লাভের খোঁজ পেয়েছে আইসিসি|199928|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
লাভের খোঁজ পেয়েছে আইসিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক

লাভের খোঁজ পেয়েছে আইসিসি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হবে কিনা তা নিয়ে আইসিসির গত চক্রে গোলযোগ বেঁধেছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে আসায় ওয়ানডের জন্য দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ করতে চাইছিল না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে লাভের অঙ্ক দেখে টুর্নামেন্ট ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে, এখন আরো যোগ করতে চাইছে তারা। তাই ওয়ানডের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো একটি টুর্নামেন্ট তো থাকছেই, সঙ্গে টি-টোয়েন্টির আরেকটি বিশ্ব আসর যোগ করে ২০২৩-২০৩১ চক্রের প্রস্তাবনা পেশ করেছে আইসিসি। নতুন টুর্নামেন্টের নাম ‘চ্যাম্পিয়ন্স কাপ’। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে আইসিসি। যে কারণে ২০০৬ পর্যন্ত দুই বছর অন্তর হতে থাকা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন হয়ে যায় তিন বছর পরপর। মানে ২০০৯ হয়েছিল পরবর্তী আসর। এরপর আরও এক বছর বেড়ে চার বছর অন্তর ২০১৩ ও ২০১৭ সালে হলো গত দুই আসর। কিন্তু গত কয়েক ইভেন্টে লাভের অঙ্ক আইসিসিকে বিশ্ব আসর আয়োজনে উদ্বুদ্ধ করে। তাই ওয়ানডের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাদ যাচ্ছে না, শুধু নাম বদলে হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। আর নতুন সংযোজন টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপ তো থাকছেই। ২০২৩ থেকে প্রতি বছর একটি করে ইভেন্ট রাখার পরিকল্পনা করেছে আইসিসি। এই প্রক্রিয়ায় ২০২৪-এ টি-২০ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ করার ইচ্ছা আইসিসির। এই টুর্নামেন্টের পরবর্তী আসর হবে ২০২৮-এ। আবার ওয়ানডের চ্যাম্পিয়ন্স কাপ হবে ২০২৫-এ, আর পরের আসর ২০২৯-এ। এছাড়া ২০২৬-এ টি-২০ বিশ্বকাপ আর এর পরের আসর ২০৩০-এ। আর ২০২৭-এ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হলে পরের আসর হবে ২০৩১-এ। এভাবেই প্রতি বছর একটি করে টুর্নামেন্ট রেখে সামনের আট বছরের চক্রের প্রস্তাব রেখেছে আইসিসি। সেই সঙ্গে ২০২৭ থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও আছে।

গত অক্টোবরে বোর্ড সভায় নতুন আট বছরের চক্রের পরিকল্পনা প্রস্তাব আকারে পেশ করে আইসিসি। তাতে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন্স কাপসহ এত টুর্নামেন্ট আয়োজন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আইসিসিকে অর্থের জোগান দেওয়া মূল বোর্ডগুলো এখন নাখোশ। সবচেয়ে শক্তিশালী ভারত ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) চিন্তা আইসিসির এমন টুর্নামেন্টগুলোর কারণে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন না কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এই বোর্ডগুলোর মূল আয়ের উৎস কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। তাই নিজেদের এই সুবিধায় বাধা পড়ুক তা চাইছে না কোনো বোর্ড। কিন্তু আইসিসি যেভাবেই হোক এই বোর্ডদের রাজি করানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বোর্ডগুলোকে রাজি করানোর জন্য ওয়ানডের চ্যাম্পিয়ন্স কাপকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো ৬ দলে রাখতে চাইছে আইসিসি। এতে ম্যাচ হবে ১৬টি। কিন্তু সবচেয়ে লাভের যেই ফরম্যাট সেই টি-টোয়েন্টিতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তাই টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন্স কাপে পূর্ণ ১০ দলের কমপক্ষে ৪৮ ম্যাচব্যাপী টুর্নামেন্ট করতে চায় আইসিসি। যা একেবারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতোই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আইসিসির প্রস্তাবিত এই টুর্নামেন্টে মাত্র ৭টি ম্যাচ কম। তবে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ সংখ্যার সমান।