দিল্লি সহিংসতা: ৬ বার গোয়েন্দা বার্তা পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ|201538|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৫৮
দিল্লি সহিংসতা: ৬ বার গোয়েন্দা বার্তা পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক

দিল্লি সহিংসতা: ৬ বার গোয়েন্দা বার্তা পাওয়ার পরও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

একের পর এক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও দিল্লির নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার দুই দিনের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে আসেন। আরেকদিন বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে পড়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, রবিবার দিল্লি পুলিশকে ৬টি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল গোয়েন্দারা। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুরে জমায়েতের ডাক দেওয়ার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য বলা হয়েছিল।

সেই জমায়েত থেকে সাম্প্রদায়িক হামলার উসকানি দেয়া হয়। একপর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা থেকে সেদিন সন্ধ্যায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সেটি বড় আকারে ধারণ করে। একাধিক সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও অবহেলার কারণে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এক সূত্র জানায়, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও গোয়েন্দা বিভাগ বারবার রেডিও বার্তায় উত্তর-পূর্ব দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

দুপুর ১.২২ টায় টুইট করে সিএএ সমর্থনে বিকেল ৩টায় মৌজপুর চকে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন কপিল মিশ্র। এই টুইটের পরপরই গোয়েন্দারা প্রথম সতর্কবার্তাটি পাঠিয়ে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন কথা বলা হয় দিল্লি পুলিশকে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হতে পারে ধারণা করে স্থানীয় পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছিল গোয়েন্দা দপ্তর। এরপর পাথর ছোড়ার ঘটনা শুরু হলে ফের সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বলে দাবি এক গোয়েন্দা সূত্রের।

কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত দুই শতাধিক। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।

দিল্লির সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বুধবার রাতে নতুন করে নিহতের খবর না এলেও উত্তর-পূর্ব দিল্লি থমথমে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।