মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল পাপিয়ার!|200893|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল পাপিয়ার!
সরোয়ার আলম, ইমন রহমান ও সুমন বর্মণ

মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল পাপিয়ার!

নরসিংদীর শামিমা নূর পাপিয়া (২৮)। এলাকায় তিনি বেশি পরিচিত পিউ নামে। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়ার স্বামী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনও এলাকায় ‘ডন’ হিসেবেই পরিচিত। জনশ্রুতি আছে, নরসিংদীর এক সাধারণ ঘরের মেয়ে পাপিয়া ২০১৪ সালে জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার অল্প দিনেই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়ে যান। চলাফেরা শুরু করেন সমাজের ‘উচ্চপর্যায়ের’ ব্যক্তিদের সঙ্গে। র‌্যাব  কর্মকর্তরা বলছেন, পাপিয়া দাবি করেছেন, সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ‘যোগাযোগ’ ছিল। তাদের অনেকের সঙ্গে আছে তার নানা ধরনের ছবিও, যেগুলো কৌশলে ব্যবহার করে ‘ফায়দা’ লোটার কথাও স্বীকার করেছেন পাপিয়া।

গত শনিবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সুমন-পাপিয়া দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বিলাসী জীবনযাপনকারী ওই দম্পতি দুই সহযোগীকে নিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টায় ছিলেন বলে অভিযোগ র‌্যাবের। তারা হলেন সুমনের ব্যক্তিগত সহকারী এক তরুণী ও তাদের আরেক সহযোগী সাব্বির খন্দকার। সুমন দম্পতির বিরুদ্ধে গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলের ‘প্রেসিডেন্ট স্যুট’ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালানোর অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল রবিবার তার ফার্মগেটের দুই বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি, বিদেশি মদ ও নগদ টাকা, চেক, বিদেশি মুদ্রা, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

গতকালই পাপিয়াকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অসামাজিক কার্যকলাপ, অবৈধ কর্মকান্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পাপিয়াকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পাপিয়ার রাজধানীর ফার্মগেটে দুটি ফ্ল্যাট থাকলেও তিনি রাত কাটাতেন গুলশানের এক অভিজাত হোটেলে। ওই হোটেলের একটি ভিআইপি স্যুট ছিল তার নামে বরাদ্দ করা। হোটেলে মাসে তার নামে মদের বিল আসত আড়াই লাখ টাকা। বিভিন্ন সেক্টরে নানা তদবির, হুন্ডি, মাদক কারবার ও দেহ ব্যবসাই ছিল তার মূল পেশা। সেখানে সাত সুন্দরী তরুণীকে দিয়ে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এছাড়া সচিবালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরে নিয়মিত তদবিরবাজি করে প্রতিদিনই আয় করতেন অন্তত লাখ টাকা। গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতেও আছে তার একটি ‘বিশেষ বাহিনী’। যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালায়।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়ার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাকেসহ গ্রেপ্তার অন্যদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, পাপিয়া রাজনৈতিক নেত্রী পরিচয় দিয়ে ‘অসামাজিক কাজ’ থেকে শুরু করে সবকিছুই করতেন। বিশেষ করে সমাজসেবার নামে নরসিংদীর অসহায় নারীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ‘অনৈতিক কাজে’ ব্যবহার করতেন। নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এসবের মাধ্যমে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি ‘বিপুল পরিমাণ’ টাকার মালিক হয়েছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ধরনের তদবির বাণিজ্যে জড়িত। নরসিংদীতে তার একটি ‘টর্চার সেল’ আছে। সেখানে বিভিন্ন মানুষকে কৌশলে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো।

যেভাবে ধরা খেলেন : র‌্যাবের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাস দুয়েক আগে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে সুন্দরী এক তরুণীকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন পাপিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তারা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের এক অভিজাত হোটেলে পাপিয়ার ওপর নজরদারি করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাপিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করে। গত শনিবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়া, তার স্বামী সুমন চৌধুরী, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাপিয়ার সঙ্গে সমাজের নামিদামি লোকদের সুসম্পর্ক থাকার তথ্য এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক আছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নামও প্রকাশ করেছেন তিনি। সচিবালয়ে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করতেন নিয়মিত। কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে পাপিয়া দাবি করেছেন। বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফায়দা নিতেন। তিনি পুলিশের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, পুলিশের এসআই ও রেলওয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি স্টেশনের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। দুর্নীতি দমন কমিশন পাপিয়া ও তার স্বামীর সম্পদের হিসাব যাচাই-বাছাই করতে অনুসন্ধান করতে পারে বলেও জানান ওই র‌্যাব কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে আরও জানা গেছে, গত অর্থবছরে পাপিয়া আয়কর বিবরণীতে আয় দেখান ২২ লাখ টাকা। অথচ তার মাসে খরচ ৩০ থেকে ৪০ লাখের ওপরে। রাজধানীর ওই অভিজাত হোটেলে গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘প্রেসিডেন্ট স্যুট’ ভাড়া ছিল পাপিয়ার নামে। ৫৯ দিনে হোটেল ভাড়া দিয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হোটেলটির ১৯ তলার বার ছিল তার দখলে। মাসে তার মদের বিল আসত আড়াই লাখ টাকা। পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন অধিকাংশ সময় থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারতের নয়াদিল্লিতে আসা-যাওয়া করতেন। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট থাকলেও প্রায় সবসময় থাকতেন ওই হোটেলে। হোটেলটিতে থাকতেন সাত তরুণী, যাদের তিনি বেতন দিতেন ৩০ হাজার টাকা করে।

