যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক উদ্ধার প্যাকেজ|206703|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক উদ্ধার প্যাকেজ
প্রতিদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক উদ্ধার প্যাকেজ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কবলিত নাগরিকদের জন্য দুই ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদনে চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশটির সিনেট ও হোয়াইট হাউজ। সিনেটের রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল সাংবাদিকদের এ চুক্তি হওয়ার কথা ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে এএফপি। টানা পাঁচ দিনের চেষ্টা ও মধ্যস্থতার ফলে সব পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হয়।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বৃহত্তম উদ্ধার প্যাকেজ নিয়ে আমাদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। এ সময় উদযাপনের নয়, প্রয়োজনের। অনেক মানুষ কাজের মধ্যে আছেন। তাদের ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে তা তারা জানেন না। কীভাবে তারা তাদের দেনা মেটাবে তা নিশ্চিত নয়।’

শুমার আরও বলেন, ‘যদিও এখনো বিলের বিস্তারিত সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে এতটুকু বলছি; বিলে বেকারত্বের হার কমানো, বেকারদের জন্য সহায়তা, ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায় সহায়তা, হাসপাতাল ও স্বাস্থকর্মীদের জন্য ১৩০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রাখা হয়েছে। যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বেতন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। এতে করে তারা বিল পরিশোধ করতে পারবেন।’

মূলত করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় পুনরুদ্ধার প্যাকেজ গঠনের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। এ সময় প্যাকেজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের দ্বিধাবিভক্তি চলছিল। কয়েক দিন ধরে প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো পক্ষই সুরাহায় পৌঁছতে পারেনি। গত মঙ্গলবার রাতভর এ নিয়ে আলোচনা চলে সিনেট অধিবেশনে। অবশেষে অধিবেশন থেকে চুক্তিতে সম্মত হন আইনপ্রণেতারা।

সিনেটর ম্যাককনেল ও শুমার প্যাকেজটি নিয়ে ট্রেজারি মন্ত্রী স্টিভেন মুচিন ও হোয়াইট হাউজের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেন। মুচিনরা ক্যাপিটল অফিসের সিদ্ধান্তের বাইরে বের হতে পারছিলেন না। তবে রিপাবলিকানদের অধিকাংশ প্রস্তাবই হালে পানি পায়নি। একের পর এক প্রস্তাব নাকচ হতে থাকলে চাপে পড়ে রিপাবলিকান শিবির। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিলম্বে একটি নীতির আলোকে বিষয়টির সুরাহার প্রতি জোর দেন। তিনি টুইটারে বলেন, ‘কংগ্রেসের এ বিলে অনুমোদন দেওয়া উচিত কোনো বোকামি না করেই। যত দেরিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তত দেরিতে আমাদের অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পারে। আমাদের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জাস্টিন আমাস অবশ্য এ চুক্তির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বাদানুবাদের কারণে তিনি দল ছেড়েছিলেন। তার মতে, এ চুক্তির ফলে করোনাভাইরাসে সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্তরা খুব অল্পই লাভবান হবে। বিপুল পরিমাণ এ অর্থের অধিকাংশই ব্যয় হবে করপোরেটদের কল্যাণে।

ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই মূলক প্যাকেজ পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন। তারা বলেছিল, করোনায় আক্রান্ত ৫৫ হাজার রোগী ও তাদের সামলাতে যে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তাররা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের চেয়ে করপোরেটরা বেশি লাভবান হবে। এ নিয়ে কয়েকজন সিনেটর উষ্মাও প্রকাশ করেন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একপর্যায়ে ক্রোধ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষ যখন মরছে তখন তারা (ডেমোক্র্যাটরা) হয়রানির চেষ্টা করছেন। বিলটি পাস করুন। মধ্যস্থতা বন্ধ করুন। অনেক হয়েছে আলোচনা।’ লিন্ডসের এমন বক্তব্যের পরেই মূলত মধ্যস্থতা বন্ধ করে উভয়পক্ষ নমনীয় অবস্থানে যায়।