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ঢাকা শিশু হাসপাতাল পরিচালিত হলে সর্বস্তরের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে হাসপাতালটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, উক্ত আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউটের সুষ্ঠু পরিচালনা ও প্রশাসন সার্বিকভাবে একটি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এ লক্ষ্যে সরকার একজন চেয়ারম্যানসহ ১২ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মনোনীত সদস্যগণ তিন বছর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। এছাড়া একজন পরিচালক থাকবেন যিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া ও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে জোরালো করার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে এবং ইতিমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে কোন ধরনের ভাইরাস স্ক্রিনিংয়ে সক্ষম এক ধরনের বিশেষ প্রযুক্তি শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশকে প্রদানের প্রস্তাব করেছে কোরিয়া সরকার (দক্ষিণ কোরিয়া)।

তিনি বলেন, এই নতুন প্রযুক্তি দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার জন্য স্থাপিত প্রযুক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে সংযুক্ত হবে। কোরিয়া সরকার লিখিতভাবে এখনো এই প্রস্তাব করেনি। আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পর বিষয়টি বিশদভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

এছাড়াও, বৈঠকে গত ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ‘আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক’ এবং ‘জায়েদ সাটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং ‘রাষ্ট্রদূত সম্মেলন’ আয়োজন সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।