ইন্দিরা রোডের ২ ফ্ল্যাটে অভিযান : গতকাল ভোরে ফার্মেগেটের ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে ‘রওশনস ডমিনো রিলিভো’ নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, অধিকাংশ সময় বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করতেন পাপিয়া। পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে প্রতারণা ও জমির দালালি করে এবং সিএনজি স্টেশনের লাইসেন্স ও গ্যাসলাইন সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। জাল মুদ্রা, অর্থ পাচার ও অবৈধ পিস্তল রাখার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।

নরসিংদীতে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্যের রানী : নরসিংদীতে মিছিল-সমাবেশে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থক নিয়ে হাজির হতেন পাপিয়া। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা চালাতেন। করতেন অস্ত্র ও মাদক কারবারও। এভাবে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন অপরাধ সাম্রাজ্যের রানী, যিনি এলাকায় পিউ নামে বেশ পরিচিত। অভিযোগ আছে, কোনো কাজ বাগিয়ে নিতে সুন্দরী তরুণীদের পাঠিয়ে দিতেন ‘উচ্চপর্যায়ের লোকদের’ কাছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, পাপিয়ার বাবা সাইফুল বারী একজন সাধারণ লোক। তার স্বামী সুমনের বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী গানের শিক্ষক। সুমনের উত্থান শুরু ২০০০ সালে, কৈশোর থেকেই যার প্রধান পেশা ছিল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকা- ও ব্ল্যাকমেইল। একপর্যায়ে সুমন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিল প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন পাপিয়াকে। তাদের ঘরে মাদহাত চৌধুরী ইসাব নামে আট বছরের একটি সন্তান আছে। বিয়ের পরপরই পাপিয়াকে রাজনীতিতে কাজে লাগানো শুরু করেন সুমন। ২০১২ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় ভাড়া বাসার সামনে শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক থাকা অবস্থায় সুমনের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন পাপিয়া। পরে তারা নরসিংদী ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর জেলা যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে তৌহিদা সরকার রুনা সভাপতি ও পাপিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এলাকায় তাদের বিশাল ‘কর্মী বাহিনী’ রয়েছে। শতশত লোকজন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিটি মিছিল, সভায় তারা যোগ দেন। তাদের অনুসারীরা ‘কিউ অ্যান্ড সি’ ট্যাটু ব্যবহার করেন।

সম্পদের পাহাড় : নরসিংদী জেলা শহরে বাগদী মারকাজ মসজিদ এলাকায় একটি পাকা ও আরেকটি সেমিপাকা টিনশেড বাড়ি আছে পাপিয়ার। সেমিপাকা টিনশেড বাড়িটি তিনি এবং তার অনুসারীরা বিরোধীদের শায়েস্তা করার জন্য ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করেন। একই এলাকার বেলদী মোড়ে ১০ ও ৬ শতাংশের দুটি প্লট রয়েছে। তার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণদীতে স্বামীর দোতলা একটি বাড়ি আছে। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ‘রওশনস ডমিনো রিলিভো’ বিলাসবহুল ভবনে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। আছে কালো ও সাদা রঙের দুটি হায়েস মাইক্রোবাস, একটি হ্যারিয়ার, একটি নোয়া ও একটি ভিজেল কার। নরসিংদী শহরে পাঁচটি মোটরসাইকেল আছে তার। এগুলো তার অনুসারীরা ব্যবহার করেন। নরসিংদী শহরে কেএমসি কার ওয়াশ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তার। এ ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালান তিনি।। তার স্বামী সুমন ২০০১ সালে নরসিংদীর কাউন্সিলর মানিক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। সুমনের মালিকানায় থাইল্যান্ডে একটি বার আছে। নরসিংদীতে বিভিন্ন ব্যাংকে পাপিয়ার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ঢাকার এফডিসি গেটের সঙ্গে ‘কার এক্সচেঞ্জ’ নামে তার একটি গাড়ির শোরুম আছে।

তাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসিবুল ইসলাম মিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাপিয়া ও সুমনের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তাদের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ব্যাপারে আমার ধারণা নেই।’ নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তৌহিদা সরকার রুনা বলেন, ‘মহিলা যুবলীগের কমিটিতে ছয় বছর ধরে পাপিয়া ও আমি একসঙ্গে রয়েছি। আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছি। কিন্তু কোনোভাবেই জানতে পারিনি পাপিয়া এত বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারের পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি।’

নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘খারাপ লোকের অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগ বহন করবে না। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অন্যায় কাজ করেছে। যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নরসিংদী মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামানের কাছে পাপিয়া ও সুমনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। ওসি জানান, তাদের ব্যাপারে র‌্যাব তদন্ত করছে। এ বিষয়ে তারাই বিস্তারিত বলতে পারবে।