দেশের ৮৮% শিশু নির্যাতনের শিকার|201077|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
বিবিএসের প্রতিবেদন
দেশের ৮৮% শিশু নির্যাতনের শিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৮৮% শিশু নির্যাতনের শিকার

সারা দেশে শিশুদের সঙ্গে পারিবারিক সহিংস আচরণের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশই তাদের লালনকারীদের থেকে সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস ভবনে এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিবিএসের পরিচালক মাসুদ আলম।

বিবিএস ও ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে শিশু নির্যাতন বাড়লেও শিশু অপুষ্টির হার কমেছে। ৩৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে গড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শৈশবকালীন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। ১৫ বছরের নিচে প্রতি ১০ জনের ৯ শিশুই তাদের অভিভাবক বা সেবা প্রদানকারী থেকে কোনো না কোনোভাবে সহিংস আচরণ পাচ্ছে। আর ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমের শিকার।

এতে বলা হয়, গত ছয় বছরে বাল্যবিয়ে কমার হারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হচ্ছে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশজুড়ে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ জুনের মধ্যবর্তী সময়ে ৬১ হাজার ২৪২টি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় বছরে নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী মোবাইল ব্যবহার করেন। ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বাসায় কম্পিউটার রয়েছে। এ ছাড়া ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িতে রয়েছে মোবাইল ফোন।

বর্তমানে নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার হার বাড়ছে। ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী যেকোনো বিবৃতি পড়তে পারেন, ছয় বছর আগে এটি ছিল ৮২ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট উপস্থিতির হার কিছুটা বেড়ে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের জরিপে ছিল ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও এখনো ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। আর শিক্ষা সমাপ্ত না করে প্রতি পাঁচজনে একজন ছেলে শিশু ঝরে পড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী বিবাহিত। ২০-২৪ বছর বয়সী ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারীর ১৫ বছর বয়সের আগেই বিয়ে হয়েছে।

প্রায় সব পরিবারেই খাবার পানির উৎসের উন্নতি হয়েছে, যা গড়ে ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে। সচেতনতা বাড়লেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস কমই রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাড়িতে  টেলিভিশন বাড়লেও নারীদের খবর দেখার আগ্রহ কমছে। এ ক্ষেত্রে ২০১২-১৩ সালে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে পত্রিকা, রেডিও ও ম্যাগাজিনে আগ্রহের হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। এখন তা কমে হয়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বাসাবাড়িতে রেডিও প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িতে রেডিও আছে, ছয় বছর আগে যা ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ছয় বছর আগে শতকরা ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িতে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘এবারের জরিপে শিশুদের বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন মূল্যায়নে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্থাটির অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম, ইউনিসেফের অফিসার ইনচার্জ অ্যালেন বালান্ডি ডমসন, বিবিএসের উপমহাপরিচালক ঘোষ সুব্রত প্রমুখ বক্তব্য দেন।