৯৪ বছর বয়সেও কিংমেকার|201209|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
৯৪ বছর বয়সেও কিংমেকার
প্রতিদিন ডেস্ক

৯৪ বছর বয়সেও কিংমেকার

পরাজয় যারই হোক, জয়ী মাহাথির। মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বিগত তিন দিনের গণ্ডগোল এ শিক্ষাকে সামনে এনেছে। ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদ গত সোমবার দল ও সরকারকে বুঝিয়ে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। অনুগতরা মাহাথিরের বর্তমান অবস্থানকে বিশ্বাসঘাতকতা উল্লেখ করে সংসদীয় ব্যবস্থায় বিভক্তির আশঙ্কা করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহাথির রাজনীতির কিংমেকার, সেটি আরেকবার প্রমাণ রাখতে যাচ্ছেন। যে রাজনৈতিক শক্তিকে মাত্র দুই বছর আগে গদিচ্যুত করেন; বর্তমান সংকট তৈরি করে তাদেরই ক্ষমতাসীন করতে যাচ্ছেন মাহাথির।

পদত্যাগ করে সোমবার দেখা করতে গেলে আবারও মাহাথিরকে মালয়েশিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন রাজা সুলতান আবদুল্লাহ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি নতুন সরকার গঠন করবেন। এজন্য সপ্তাহজুড়ে আলোচনা চলবে এবং অদূর ভবিষ্যতে একটি নির্বাচন হতে পারে। সিএনএন বলছে, মালয়েশিয়ায় হঠাৎ কেন এমন রাজনৈতিক সংকট দেখা দিল, তার উত্তরে দশকের বিদ্বেষ, পেছনে কাদা ছোড়াছুড়ি, অসংখ্য গণ্ডগোল এবং মালয়েশিয়ার ধর্মীয় ও জাতিগত বিভক্তির আলোচনা সামনে আসবে।

একটির পর একটি অভ্যন্তরীণ অশান্তির ফলে পাকাতান হারাপানের (পিএইচ) জোট সোমবার ভেঙে যায়। মাহাথিরের নেতৃত্বে শীর্ষস্থানীয় নেতারা ইউনাইটেড মালায়াস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) সঙ্গে নতুন সরকার গঠনে আলোচনা শুরু করেন। ইউএমএনও মালয়েশিয়ার সরকারে থাকা ঐতিহ্যবাহী দল। কিন্তু ওয়ান এমডিবি আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ২০১৮ সালে হারিয়ে পাকাতান হারাপান ক্ষমতায় আসে। ‘প্যাক্ট অব হোপ’ নামে আনোয়ার ইব্রাহিম এ জোট গঠন করেছিলেন, সঙ্গী হন এক সময়ের ইউএমএনও নেতা মাহাথির। বিজয়ের পর আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী করার শর্তেই মাহাথির প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দায়িত্ব না ছেড়ে জোটের ভেতরে আনোয়ারবিরোধীদের নিয়ে মাহাথির নতুন জোট গঠনে তৎপরতা শুরু করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহে ধরে মাহাথির যা দেখালেন, তাতে একবারও মনে হয়নি রাজনৈতিক ইচ্ছেপূরণে তার বর্তমান বয়স কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। বরং এখনো তাকে সবদিকে সক্ষম খেলোয়াড় মনে হয়েছে, সত্যিকারের কিংমেকাররা যেমনটি হয়ে থাকেন। যদিও বর্তমান সংকটের জন্য আনোয়ার ইব্রাহিমের পিপলস জাস্টিস পার্টি (পিকেআর) এবং তার সঙ্গে মাহাথিরের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন কাজ করেছে। মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ভাষ্যকার বিগ্রেট ওয়েলস বলেন, ‘নেতৃত্বের বিভাজন, রাজনৈতিক লড়াই ও সংস্কার পিএইচ জোটকে বিভক্ত করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ করতে আনোয়ার যত চাপ দিয়েছেন, বিকল্প তৈরি করতে মাহাথির তত উৎসাহ পেয়েছেন।’

রাজনীতির নতুন মেরুকরণের ঢেউ পাকাতান হারাপান জোটে নিঃসন্দেহে লাগবে। মাহাথিরের নেতৃত্বে নতুন পক্ষ ক্ষমতাসীন হলে তা হবে স্বাধীনতা-পরবর্তী কোনো জোটের নেতৃত্ব দেওয়া দলের ছিটকে পড়ার প্রথম ঘটনা। মালয়েশিয়ায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৬০ শতাংশ ভূমিপূত্র বা সনস অব দ্য সয়েল গোষ্ঠীর। মাহাথিরের কলকাঠিতে এদের নেতা নাজিব রাজাকের বারিসান নসিয়নাল (বিএন) জোটই আগামীতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। দ্বিতীয় বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী চায়নিজ মালয়েশিয়ান রয়েছে ২১ শতাংশ। আর ৬ শতাংশ ইন্ডিয়ান মালয়েশিয়ান। ফলে জাতিগত সংকট আবার বাড়বে। লেখক জসিলিন তান বলেন, ‘মালয়েশিয়া যেন আরেক রোলার কোস্টার রাইড। আশা করছি, নতুন সরকার এসে দ্রুত নির্বাচন দেবে এবং জনগণকে চ্যাপ্টা হওয়া থেকে রক্ষা করবে।’