আগামী ১ এপ্রিল থেকে সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ|201083|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন
আগামী ১ এপ্রিল থেকে সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১ এপ্রিল থেকে সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ব্যাংকঋণে সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকঋণের সুদহার যৌক্তিকীকরণে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেড় বছরেরও বেশি সময়ের চেষ্টার পর সব ধরনের ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে নির্দেশনা জারি করা হলো।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংকমালিকদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এপ্রিল থেকে বাংকঋণের সুদহার ৯ শতাংশে কার্যকর করার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঋণের এই সুদহার এপ্রিল থেকে কার্যকরের কথা জানান তিনি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রজ্ঞাপন জারি করল। এর আগে খেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং খেলাপি ঋণের সুদহারও ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের উচ্চ সুদহার দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পসহ ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহারের কারণে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও সেবা খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠান কখনো কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এতে ব্যাংক খাতের ঋণ শৃঙ্খলা বিঘণ্ণিত হয়, যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা তৈরি করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও কাক্সিক্ষত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ঋণের ওপর উল্লিখিত সুদহার ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে হিহ্নিত হয় সে ক্ষেত্রে যে সময়কালের জন্য খেলাপি হবে, সেই সময়ের খেলাপি ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দ সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংক। তবে অন্য কোনো সুদ বা অতিরিক্ত সুদ আরোপ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের বিদ্যমান সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত।

ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনায় এসএমই ও শিল্প খাত ঋণ পাবে না, এমন শঙ্কা রয়েছে। কারণ এসএমইতে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় অনেক বেশি। আবার শিল্প খাতে দেওয়া ঋণের বড় অংশই খেলাপির আশঙ্কা রয়েছে। তবে সুদহার কার্যকরের পর এসএমই ও শিল্প খাত যাতে ঋণ পায়, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকালের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছর থেকে ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতির মধ্যে এসএমইর উৎপাদন খাতসহ শিল্প খাতে প্রদত্ত সব ঋণস্থিতি পূর্ববর্তী ৩ বছরের গড় হারের চেয়ে কোনোভাবেই কম হতে পারবে না। 

গত ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ক্রেডিট কার্ড ছাড়া নতুন ও পুরনো সব ধরনের ঋণে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর হবে। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা। এটি বাস্তবায়নে সরকারের যে কম সুদের তহবিল আছে, তার অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংক পাবে। সরকারি ব্যাংকগুলো সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে সরকারি আমানত নেবে। ফলে প্রতিযোগিতা ভালো। পরিশোধিত মূলধনের ভিত্তিতে সরকারি আমানত বরাদ্দ পাবে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকমালিকদের চাপে ব্যাংক কোম্পানি আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে সরকার, যাতে একই পরিবার থেকে চারজনের পরিচালক হিসেবে টানা ৯ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়। এরপরই ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত ও সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয় ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। তবে সেটা ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর মধ্যে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা বলে ব্যাংকমালিকেরা গত দেড় বছরে আরও অনেক সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু সুদহার আর কমেনি।