খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিতে প্রস্তুতি স্বজনদের|200895|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিতে প্রস্তুতি স্বজনদের
রেজাউল করিম লাবলু

খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিতে প্রস্তুতি স্বজনদের

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যত দ্রুত জামিন পাবেন, তত দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন। ইতিমধ্যে তার স্বজনরা বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এখন শুধু জামিনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার এ অপেক্ষার কথা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার এক স্বজন। এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক যে অবস্থা তাতে তার পক্ষে দলের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না। জামিন পেলে তাকে আগে সুস্থ হতে উন্নত চিকিৎসা নিতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুনানি হয়েছে। আদালত জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট চেয়েছে আগামী বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে। একদিকে জামিনের শুনানি চলছে অন্যদিকে জামিনের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে স্বজনরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। সে মোতাবেক পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। লন্ডনে চিকিৎসার যাবতীয় বিষয় দেখাশোনা করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। তার চিকিৎসার সব খরচ পরিবার বহন করবে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার কথা বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে জামিন চাইলেও জামিনের পর খালেদা জিয়া বিদেশে না গিয়ে দলের দায়িত্ব নেবেন কি না তা নিয়ে রাজনীতিতে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন। জেলে যাওয়ার আগে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করে যাননি। তাকে বহিষ্কারও করা হয়নি। চেয়ারপারসন জেলে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্র মোতাবেক জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেও তিনি দলের চেয়ারপারসন থাকবেন। জামিনে মুক্তির পর কী করবেন তা চেয়ারপারসন নিজে এবং তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেবেন।

জামিনের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী হবে কিংবা জামিনের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে না গিয়ে খালেদা জিয়া দলের দায়িত্ব নিতে পারেন কি না এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে জল্পনা-কল্পনা রয়েছে সে বিষয়ে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালতে এখন জামিনের শুনানি চলছে। এছাড়া আদালত বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ রিপোর্ট চেয়েছে। রিপোর্ট পেলে আদালত জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। আদালত চাইলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিতে পারে চেয়ারপারসনকে। দুটি শর্তে তার জামিন হতে পারে। প্রথম শর্ত থাকবে যে, জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হবে। দ্বিতীয়ত জামিন পেলে মুক্ত হয়ে চেয়ারপারসন কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না। মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারবেন না।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন জামিন পেলেও তার শারীরিক যে অবস্থা তাতে তার পক্ষে দলের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না। কারণ তিনি এখন অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী। অন্যের সহায়তা ছাড়া হাঁটতে পারেন না। এমনকি নিজে থেকে খাবার খেতে পারেন না। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি জামিন পেলেও চিকিৎসা না করা পর্যন্ত তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তাই জামিন পেলে অতি দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হবে।