ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী|199799|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:২৮
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী। মেয়ের এ অবস্থায় দিশেহারা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা মা ও রিকশা চালক বাবা।

সোমবার সরেজমিনে শিশুটির বাড়িতে গেলে সে আস্তে আস্তে বলতে থাকে ‘পশুডা আমার জীবনডা শেষ কইরা ফেলছে। আমি এর বিচার চাই,আমি ফাঁসি চাই।’

সে জানায়, ‘গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে সন্ধ্যায় বাড়িতে আমি একাই ছিলাম। আচমকা পাশের বাড়ির ইয়াসিন এসে আমার মুখ চেপে তাদের ঘরে নিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। এরপর এই কথা কাউকে বললে আমাকে ও আমার ছোট ভাইটাকে খুন করে ফেলার ভয় দেখায়। আমিও ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি।’

তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক জানান, গত ২৯ জানুয়ারি সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দ্রুত তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধারণা করে। পরে তাকে ফরিদপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন সে সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বাবা হত দরিদ্র রিকশা চালক। কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আয়-রোজগার তেমন একটা করতে পারেন না। শিশুটির মা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করেন। দুই সন্তানের মধ্যে কন্যাশিশুটি বড়। ছোট ছেলেটিও মানসিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় আ. সামাদ শেখ জানান, অভিযুক্ত ইয়াছিন মন্ডল গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মৃত নবু মন্ডলের ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইয়াসিন বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক।

এদিকে শিশু কন্যাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র অসহায় পরিবারটি। অসুস্থ ওই শিশুর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তাকে সঠিক চিকিৎসা পর্যন্ত দিতে পারছে না।

শিশুটির মা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে লম্পট ইয়াসিন আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছিলাম। সে আমার বেলায় ব্যর্থ হয়ে আমার অবুঝ শিশুটির এত বড় সর্বনাশ করল। এ অবস্থায় আমাদের কি হবে? হয়ত পশুটার বিচার হবে, কিন্তু আমার মেয়েটার কি হবে?

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরসহ অন্যান্যরা সালিস বৈঠকে বসেছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষকসহ সালিসদারদের আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে সালিসদারদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার শিশুটি মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ইয়াছিন মন্ডলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার দরকার। এটা দেওয়া না গেলে ওই শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে।’