হিন্দুদের ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি নেতা|200372|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:৪৪
হিন্দুদের ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি নেতা
অনলাইন ডেস্ক

হিন্দুদের ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি নেতা

ভারতের নয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হলেও সে হিসেবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না- দাবি করে বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় সংখ্যালঘুর সংজ্ঞা নির্ধারণ করার আবেদন জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার জানায়, সুপ্রিম কোর্টে এই আইনজীবী এমন আবেদন করলে তাকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অশ্বিনী জানান, দুই দিনের মধ্যে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন। যে সব রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু বলে তার দাবি, সেখানকার হিন্দুদেরও হাইকোর্টে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট এর আগে জানিয়েছিল, কারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু তা জাতীয় স্তরে আদমশুমারির ভিত্তিতে ঠিক হয়। রাজ্য-ভিত্তিক সংখ্যালঘু নির্ধারণ করা হয় না।

কিন্তু এবার সুপ্রিম কোর্ট নিজে মামলা শুনতে না চেয়ে হাইকোর্টে বল ঠেলে দেওয়ায় রাজনীতিবিদরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, পাঞ্জাব থেকে জম্মু-কাশ্মীর, লক্ষদ্বীপ থেকে নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যের হাইকোর্টে হিন্দুদের জন্য সংখ্যালঘুর মর্যাদা চেয়ে মামলা জমা পড়তে শুরু করলে সেখানে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি শুরু হবে।

এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘এই নয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় আমার বন্ধুরা মামলা করলে আমি গিয়ে তাদের হয়ে লড়ব।’

তবে বিজেপি-বিরোধী শিবিরের নেতাদের মতে, আদালতে যা হওয়ার হবে, কিন্তু মামলা ঘিরে ধর্মীয় মেরুকরণের আশঙ্কা থাকছে।

বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দুদের জন্য সংখ্যালঘুর তকমা চেয়ে এর আগেও উপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ওই সময় জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল- রাজ্য- ভিত্তিক সংখ্যালঘু নির্ধারণ করা যায় কি না।

কমিশন জানিয়েছিল, তাদের এই ক্ষমতা নেই। কারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু আর কারা নয় সেটা কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করে।

প্রধান বিচারপতি শারদ অরবিন্দ বোবডের বেঞ্চ ডিসেম্বরে ওই মামলা খারিজ করে রায় বলে, রাজ্য তৈরি হয়েছে ভাষার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। ফলে সর্বভারতীয় স্তরে জনসংখ্যার ভিত্তিতেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্ধারণ করা সম্ভব।

তবে উপাধ্যায়ের দাবি, সংবিধানে সংখ্যালঘুর সংজ্ঞা ঠিক করা নেই। কোনো আইনেও তা বলা নেই। অথচ ১৯৯২ সালে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন আইন এনে কমিশন তৈরি হয়েছে। তার একটি ধারায় মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, পার্সিদের সংখ্যালঘু বলা হয়েছে।

এর পর কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় তৈরি হয়েছে। অথচ একাধিক রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়েও কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলে দাবি এ বিজেপি নেতার।