চ্যাম্পিয়ন কিশোর দল|204474|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
চ্যাম্পিয়ন কিশোর দল
সাইফুর রহমান মিরণ

চ্যাম্পিয়ন কিশোর দল

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বরিশাল বিভাগ দল।  সেরা গোলদাতাও তারা। অবিশ্বাস্য এই দলটির পেছনের গল্প লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন সাইফুর রহমান মিরণ

২০১৯ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে সাউথ এশিয়ান ফুটবল গেমসে অংশগ্রহণ করেছে রাব্বি। ভারতে হওয়া খেলায় বাংলাদেশ ভুটান, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের  সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তৃতীয় ছিল

 

সে এখন দেশের সেরা ক্যাপ্টেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব ১৭ গোল্ডকাপে বিজয়ী বরিশাল বিভাগ দলের ক্যাপ্টেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। পাড়া থেকে ফুটবল তার শুরু। খুব ভালো খেলে বলে কয়েক বছরেই বরিশাল স্টেডিয়ামে জায়গা করে নিয়েছে সে। এরপর পেছনে তাকাতে হয়নি। ২০১৫ সালে প্রথম ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ ঘটেছে দারুণ মেধাবীর। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সেইলর কাপে বরিশালের হয়ে খেলেছে। ২০১৬-২০১৭ সালে পাইনিয়ার ফুটবল লিগে খেলেছে। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে বরিশাল বিভাগের হয়ে ঢাকায় খেলেছে অল্প বয়সেই। একই বছর তৃতীয় বিভাগ লিগে বঙ্গবন্ধু স্টেয়িামে খেলেছে। ২০১৯ সালে শেখ জামালের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছে। ম্যাচে ক্যাপ্টেন ছিল রাশেদ। বরিশালে ফিরে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে তার খেলা শুরু। বরিশাল সিটি করপোরেশনের হয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি জিতেছে। বরিশাল সদর উপজেলা দলের ক্যাপ্টেন হয়েছে। জেতেন সেখানেও। জেলার পর বিভাগেও সেরা রাশেদের দল। বরিশাল বিভাগের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয়ভাবে সেরা দলের স্বীকৃতি এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পেয়েছে। সেরা ক্যাপ্টেন সে। ফাইনালে ২টি গোল করে দ্বিতীয় সেরা গোলদাতা! 
রাশেদ বরিশাল শহরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন বয়েজ স্কুলে পড়ে। ছোট থেকে ফুটবলে ঝুঁকে পড়েছে। পড়া বাদ দিয়ে খেলায় তার তুমুল আগ্রহ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না বাবা মফিজুদ্দিন হাওলাদার। তবে ছেলের কাছে শেষ পর্যন্ত হেরেছেন। খেলায় আগ্রহ দেখে উৎসাহ দিতে শুরু করলেন। সবসময় ছেলেকে উৎসাহ দিচ্ছেন, পাশে থাকছেন মা নার্গিস বেগম।
রাশেদ বলল, ‘সেরা খেলোয়াড়দের এই দলের ক্যাপ্টেন হতে পেরে আমি গর্বিত। দলের সবাই প্রতিটি ম্যাচে নৈপুণ্যে খেলেছে। প্রতিটি সদস্য এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের সাহায্য করেছে। এমন সুন্দর পরিবেশ থাকলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে ভালো খেলে সম্মান অর্জন করতে পারব’।
তার দল বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে থামেনি। সেরা গোলদাতার পুরস্কারও ঝুলিতে নিয়েছে। সেরা গোলতাদা হয়েছে বরিশাল বিভাগ দলের গোলাম রাব্বি। ঢাকার সাভারের বিকেএসপির ছাত্র, বরিশাল শহরের কাউনিয়ার বাসিন্দা রাব্বির শখ ছিল ফুটবলার হবে। তবে তার এনজিও কর্মকর্তা বাবা শহীদুল ইসলাম স্বপনের স্বপ্ন ছিল এই ছেলে ক্রিকেটার হবে। তাই নিজের বদলে বাবার ইচ্ছেয় ক্রিকেট খেলতে শুরু করল রাব্বি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাদের জেলার পাড়ায় ক্রিকেট খেলত। ২০১৪ সালেও বরিশাল স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলেছে। এখানেই ফুটবলার মোস্তাফিজুর রহমান রাব্বির ভেতরে ফুটবলের আগ্রহ তৈরি করে দিলেন। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর তার এই ইচ্ছা পূরণ শুরু হলো। ২০১৪ সালে বরিশালের উদ্বাস্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে অংশ নিয়েছে সে। ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছে, জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছে। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে রাব্বি। পরের বছর বিকেএসপির আয়োজনে আটটি বিভাগের অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টে বরিশালের হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। সে বছর বরিশাল বিভাগ রানার আপ হয়েছে। ২০১৮ সালে যুব গেমসে অংশ নিয়ে বরিশালের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার গৌরব ছিল তার। এবারও রানার আপ বরিশাল। এই বছর বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুনৃামেন্টে তৃতীয় হয়েছে রাব্বির দল। খেলেছে ঢাকার শেখ জামাল, শেখ রাসেল, আবাহনীসহ জাতীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে সাউথ এশিয়ান ফুটবল গেমসে অংশগ্রহণ করেছে রাব্বি। ভারতে হওয়া খেলায় বাংলাদেশ ভুটান, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তৃতীয় ছিল। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাম্পে ডাক পেল সে। এরপর বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলে খেলার শুরু। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয়ভাবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দল তারা। ফাইনালে তিনটি গোল দিয়ে সেরা গোলদাতার পুরস্কার গোলাম রাব্বির। বলল, ‘দলের ম্যানেজার, কোচ, ক্যাপ্টেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো ছিল। তাই ধারাবাহিকভাবে সেরা খেলা খেলতে পেরেছি সবাই। ফল হয়েছে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। ফুটবলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি।’
গত প্রায় এক বছর ধরে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য কাজ করেছেন তারা– বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। খেলোয়াড় বাছাইয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের পরামর্শ ছিল। বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের দলটি গড়ে তুলেছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটিতে ছিলেন–জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হুসাইন আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের ম্যানেজার ও বরিশাল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিমন, সাবেক ফুটবলার ও বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের কোচ মনিরুল ইসলাম, বরিশাল জেলার সাবেক ফুটবলার জোতিন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম। বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহযোগিতা ছিল। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)’র সদস্য আলমগীর খান আলো ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু খেলোয়াড় ও কোচের সহযোগী হয়ে সবসময় পাশে ছিলেন। তাদের হাত ধরে সেরা খেলোয়াড়দের বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল টুর্নামেন্টের ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে। পরে উপজেলায় বিজয়ী ও বিজিত, জেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের সেরা খেলোয়াড়দের বাছাই করা হয়েছে। ক্যাম্পে রেখে এই সেরা খেলোয়াড়দের অনুশীলন করানো হয়েছে। সেখান থেকে মোট ৮০ জন কিশোর-তরুণ খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়েছে। তাদের থেকে সেরা ৬০ জনকে নিয়ে ১৫ দিনের ক্যাম্প হয়েছে। সেরা ২০ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত বরিশাল বিভাগ দল হয়েছে। প্রথম ১৮জন খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন। বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। তাদের ১৪ জনই ক্রীড়া নৈপুণ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়ের সম্মান অর্জন করেছেন। এই পুরো কাজে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান পূর্ণ সাহায্য করেছেন। 
