ঢাকা সিটির শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ: সুজন|200963|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৫৩
ঢাকা সিটির শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ: সুজন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা সিটির শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ: সুজন

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল এমন দাবির সমালোচনা করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা ভয়ের সংষ্কৃতির কারণে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পেলে সেই অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুস্কর।

১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণ ও নির্বাচন নিয়ে সোমবার নিজেদের মূল্যায়ণ তুলে ধরে সুজন। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যায়ণ তুলে ধরা হয়।

সুজন জানায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলিয়ে বিজয়ী প্রার্থীদের ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক/স্নাকত্তোর। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ বছর নির্বাচিতদের ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ স্বল্প শিক্ষিত অর্থাৎ এসএসসি বা তার নিচে। ২০১৫ সালে স্বল্প শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচিতদের ৬০ দশমিক ৪০ শতাংশ স্বল্প শিক্ষিত। ২০১৫ সালে স্বল্প শিক্ষিত বিজয়ী প্রার্থী ছিলেন ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এবার দক্ষিণে বিজয়ীদের ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ২১ দশমিক ১০ শতাংশ।

ঢাকা উত্তরে নির্বাচিত ৭৩ জনপ্রতিনিধিদের ৮৬দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬৩ জন ব্যবসায়ী। ২০১৫ সালে ব্যবসায়ী নির্বাচিত হয়েছিলেন ৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণে নির্বাচিত ১০১ জনপ্রতিনিধির ৭৬ জন বা ৭৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ব্যবসায়ী। ২০১৫ সালে দক্ষিণে ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধি ছিলেন ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলনে এসব তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ তা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছারও অভাব রয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কমেছে যা একটি অশনি সংকেত।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন ছিল নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান কারচুপি হয়েছিল। এবার অদৃশ্য কারচুপির অভিযোগ ওঠেছে। যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলোর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে কারচুপির তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল সুজন, এবারও তারা সেই দাবি জানাচ্ছেন।

বদিউল আলম বলেন, ব্যবসায়ী জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেশি সম্পদশালীরা বেশি নির্বাচিত হচ্ছেন। রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ আর ব্যবসায়ের রাজনীতিকীকরণ চলছে।

সুজন তাদের প্রতিবেদনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটার কম হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরে। 

সেগুলো হলো, ভোট সুষ্ঠু হবে না  এমন পূর্বধারণা, ইভিএম নিয়ে সন্দেহ, দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুমকি, ভোটকেন্দ্রের বাইরে সরকার দলীয় কর্মীদের জটলা ও মহড়া, আঙুলের ছাপ না মেলায় অনেক ভোটারের ফিরে যাওয়া, একজনের ভোট অন্য জনে দেওয়া, একসঙ্গে দুদিন ছুটি থাকা ইত্যাদি।