খুলনার এক মেলাঘর|204472|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
খুলনার এক মেলাঘর
সুমন্ত চক্রবর্ত্তী

খুলনার  এক  মেলাঘর

উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিকে একনামে বইপ্রেমী, খুলনার মানুষরা চেনেন। ১২৪ বছরের এই গণগ্রন্থাগারের বিশাল ভুবন ঘুরে লিখেছেন সুমন্ত চক্রবর্ত্তী, ছবি তুলেছেন এইচডি হেলাল  

খুলনার সবচেয়ে বিখ্যাত, সবচেয়ে বেশি বই ও জায়গার একটিই গণগ্রন্থাগার- উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। গ্রন্থাগারটির সদস্যরা খুব ভালো লাইব্রেরিটিকে আরও বাড়াবেন। এখন দানের প্রয়োজন। লাইব্রেরির সামনের খোলা জায়গায় নতুন চারতলা ভবন হবে। ওপরের তলায় বই পড়া ও রাখার সম্প্রসারিত অংশ করবেন। আরেক অংশ থেকে যাবে পুরনো ভবনে। এখন তো জায়গা দিতে পারেন না। অনেকে না পড়ে ফিরে যান। ভবনের তিনতলায় আর্ট গ্যালারি করবেন। খুলনার আর্ট গ্যালারির অভাব মেটাবে। শিল্পীরা প্রদর্শনী করবেন। দ্বিতীয় তলায় কফিশপ, আড্ডার জায়গা ও কবিতা পাঠের কর্নার হবে। কফি খেতে খেতে লোকে কবিতা শুনবেন। নিচতলায় সবার জন্য, উন্মুক্ত মিলনায়তন হবে। নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হবে। এভাবে আরও বাড়বে খুলনার বইয়ের প্রধান ভুবন উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। বইয়ের এই পবিত্র তীর্থ, মহাগ্রন্থাগারটি খুলনার গৌরব। ১২৪ বছর বয়স। এত ভুবন বিখ্যাত যে জেলার ঐতিহ্যময় গ্রন্থাগারের কথা উঠেই একবাক্যে উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি চলে আসে। পড়ন্ত বিকেলে পাঠকে ঠাসা পাঠকক্ষের কোণে কাচঘেরা ছোট্ট কক্ষে বসে বই পড়েন লাইব্রেরিয়ান, গ্রন্থাগারের প্রাণ শ্যামলকুমার দেবনাথ। গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরও এলেন। তারা বললেন, এই গণগ্রন্থাগার খুলনা শহরের প্রায় সমান্তরাল ও পুরনো। ১৮৮২ সালে যশোর জেলার একটি মহকুমা থেকে আলাদা জেলা হলো ‘খুলনা’। দুই বছর পর জেলা সদর, পরে পৌরসভা। ভৈরব, চিত্রা, মধুমতি নদীর এই অববাহিকাটি তারও আগে থেকে আলাদা সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল। নড়াইলের জমিদার ও সামান্তপ্রভুরা তাদের জমিদারি ছড়িয়েছেন খুলনা পর্যন্ত। খুলনায় কারও, কারও কাছারিবাড়ি। নড়াইলের অন্যতম প্রতাপশালী জমিদার রায় বাহাদুর কিরণচন্দ্র রায় তার জমিদারিতে মানুষের উপকার করবেন বলে বেশ কটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বাবা জমিদার উমেশচন্দ্র রায়ের নামে ১৮৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করলেন। তাকে প্রেরণা দিলেন স্থানীয় নানা পেশার বিদ্যোৎসাহী। আনুষ্ঠানিক যাত্রা ১৮৯৭ সালের ১ মে। ছিল খুলনা পৌরসভার ছোট্ট ঘরে। মূল পৃষ্ঠপোষক জমিদার কিরণ চন্দ্র রায় ও তার উত্তরাধিকারীরা। দেশ ভাগের আগ পর্যন্ত তারাই এই গণগ্রন্থাগার চালিয়েছেন। পাঠাগারের জন্মের দুই বছর পর ১৮৯৯ সালে পৌরসভা ভবন (এখন গড়ে উঠেছে নগর ভবন) তৈরি হলো। আরও একটু বড় জায়গা পেল পাঠাগার। নতুনভাবে শুরু করল। ১৯৩১ সালে পৌরভবন সম্প্রসারিত হলো। লাইব্রেরি দুটি কক্ষ পেল। সীমিতভাবে দীর্ঘদিন চলল। পৌরসভা বড় হলো, কাজ বাড়তে লাগল, লাইব্রেরির জায়গাটি হয় না। বইপ্রেমীরা বাঁচিয়ে রাখলেন প্রিয় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। বারবার আসতেন। পাঠাগার পরিচালনার গঠনতন্ত্র, বিধিও ছিল না। পাকিস্তানে লাইব্রেরির কর্তৃত্ব আর নড়াইল এই জমিদারদের কাছে