এই চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ সাবেক ফুটবলার মনিরুল ইসলাম। নিবেদিতপ্রাণ ফুটবলার ছিলেন। ১৯৮০ সাল থেকে ফুটবলের সঙ্গে আছেন জড়িয়ে। ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪ সালে এরশাদ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ১৯৮৪ সালে জাতীয় ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে বিকেএসপির ছাত্র হয়েছেন। পরের বছর বিকেএসপির হয়ে অল ইণ্ডিয়া গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ১৯৮৮ সালে ভারতের ইস্টবেঙ্গল ক্লাব মাঠ, মোহামডোন ক্লাব মাঠ, যাদবপুর স্টেডিয়াম ও দমদম স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। ১৯৯০ সালে ঢাকার প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে নিয়মিত খেলেছেন। ১৯৯১ সালে ভারতে আসাম গোল্ডকাপে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাদের দল। ১৯৯৪ সালে হাঁটুর ইনজুরিতে তার খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে খোলোয়াড় গড়ার কাজে মন দিলেন। ২০১৯ সালে কোচ হিসেবে এএফসি (সি)’র লাইসেন্স পেয়েছেন। এই বিরাট টুর্নামেন্টের বিভাগ দল গড়তে তাকে বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থা দায়িত্ব দিয়েছিল। তিনি বরিশালে ফুটবল দল গঠনের  ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়–প্রতিটি পর্বে খেলা দেখে দেখে সেরা খেলোয়াড়দের তুলে এনেছেন। এক করেছেন। তারপর কয়েক দফা ক্যাম্প করে অনুশীলন করিয়েছেন। ২০ জনের চূড়ান্ত দল করেছেন অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য। বললেন, ‘৫শ খেলোয়াড় থেকে  ৮০ জনকে বাছাই করেছিলাম। তাদের নিয়ে ১৫ দিনের ক্যাম্প করা হয়েছিল। সেরা ২০ জনকে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ দল গড়েছি। ১৮ জন ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের ১৪ জনের দল ফাইনাল খেলায় অংশ নেয়। সেরা খেলোয়াড়রা সেরা খেলাগুলো উপহার দেওয়ায় বরিশাল বিভাগ চ্যাম্পিয়ন। এই টিম গঠনে কোনো চাপ ছিল না আমার। সবাই সহযোগিতা করেছেন। আমার দলের বেশিরভাগই বিকেএসপির খেলোয়াড়। তারাই আসলে জাতীয়ভাবে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই দলটিকে একত্র করে মাঝেমাঝে অনুশীলন করানো দরকার। তাহলে ওরা আগামীতে আরও ভালো খেলা উপহার দিতে পারবে, বোঝাপড়া থাকবে।’
তাদের দলের ম্যানেজার ও বরিশাল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিমন। বলেন, ‘আমাদের বরিশাল বিভাগ দল গঠনের কোনো রাজনৈতিক চিন্তা ছিল না। বিভাগের সব জেলার সেরা ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়েই এই টিম গড়া হয়েছে। যারা বাছাই প্রক্রিয়ায় ছিলেন কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়ে কোনো খেলোয়াড় বাছাই করেননি। সেরা বাছাই করতে পেরেছি। সেরা খেলোয়াড়রা সেরা লড়েছে। তাই বরিশাল দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জয়ী দলটি ধরে রাখতে এই চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রাখা দরকার। তাহলে আগামীতে উজ্জ্বল আরও সম্ভাবনা তারা জাগাতে পারবে।’
বরিশাল জাতীয়ভাবে সেরা হওয়ার মূল কারণ? নির্বাচক, ম্যানেজার ও কোচ বললেন, কেবল বরিশাল জেলাকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা। টিম করা, কোচের আন্তরিকতা ও সময় দিয়ে অনুশীলন, খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা, মাঠে সেরাটা দেওয়ার কারণেই চ্যাম্পিয়ন তারা। কোচ বললেন, খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলা চালিয়ে যেতে বলেছিলাম। বিপক্ষের খেলোয়াড়রা যাতে আমাদের ছক বুঝতে না পারে সেই দিকে তীক্ষ্ন নজর রেখেছি। মাঠের অবস্থা বুঝে ছক বদলেছি। কখনো চার+চার, কখনো চার+দুই+চার; চার+তিন+তিন ও তিন+পাঁচ+দুই ছকে খেলিয়েছি। আমার তাৎক্ষণিক পরিকল্পনায়ও বিপক্ষ দল আক্রমণ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।’