সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চতুর্থ দিনে শান্তির আহ্বান মোদির|201332|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:০৪
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চতুর্থ দিনে শান্তির আহ্বান মোদির
অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চতুর্থ দিনে শান্তির আহ্বান মোদির

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চতুর্থ দিনে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

‘শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে দিল্লির ভাইবোনদের প্রতি’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

টানা চতুর্থ দিন চলা সহিংসতার মধ্যে বুধবার দুপুরে এক টুইট বার্তায় এ আহ্বান জানান ‘গুজরাট দাঙ্গায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার’ জন্য অভিযুক্ত এই বিজেপি নেতা।

এনডিটিভি জানায়, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের সহিংসতায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিহত বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দুই শতাধিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এই সময়।

টুইটে তিনি বলেন, ‘দিল্লির বিভিন্ন অংশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।’

অপর এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো শান্তি এবং ঐক্য। সব সময় শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে আমার দিল্লির ভাইবোনদের প্রতি আবেদন করছি আমি।’

এদিকে, প্রায় দেড় দশকের মধ্যে নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিলেন? কী করছিলেন তিনি? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখেও কেন আগে থেকে আধাসেনা ডাকা হলো না?’

দিল্লির সংঘর্ষের জন্য বিজেপিকে দায়ী করে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, ‘এই সংঘর্ষের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। দিল্লির ভোটের সময় দেশবাসী সেটা দেখেছে।’

‘অনেক বিজেপি নেতা উস্কানিমূলক মন্তব্য করে ভয় ও হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি, গত রবিবারও এক বিজেপি নেতা একই রকম মন্তব্য করেছেন’ যোগ করেন তিনি।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।

দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, কারওয়ালনগরে ও চাঁদবাগে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় দাঙ্গাকারীদের ‘শুট অ্যাট সাইট তথা দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবারপুর, গোকুলপুরি, শিব বিহার ও জোহরি এনক্লেভ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। দিল্লির আরও ১০ জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে।