চাকরি গেল বেবিচক প্রধান প্রকৌশলী ও বিমানের পরিচালকের |201284|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
দুর্নীতির অভিযোগ
চাকরি গেল বেবিচক প্রধান প্রকৌশলী ও বিমানের পরিচালকের
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাকরি গেল বেবিচক প্রধান প্রকৌশলী ও বিমানের পরিচালকের

দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক মমিনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের পৃথক পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু কুমার গোস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলে তিনি গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে সুধেন্দু কুমার গোস্বামী সিভিল এভিয়েশনের মেইনটেন্যান্স, কনস্ট্রাকশন, কেনাকাটা ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টে সিভিল এভিয়েশন কর্র্তৃপক্ষের কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়ম, দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই সুধেন্দু কুমার গোস্বামীকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে চাকরির ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বেবিচকের প্রস্তাব মোতাবেক তাদের কর্মচারী প্রবিধানমালা ১৯৮৮-এর ৫৩ প্রবিধি, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন)-এর ৪৫ ধারা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮/০২/২০১০ তারিখের এতদসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীর চাকরি ২৫ বছর ঊর্ধ্বে হওয়ায় তাকে জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ ২৫ ফেব্রুয়ারি (গতকাল) থেকে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার এ আদেশে স্বাক্ষর করেন। 

এদিকে একই দিন বিমানের পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক সাপোর্ট পরিদপ্তর) মমিনুল ইসলামকে অবসরে পাঠিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়। এক আদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু বিমানের পরিচালক মমিনুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে জুনিয়র সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন এবং ইতিমধ্যে তার চাকরির মেয়াদকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিমানের স্বার্থে তাকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন। আর বিমান কর্র্তৃক গৃহীত ও অনুসৃত বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন কর্মচারী বিধিমালা ১৯৮৮-এর বিধি ৫ (ক) অনুযায়ী তাকে বিমানের চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হলো। গতকাল বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয় পরিচালক মমিনুল ইসলামকে।

কবে নাগাদ এ দুটো শূন্য পদ পূরণ করা হবে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা বেবিচক চেয়ারম্যান ও বিমানের এমডিকে জিজ্ঞাসা করুন। তাদের প্রস্তাবেই এ দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন তারাই ঠিক করবেন কবে এ দুটো শূন্য পদ পূরণ করা হবে।

এ বিষয়ে বেবিচকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বেবিচকে চলছে বেশ কটি মেগা প্রকল্প। কাজেই এ পদে খুব শিগগির কাউকে দেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ইএম) আবদুল মালেককেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।