আকাশে আয়রনম্যান|200482|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
আকাশে আয়রনম্যান

আকাশে আয়রনম্যান

পিঠে প্রযুক্তির ডানা লাগিয়ে মানুষ উড়ছে আকাশে। এমন দৃশ্যের কথা বললে সবার মাথায় নিশ্চিতভাবেই চলে আসবে রুপালি পর্দার জনপ্রিয় চরিত্র আয়রনম্যানের কথা। এবার পর্দা নয়, সত্যি সত্যি মানুষকে উড়তে দেখা গেল আকাশে। না, মানুষ কোনো প্রাকৃতিক ডানার খোঁজ পায়নি। প্রযুক্তিজ্ঞান দিয়ে সে অসাধ্যসাধন করেছে।

ভিন্স রেফেট নামের এক ব্যক্তি উড়ে বেড়ালেন দুবাইয়ের আকাশে। ১৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনা এটি। ওই দিন জেটম্যান দুবাইয়ের তৈরি করা প্রযুক্তির ডানা পিঠে নিয়ে জেটম্যান পাইলট ভিন্স রেফেট সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই স্কাইডাইভ থেকে উড়াল দেন আকাশে। একেবারে পাখির উড়ানো। উড়োজাহাজের মতো তাকে কিছু পথ ছুটে যেতে হয়নি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকেই উড়তে শুরু করেন তিনি।

প্রায় ছয় হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এর মধ্যে তিনি দিকপরিবর্তন করেন, স্থির হয়ে ভেসে থাকেন, দেখান নানা কসরত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেটম্যান পাইলটদের আকাশে ওড়া নতুন কিছু নয়। এর আগেও অনেকেই উড়েছেন। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারির উড্ডয়নটি ছিল একেবারে আলাদা। কারণ, এবারই প্রথম কোনো জেটম্যান ভূমি থেকে সোজা উড়ে গেলেন আকাশে। আগে যতগুলো পরীক্ষা হয়েছে, তার সবই হয়েছিল হেলিকপ্টার থেকে অনেকটা প্যারাট্রুপারদের মতো করে।

জেটম্যান পাইলট ঘণ্টায় দেড়শ মাইল বেগে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছান। ভিন্স রেফেট ওই দিন আকাশে অবস্থান করেন তিন মিনিটের কিছু বেশি সময়। নিরাপদে ভূমিতে অবতরণের জন্য দেড় হাজার ফুট উচ্চতায় থাকতে তিনি তার প্যারাস্যুটটি খোলেন।

প্রযুক্তির এ ডানা তৈরি করা হয়েছে কার্বন-তন্তু দিয়ে। এর শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে জারটি মিনি জেট ইঞ্জিন। গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে রয়েছে একটি ‘ভেক্টরিং নজল’। চূড়ান্ত উড্ডয়নের আগে তিনি প্রস্তুতি হিসেবে শতাধিকবার উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছেন।