পাকিস্তানে অমুসলিমদের ওপর হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা: ইমরান|201357|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৫৭
পাকিস্তানে অমুসলিমদের ওপর হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা: ইমরান
অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানে অমুসলিমদের ওপর হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা: ইমরান

পাকিস্তানে অমুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সতর্ক করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষিতে এক টুইটার বার্তায় ইমরান বলেন, “আমি সকলকে সতর্ক করে দিতে চাই, পাকিস্তানে অমুসলিম ও তাদের ধর্মস্থানের ওপর কেউ হামলা করতে উদ্যত হলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্বের সমানাধিকারই পান।”

এদিকে দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইমরান বলেন, “গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আমি বলেছিলাম, বোতল থেকে দৈত্যটা বেরিয়ে পড়ল, এবার রক্তপাত আরও বাড়বে। যার সূত্রপাত হয়েছিল কাশ্মীরে। ভারতে থাকা ২০ কোটি মুসলিম এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এটা রুখতে গোটা বিশ্বকে এবার এগিয়ে আসতে হবে।”

ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরের পর নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ইমরান বলেন, তিনি বলেন, “আজকের ভারতে আমরা দেখছি পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে নাৎসি আদর্শের আরএসএস। যেখানে কোনো জাতিবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী আদর্শ একটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণে সেখানের পরিস্থিতি রক্তপাতের দিকেই যায়।”

প্রসঙ্গত, ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে কয়েক দশকের মধ্যে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। টানা চতুর্থ দিনের সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে।।বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।

এদিকে বুধবার ‘শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে দিল্লির ভাইবোনদের প্রতি’ আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এদিন দুপুরে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, “দিল্লির বিভিন্ন অংশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।”

অপর এক টুইটে তিনি বলেন, “আমাদের নীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো শান্তি এবং ঐক্য। সব সময় শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে আমার দিল্লির ভাইবোনদের প্রতি আবেদন করছি আমি।”