মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোসহ একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন|199839|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৩১
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোসহ একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোসহ একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

ছবি: ফোকাস বাংলা

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোসহ নয় প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি এক লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে বলেন, একনেকে অনুমোদিত নয় প্রকল্পের সবগুলোই নতুন প্রকল্প।

তিনি জানান, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রকল্পের খরচ হবে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ভারতীয় ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অধিক সংখ্যক জাহাজ বার্দিংয়ের মাধ্যমে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা সম্ভব হবে এবং নতুন নতুন পণ্য আমদানি রপ্তানির দ্বার উন্মোচন হবে। এর পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটানে ট্রানজিট সুবিধা চালু হলে বন্দর ব্যবহারের ব্যাপক চাহিদাও সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরে অতিরিক্ত ১৫ মিলিয়ন টন কার্গো ও ৪ লাখ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় সব ধরনের সুবিধাসহ ১ নম্বর জেটি এবং ২ নম্বর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হবে। সব ধরনের সুবিধা সম্বলিত কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড ও কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ হবে।

এছাড়া সিকিউরিটি সিস্টেম, রাস্তা, ইয়ার্ড, শেড, নিরাপত্তা প্রাচীর, অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হবে।

এর পাশাপাশি সকল সুবিধাসহ সার্ভিস ভেসেল জেটি, শেড, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, সরঞ্জাম ইয়ার্ড, সরঞ্জাম শেড এবং সকল যন্ত্রপাতিসহ পুল নির্মাণ করা হবে।

জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৪ সাল মেয়াদে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা।

আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪০৭ কোটি টাকা।

শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদী বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এছাড়া রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হবে কোটি ১৩ লাখ টাকা।

রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় হবে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সড়ক ও মহাসড়কের পাশ দিয়ে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।