‘মানহীন বই প্রকাশ হচ্ছে’|199947|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
‘মানহীন বই প্রকাশ হচ্ছে’
পাভেল রহমান

‘মানহীন বই প্রকাশ হচ্ছে’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এবার তা স্বীকার করে নিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আগামী বছরের মেলা আয়োজনে মানসম্পন্ন বই প্রকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে চলতি বইমেলা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটি। এ সময় বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক বলেন, ‘মানসম্পন্ন বই প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশকদের ব্যাপার। তবে মেলা পরিচালনা কমিটি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করবে। যারা সৃজনশীল বই প্রকাশ করবে, তাদের উৎসাহিত করা হবে। বিগত বইমেলায় মাঠে ধুলো ওড়া, অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। এবারের বইমেলা নান্দনিক হয়েছে বলে অনেকেই স্বীকার করেছেন। তবে মানহীন বই প্রকাশ হচ্ছে বলে অভিযোগটি স্বীকার করে নিচ্ছি। এ বিষয়টি নিয়ে আগামী বছরের বইমেলায় বিশেষ নজর দেব। ভালো বই নিয়ে গ্রন্থমেলা করাটাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ ও স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক 

মোবারক হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা পিয়াস মজিদ প্রমুখ। এ সময় জানানো হয়, গত সোমবার মেলার ১৬তম দিন পর্যন্ত নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ২৪৭৫টি। বাংলা একাডেমির নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে ১ কোটি ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩১ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এবারের মেলায় স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝরের নকশা অনুযায়ী স্টল বিন্যাস করা হয়েছে। আগামী বছরের মেলাকে আরও নান্দনিক করার প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে নির্ঝর বলেন, ‘এখনো মেলায় কিছু ত্রুটি রয়েছে। আগামীতে সেগুলো অতিক্রম করে নান্দনিক-সৃজনশীল বইমেলার আয়োজন করাটাই আমাদের স্বপ্ন।’

মূল মঞ্চ

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মিনার মনসুর ও দিলওয়ার চৌধুরী সম্পাদিত ‘শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমিনুর রহমান সুলতান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাহিদুল হক, জাফর ওয়াজেদ ও আসলাম সানী। সভাপতিত্ব করেন সম্পদ বড়ুয়া। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদুল হক, বিমল গুহ এবং দুলাল সরকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আঞ্জুমান আরা, ফয়সল আহমেদ এবং মৃন্ময় মিজান। আজ ছিল এ কে আজাদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, শাহনাজ নাসরিন ইলা, অসীম দত্ত, মীর ম-ল, স্বপ্নীল সজীব, পূরবী বিশ্বাস। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন মো. সিরাজুল হক (তবলা), রবিনস চৌধুরী (কি-বোর্ড), অসিত বিশ্বাস (এজ) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।

এ ছাড়া ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শামীম আজাদ, মলয় বালা, আফসানা বেগম ও অরবিন্দ চক্রবর্তী।      

স্থাপনা ধারণা প্রদর্শনী 

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে স্থাপনা ধারণা প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল এবারের গ্রন্থমেলার উল্লেখযোগ্য সংযোজন। প্রতিযোগীদের উপস্থাপনকৃত স্থাপনাকর্ম নিয়ে গ্রন্থমেলায় গতকাল বিকেল ৪টায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্থপতি অধ্যাপক সামসুল ওয়ারেস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

নতুন বই

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৭টি। এর মধ্যে অনন্যা এনেছে দীপু মাহমুদের ‘মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ একজন’, অন্যপ্রকাশ এনেছে নাসরীন জাহানের ‘সূর্যাস্তের শেষ রঙ’, নাগরী এনেছে প্রশান্ত মৃধার গল্পগ্রন্থ ‘শারদোৎসব’, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন এনেছে শহীদুল্লাহ ফরায়জীর ‘ঐশ্বরিক অক্ষর’, সব্যসাচী এনেছে শামীম সাগরের ‘অলকবন্ধন’, নালন্দা এনেছে গোলাম কুদ্দুছের ‘বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি সংস্কৃতি’, পুথিনিলয় এনেছে জাকির তালুকদারের ‘রক্তমাখা চাঁদের আলো’, সাহিত্য প্রকাশ এনেছে মফিদুল হকের সম্পাদনায় ‘চল্লিশের দশকের ঢাকা’, বাতিঘর এনেছে মহিউদ্দিন আহমেদের ‘৩২ নম্বর পাশের বাড়ি’ ও জুয়েল মাজহারের ‘রাত্রি ও বাঘিনী’ প্রভৃতি।

আজ বুধবার বইমেলার আয়োজন

আজ বুধবার বইমেলার ১৮তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জালাল ফিরোজ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ডালেম চন্দ্র বর্মণ, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও সাব্বীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।