থাকল না। নতুন দেশে খুব ভালোভাবে চলেনি। পৌর ভবনের লাইব্রেরির কক্ষটি বেশ কিছুদিন বন্ধ রইল। বিদ্যানুরাগীরা আবার এগিয়ে এলেন। তাদের সাহায্যে খুলনা মিউনিসিপ্যালিটি গ্রন্থাগার খুলে দিল। সাতচল্লিশের পরপর তাকে বাঁচাতে তারা নির্বাহী কমিটিতে পদাধিকারে সভাপতি খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহসভাপতি মিউনিসিপ্যালিটি চেয়ারম্যানকে করলেন। গোপালচন্দ্র বসু প্রথম সম্পাদক। ১৯৫৩ সালে কাজ ধারায় চলে এলো। অনেক সাংগঠনিক সভা হলো। ১৯৫৩ সালের ২৪ জুলাই গণগ্রন্থাগারের বিশেষ সাধারণ সভায় পরিচালনা নীতিমালায় সংশোধন এলো। নির্বাহী পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত হলো। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সভাপতি, সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সহসভাপতি, জেলা বোর্ড-মিনিউসিপ্যালিটি চেয়ারম্যান, জেলা সদরের এসডিও, জেলা স্কুল শিক্ষা বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, বণিক সমিতির প্রেসিডেন্ট কমিটিতে ভালো পদে এলেন। তারাও গণগ্রন্থাগারের পৃষ্ঠপোষক হলেন। সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মচারী প্রতিনিধি, দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী প্রতিনিধি দুজন করে থাকলেন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী প্রতিনিধি তিনজন। সভায় সিদ্ধান্ত হলো– অনুদান দিলে তারা দুজন সদস্য নির্বাহী কমিটিতেও নেবেন। পাঁচ সদস্য এলে সভা করতে পারবেন। সেই থেকে এই উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি নিয়মে চলছে। ২৮ বছর নিঃস্বার্থে সম্পাদক থেকে যতীন্দ্র মোহন সেন ১৯৫৯ সালের জুন মাসে ইস্তফা দিলেন। তখন তার মাসে সম্মানী ছিল ২৫ টাকা। সহকারী মানিক চন্দ্র ঘোষ ১৯৫৮ সালের মার্চে পদত্যাগ করলেন, সম্মানী ১৫ টাকায়, পিয়ন দেবেন্দ্র দত্ত পেতেন মাসে ১০ টাকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্ধ রাখতে হলো। স্বাধীনতার বেশ পর চালু করা গেল। ধুঁকে ধুঁকে চলতে লাগল। তখন এম এ গফুর সম্পাদক। ১৯৭৯ সালে ছেড়ে দিলেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন এলেন। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীন দেশে খুলনা পৌরসভার প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান। তিনিও নড়াইলের ইটনা গ্রামের সন্তান। তার স্মৃতিতে, ১৯৮৩ সালে সবার চেষ্টায়, খুলনা জেলা প্রশাসন ও খুলনা পৌরসভার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে ব্রিটিশ আমলের রয়্যাল এয়ারফোর্সের পড়ে থাকা জমিতে তৈরি হলো ‘জাহিদ স্মৃতিভবন’। পৌরসভা ও লাইব্রেরি কমিটির সিদ্ধান্তে ১৯৮৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গণগ্রন্থাগার চলে এলো এই স্মৃতি ভবনে। ১ মে পৌর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভবন ও জমি দান করলেন। ৮৭ বছর পর সে পেল স্থায়ী ঠিকানা। খুলনা শহরের কেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড় ধরে সোজা পুবে সামান্য এগিয়ে বামে মোড় নিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক লাগোয়া তিনতলা ‘জাহিদ স্মৃতি ভবন’– পুরোটাই ‘উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি’। এ জায়গাটিই শহর খুলনার হৃদয়। প্রবীণ জননেতা ও বিখ্যাত সংগ্রামী কমিউনিস্ট, ঘাতকের ছুরিতে নির্মম নিহত কমরেড রতন সেনের নামে এই সড়ক। 
