পানির দাম বাড়াতে ওয়াসার প্রস্তাব নির্যাতনমূলক|199936|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
টিআইবির বিবৃতি
পানির দাম বাড়াতে ওয়াসার প্রস্তাব নির্যাতনমূলক
নিজস্ব প্রতিবেদক

পানির দাম বাড়াতে ওয়াসার প্রস্তাব  নির্যাতনমূলক

পানির দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে ঢাকা ওয়াসার প্রস্তাব গ্রাহকদের ওপর নির্যাতনমূলক বলে মনে করছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিচালনা ব্যয়, ঘাটতি ও ঋণ পরিশোধের অজুহাতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে পানির দাম বাড়াতে ঢাকা ওয়াসা যে প্রস্তাব করেছে তা অযৌক্তিক, গ্রাহকের ওপর নির্যাতনমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। ওয়াসার সেবার মান ও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গণশুনানি করে ভোক্তা সহনীয় মাত্রায় পানির দাম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকায় পানির সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াসা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়াতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে আবাসিক ব্যবহারের জন্য প্রতি ইউনিট বা ১ হাজার লিটার পানির দাম ১১ দশমিক ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্যে বর্তমান দাম ৩৪ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসা যে প্রস্তাব করেছে সেটি ওয়াসা আইন ১৯৯৬ অনুযায়ী বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়ালে পানির গুণগত মান নিশ্চিতে ব্যর্থতার কারণে হতাশ নগরবাসীর জন্য আরও বেশি নির্যাতন ও বিড়ম্বনার কারণ হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অন্যায্য চাপ আরও বাড়বে। উন্নয়ন ব্যয় বহনের নামে সেবার মান উন্নত ও পানির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত না করে মূল্য বৃদ্ধির এই অন্যায্য প্রস্তাব ঢাকা ওয়াসার একগুঁয়েমি ও স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ। যে পানি ওয়াসার শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেরাই পান করতে নিরাপদ বোধ করেন না, তার মূল্য বৃদ্ধির এই প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে ওয়াসার সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

ঢাকা ওয়াসা নিয়ে ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত টিআইবির গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা ওয়াসার অধীনে জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৪৪.৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না, ৫১.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতার কাছে সরবরাহকৃত পানি অপরিষ্কার এবং ৪১.৪ শতাংশের কাছে সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধযুক্ত। ওয়াসার সেবার মান ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সার্বিকভাবে ৩৭.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতাই অসন্তুষ্ট। তাই সেবাগ্রহীতাদের মতামত না নিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও সিস্টেম লস নিরসনে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা ছাড়াই একতরফাভাবে পানির মূল্যবৃদ্ধির এই প্রস্তাব গ্রাহকের ওপর অন্যায্য বোঝা চাপিয়ে দেবে, যা অগ্রহণযোগ্য।

 টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর নামে অযৌক্তিকভাবে পানির মূল্যবৃদ্ধির আগে ঢাকা ওয়াসার ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গ্রাহক পর্যায়ের মিটার রিডিংসহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অবহেলা ও ধীরগতির কারণে অনুমোদিত মেয়াদ অতিক্রম করলেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, যা জনগণের অর্থের অপচয়। আবার গ্রাহক পর্যায়ে বিল আদায়ে অবহেলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ ওয়াসার চলমান কর্র্তৃত্ববাদী ও জবাবদিহিহীন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারলে ওয়াসার অর্থের জোগান অনেক বাড়বে।