খালেদার জামিন শুনানি আজ|201461|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০
চিকিৎসা প্রতিবেদন হাইকোর্টে
খালেদার জামিন শুনানি আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদার জামিন শুনানি আজ

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা পড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সকাল ১১টার পর বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের কাছে হন্তান্তরকরে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (আজ) বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে একই বেঞ্চে শুনানি হবে আজ।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক আদেশে আপিল বিভাগ বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও তার জামিন চেয়ে করা দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত তিন তথ্য জানতে চায়। আদালতের আদেশে বলা হয়, মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিলে সেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না এবং শুরু হয়ে থাকলে সবশেষ অবস্থা কী, তা বিএসএমএমইউ উপাচার্যকে কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়াই বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জানাতে হবে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে আদালত।

দুর্নীতির দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারা কর্র্তৃপক্ষের অধীনে গত এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল বিএসএমএমইউর আইন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলগালা করা মেডিকেল বোর্ডের ওই প্রতিবেদন আজ (গতকাল) ১১টার কিছু পরে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’

এদিকে উচ্চ আদালতে আজ বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে জানিয়ে তারা আরও বলেন, তবে চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে শারীরিক অবস্থা দেখতে খালেদা জিয়াকে আদালতে আনার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হবে। খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে সেটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। যদি দেখি প্রতিবেদনে সরকারের কোনো প্রভাব আছে তাহলে আমরা আদালতকে বলব যে তাকে (খালেদা জিয়া) হাজির করে শারীরিক অবস্থা দেখার জন্য।’

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা বাতিল চেয়ে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে করা খালেদার জিয়ার আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে ওই আদেশ বাতিল ও জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সে আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপর দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা ও থেরাপির আর্জি জানিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে ফের হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। এতে বলা হয়, ‘আবেদনকারীর (খালেদা জিয়ার) শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না, খেতে এমনকি ওষুধও নিতে পারছেন না। তাই দ্রুত তাকে যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে নিয়ে আধুনিক, উন্নত চিকিৎসা বা থেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন। আধুনিক উন্নত থেরাপি বা চিকিৎসার স্বার্থে নতুন করে জামিনের এই আবেদনটি করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড বলছে, এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে যে ধরনের নতুন থেরাপি বা চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো সামর্থ্য এই হাসপাতালের নেই। কারণ এ ধরনের চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। যে কারণে তিনি এর অনুমতি দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশা করি উচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়ে এ সুযোগটা দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে জামিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আদালতের বিষয়। অন্যদিকে শুনানির দিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হাজির হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। এটিকে আমরা দ্বিমুখী নীতি বলে মনে করি। আামদের প্রত্যাশা মানবিক কারণে তারা এখন জামিনের বিরোধিতা করবেন না।’

বিএনপি চেয়ারপাসনের আইনজীবীরা বলছেন, কারামুক্তি পেতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পাশাপাশি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেও তাকে জামিন পেতে হবে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এরপর সাজা থেকে খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিল ও সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তারা সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়। এই সাজা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

খালেদ জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘এই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) যদি মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন পান তাহলে অন্য মামলাটিতেও সর্বোচ্চ আদালত থেকে তিনি এমনিতেই জামিন পাবেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচানোর জন্যই তাকে জামিন দেওয়া উচিত।’