জাহিদ স্মৃতি ভবনেও বইপ্রেমীদের যাতায়াত বাড়তে লাগল। অল্পদিনে এই ভবনেও পাঠক বসার আর জায়গা পান না। সমস্যা বাড়ছে। সবাই আরও ভালোভাবে বই ও বইয়ের মানুষদের রাখার চেষ্টা করছেন। ফলে ১৯৯০ সালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, খুলনা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের তুমুল চেষ্টা, দানে গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবন তৈরি হলো। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সহায়তা প্রদান প্রকল্প’ থেকে দুবারে প্রায় সাত লাখ টাকা উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া গেল। ১৯৯৫ সালে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকায় তিনতলা করা হলো। বাকি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে বই কেনা হলো। এই হলো বইয়ের মূল ভাণ্ডার। এই ভবনের দোতলায় গণগ্রন্থাগার। নিচতলা ও তিনতলায় মিলনায়তন করা হলো। সেখানে শহর ও আশপাশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে লাগল। এখন নিচতলা মিলনায়তন, দোতলা গ্রন্থাগার ও পাঠকক্ষ, তিনতলা ডা. মানাফ গবেষণা পাঠকক্ষ। খুলনার এই নামকরা ভাষাসৈনিক, বিখ্যাত ডাক্তার, খুব পড়ুয়া মানুষ। ১৯৯৬ সালের আগস্টে সারা জীবনের সম্পদ, ব্যক্তিগত সংগ্রহের মূল্যবান সাত হাজার গবেষণাগ্রন্থ দান করলেন। গড়ে তোলা হলো তার স্মৃতি পাঠকক্ষ। আরও দিয়েছেন সংগ্রহের প্রায় দুই হাজার চিকিৎসা, বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ের পত্রপত্রিকা। গণগ্রন্থাগার খুব সমৃদ্ধ হলো। তিনতলায় আছে ‘স্বাধীনতা পাঠকক্ষ’। তা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস গবেষণাকেন্দ্র। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর বছর ১৯৯৬ সালে তৈরি। ১৯৯৭ সালে উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির শতবর্ষ হলো। বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের জন্য ডা. মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে শতবর্ষ উদযাপন কমিটি হয়েছিল। তবে টাকার অভাবে লাইব্রেরিতেই সামান্য আয়োজনে উৎসব করেছেন তারা। শ্যামলকুমার দেবনাথ জানালেন, ‌‘‌‘উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি এভাবে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের জায়গায় আসতে বহু কষ্ট করেছে, এখনো করছে। অনিয়মিত হলেও আমরা সাহিত্যপত্র ‘কথকতা’ প্রকাশ করছি। শিশু পাঠকদের জন্য ‘শিশু বিভাগ’ করেছি। ছোটদের বই পড়া প্রতিযোগিতা করি। তথ্য শাখাও করেছি।”
পুরো খুলনা শহর ও আশপাশের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা বই পড়তে আসেন। তাদের জন্য মূল পাঠ্য ও সহায়ক বই রেখেছেন। যেগুলোর খুব দাম বাজারে। নানা শুভার্থীরাও সরবরাহ করেন। এখন মোট ৩৯ হাজার ৫০০ বই আছে। দেশের প্রায় সব কটি পত্রপত্রিকা, সাময়িকী বিখ্যাত পাঠাগারে রাখেন সাহায্যকারীরা। টাকা নেই তাদের। চাঁদা ও মিলনায়তন ভাড়ার আয় একমাত্র উৎস। আজীবন সদস্য আছেন ১৭৭ জন, সাধারণ সদস্য ৩৫০ জন। শিক্ষার্থী সদস্যও আছেন। আজীবন সদস্যরা যখন যা পারেন, সাধারণ সদস্যরা মাসে ২০ টাকা, শিক্ষার্থীরা মাসে ১৫ টাকা করে দেন। তাদের জন্য পাঠ্যবই রাখতে হয়। পড়ার পরিবেশ ও সুযোগ করে দেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের বছরে দেয় ৩০ হাজার টাকা, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বছরে ১৫ হাজার টাকার বই এবং আসবাব কেনা ও মেরামতে ১৫ হাজার টাকা বছরে দেয়। তাতে খরচ ওঠে না। ফলে বিপুল কাজ চালাতে আছেন মোটে তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। নামমাত্র পারিশ্রমিকে। বিখ্যাত এই লাইব্রেরির মায়া ছাড়তে পারেন না, বইয়ের পোকাও। লাইব্রেরিয়ান বললেন, ‘পুরো খুলনা অঞ্চলে মানসম্মত ও পাঠ উপযোগী গ্রন্থাগার নেই বললে চলে। দূর বয়রাতে খুলনার সরকারি গণগ্রন্থাগার আছে।’ রবিবার বন্ধ, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা। অনেক পাঠক। বসার জায়গার খুব অভাব। কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জানালেন, ‘পাঠকদের জন্য আমাদের মোট প্রায় ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা। কুলোয় না। এত কম বই নিয়ে বিখ্যাত গণগ্রন্থাগার পাঠক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ভালো বই বাড়াতে হবে। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক, আইনজীবী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল শিক্ষার্থী আসেন। বই না থাকায় তাদের মানসিক বিকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। অনেকের বাড়িতে বাতিল বহু বই, বুকশেলফ পড়ে থাকে। সেগুলো লাইব্রেরিতে দান করলে আমরা বাঁচি। এ অঞ্চলে সরকারিভাবে নতুন গ্রন্থাগার তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই বলে আমাদের চাপ বেশি। বই ও জায়গা বাড়াতে হবে। আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ দরকার।’ 
বহু বছরের লাইব্রেরিয়ান শ্যামল কুমার দেবনাথের ভালো লাগে, এখনো এই পাবলিক লাইব্রেরিতে বিভিন্ন নানা বয়সের, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা দলে দলে বই পড়তে আসছেন। কোচিংনির্ভর, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের এ যুগে পাঠকের কমতি নেই তাদের। যত পাঠক আসেন, তিনি তত ভালো থাকেন। শিশু-কিশোররা পড়তে এলে ভীষণ ভালো লাগে। খুব খুশি হন। পাঠককে দরকারি বইটি তুলে দিতে না পারলে খারাপ লাগে। নামকরা গণগ্রন্থাগারটি তারা ডিজিটাল করা শুরু করেছেন। পাঠক আরও অনেক বাড়বে– জানালেন। তার লাইব্রেরি ভালো নেই। চালানোর টাকার অভাব, বই, ম্যাগাজিনও কম। কর্মী নেই। লাইব্রেরি অন্তঃপ্রাণ বলে চিরকুমার থাকলেন। তিনি কিন্তু অধ্যাপক। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। এই শ্যামলকুমার দেবনাথই ৩০ বছরের বেশি হলো সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি। তিনি যে টাকা এখান থেকে পান, সামান্য। তাও গণগ্রন্থাগারের কাজেই খরচ করেন। 
আনোয়ার আলী, ৭২ বছরের। প্রায় সাত বছর ধরে এখানে বই পড়তে আসছেন। বললেন, ‘উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে যেসব বই আছে, শহরের অন্য কোনো লাইব্রেরিতেও নেই। আগে তো অনেক বই পড়তাম। বয়স হয়েছে বলে বেশি পড়তে নিই না। ভালো লাগে বিশ্লেষণধর্মী বই।’ 
অনুদানেই চলে এই গণগ্রন্থাগার। আনোয়ারুল কাদির বললেন, আমাদের সভাপতি তো জেলা প্রশাসক। তিনি অনুদান দেন। সদস্যরা সাধ্যমতো চাঁদা দেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুদান পাই। খুলনার অনেকে চাকরির পড়া পড়তে আসেন। তাদের অনেকে দরকারি বই কিনতে পারেন না বলে আমরা বলি তোমরা ওসব বই কিনে নিয়ে এসো। আমরা বইগুলোর দাম দিয়ে দিই। এখানে বসে পড়ালেখা করে তারা বিসিএসসহ নানা চাকরি পান। অনেকে আবার কেনা বইগুলো দান করে যান। এখন তো আমাদের ওয়াইফাই আছে। ইন্টারনেটেও পাঠকরা ফ্রি অনেক বই ডাউনলোড করে পড়তে পারছেন। কম্পিউটারে বই পড়ার সুবিধা থাকলে ভালো হতো।’