বিদায় বলে দিলেন শারাপোভা|201418|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
বিদায় বলে দিলেন শারাপোভা
ক্রীড়া ডেস্ক

বিদায় বলে দিলেন শারাপোভা

ব্লন্ড চুলের রুশ সুন্দরী মারিয়া শারপোভা প্রথম নজর কেড়েছিলেন ২০০৪ সালে। উইম্বলডন ফাইনালে সেদিন তার প্রতিপক্ষ ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। নারী এককে পাওয়ার টেনিসের শেষ কথা। তখনকার শীর্ষ বাছাই। কেউ ভাবেননি মার্কিন তারকাকে হারিয়ে নয়নলোভা রাশিয়ান মেয়েটি জিততে পারবেন। যারা ভাবেননি তাদেরকে ভুল প্রমাণ করে উইম্বলডন জিতেছিলেন শারাপোভা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে। অল ইংল্যান্ড ক্লাব কোর্টে তৃতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডও গড়েছিলেন। সেই থেকে ২০২০ মানে ১৬ বছর। মোট জিতেছেন ৫টা গ্র্যান্ড স্ল্যাম। বুঝতেই পারছেন যতটা জেতার কথা ছিল জেতা হয়নি। আর হবেও না কোনো দিন। কারণ র‌্যাকেটা তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইনজুরির সমস্যায় ভুগতে থাকা শারাপোভা ৩২ বছরেই টেনিস ছেড়ে দিলেন।

ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিন ‘ভোগে’ লেখা নিবন্ধে শারাপোভার ঘোষণা, ‘টেনিস তোমাকে বিদায়।’ ২১ শতকে সবচেয়ে বেশি প্রচারের আলোয় থাকা তারকাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ছিলেন টেনিসের ধনীতম তারকাও। ফোর্বস ম্যাগাজিনে টানা ১১ বার ধনী নারী অ্যাথলেট হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে নাইক এবং ইভেনের মতো কোম্পানির কাছ থেকে আয় করেছেন ৩০ মিলিয়ন ডলার। তবে শারাপোভা মানেই নিরবচ্ছিন্ন উত্থানের গল্প নয়। ২০১৬ সালে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চির তারকা টেনিস সুন্দরী।

শারাপোভার জন্ম ১৯৮৭ সালে রাশিয়ায়। ভাগ্যের অন্বেষণে ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পারি জমিয়েছিলেন আমেরিকায়। চার বছর বয়সেই টেনিসে হাতেখড়ি। পরে টেনিস শিখেছেন ফ্লোরিডার অ্যাকাডেমিতে। এরপর ১৭ বছরে ঘাসের কোর্টে সাফল্য আসার পর আর ফিরে তাকাননি। ডোপিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর আবার কোর্টে ফিরলেও ইনজুরির সঙ্গে পেরে উঠতে পারছিলেন না। তাই ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে আবেগঘন নিবন্ধ লিখে টেনিসকে বিদায় জানালেন। সেই নিবন্ধের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো

কেমন করে এই কোর্ট ছেড়ে যায় বলত? ছয় বছরের ছোট্ট মেয়ে কোর্টে অনুশীলন করতে করতে বড় হয়েছে, টেনিসকে ভালোও বেসেছে। যে টেনিস কখনো তার চোখে জল এনে দিয়েছে আবার নিবিড় আনন্দে নির্বাক করে দিয়েছে। এই খেলাতেই তুমি খুঁজে পেয়েছিলে পরিবার। অনেক ভক্ত-সমর্থক যারা সুখে-দুঃখে উত্থানে-পতনে ২৮ বছর তোমার সঙ্গে ছিল।

আমার কাছে আজ থেকে শুরু হওয়া এই জীবনটা সত্যি নতুন। দয়া করে আমায় ভুলে যেও। টেনিস, আমি তোমায় বিদায় বলছি!

শেষ বলার আগে আমাকে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। টেনিস কোর্ট কবে আমি প্রথম দেখেছিলাম মনে করার চেষ্টা করছি। যতদূর মনে পরে আমার বাবা খেলছিলেন। আমি তখন রাশিয়ার সচিতে থাকি। আমার বয়স তখন মাত্র চার বছর। খুব ছোট্ট তুলতুলে একটা মেয়ে। পাগুলো কাঠির মতো পাতলা। সেটা বেঞ্চে ঝুলিয়ে আমি কোর্টের পাশে বসে ছিলাম। আমার হাতে ছিল একটা র‌্যাকেট। তবে সেটা আমার চেয়ে লম্বায় বড়। আমি তখন প্রমাণ সাইজের র‌্যাকেটের অর্ধেক ছিলাম।

আমার যখন ছ’বছর বয়স, তখন আমি বাবার সঙ্গে ফ্লোরিডা চলে আসি। যখন টেনিস খেলতে শুরু করি তখন নেটের উল্টোদিকে দাঁড়ানো সব মেয়েরাই আমার থেকে বয়সে বড় ছিল। টেনিসই আমাকে পরিচিতি দিয়েছিল। টেনিস, আমি বিদায় বলছি। ২৮ বছর ধরে খেলে পাঁচটি গ্র্যান্ড সøাম জয়ের পর আমি এবার অন্য জগতে নতুন লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।