কামারখন্দে ভূমিহীনদের ১২ পুকুরে ধান ও মাছ চাষ বন্ধ|206725|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
কামারখন্দে ভূমিহীনদের ১২ পুকুরে ধান ও মাছ চাষ বন্ধ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

কামারখন্দে ভূমিহীনদের ১২ পুকুরে ধান ও মাছ চাষ বন্ধ

চাঁদা না দেওয়ায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এবং কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা কোনাবাড়ী গ্রামের ভূমিহীনদের প্রায় ১২০ বিঘার ১২টি পুকুরে ধান চাষ করতে দিচ্ছে না। এ ছাড়া একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূমিহীনরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ ও চাঁদা না দেওয়ায় ধান চাষ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনে ওই ইউপি সদস্যসহ তার সাত সহযোগীর নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট চারটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ভূমিহীন সুরুজ্জামান, জাকির হোসেন ও ইসমাইল হোসেন বলেন, নলকা থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের পানি নিষ্কাশন খালের প্রায় ১২০ বিঘার ১২টি পুকুর গ্রামীণ ব্যাংক লিজ নিয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২১ বছর ধরে ১২০ ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেয়। এসব ভূমিহীন পরিবার এসব পুকুর ও জমিতে বর্ষা মৌসুমে মাছ ও শুষ্ক মৌসুমে ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২১ নম্বর পুকুরে ঝাঐল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. হামিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বিষ ও গ্যাসের ট্যাবলেট প্রয়োগ করেও এ পুকুরের দেড় লখ টাকার মাছ মেরে ফেলে। এরপর এই পুকুর ও জমিতে ধান চাষ করতে তারা দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের এ টাকা না দিলে তাকে মাছ ও ধান চাষে বাধা দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। ফলে ভূমিহীনদের এ বছর সেখানে ধান চাষ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভূমিহীন আবদুল মজিদ, আলম মণ্ডল ও বেল্লাল হোসেন জানান, এই পুকুরগুলো থেকে মাছ ও ধান চাষ করে আমরা যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই। ঝাঐল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হামিদুল ও তার সহযোগীরা জোর করে আমাদের এই পুকুরগুলো দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাতের আঁধারে তারা বিষ ও গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে ফেলছে। এখন আবার চাঁদা দাবি করছে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ধান চাষ করতে দিচ্ছে না। ধান চাষ যদি না করতে পারি, তবে আমরা কী খেয়ে বঁাঁচব।

এ বিষয়ে ঝাঐল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হামিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষের সঙ্গে আছি। গ্রামের শান্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষকেই বলেছি তোমরা যারা আগে ধান চাষ করেছো তারাই করবে। তবে সেটা সবাই আপস-মীমাংসার মাধ্যমে।’

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে এসি ল্যান্ডকে দায়িত্ব দিয়েছি। আশা করি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শহিদুল্লাহ সবুজ বলেন, ভূমিহীনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে তারা পুকুরগুলোতে মাছ ও ধান চাষ করছেন। ইউপি সদস্য কেন সেগুলো দখল করার চেষ্টা করছেন, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।