মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকে টপকে গেল স্পেনও|206770|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকে টপকে গেল স্পেনও
কভিড-১৯ : মৃত্যু ২০৫২৪ আক্রান্ত ৪ লাখ ৫৩ হাজার আরোগ্য ১ লাখ ১৩ হাজার

মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকে টপকে গেল স্পেনও

বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ^জুড়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ২০ হাজার ৫২৪ জন। এ সময় পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১২১ জন।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত স্পেনে মৃত্যু বাড়ছেই। দেশটিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই মিছিলে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে স্পেন। আর ইউরোপে ইতালির পরই স্পেনে মৃতের সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি।

স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে বুধবার সকাল নাগাদ সব মিলে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৪। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা দরকার এমন মারাত্মক রোগী আছে ৩ হাজার ১৬৬ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৭ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে স্পেনে চলমান নজিরবিহীন লকডাউন ১১ দিনে পড়েছে। তারপরও চক্রবৃদ্ধি হারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো দুজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। আর সৌদি আরব, কেপ ভার্দিতে ঘটেছে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডও মিটারের হিসাব মতে গতকাল ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে পৌঁছেছে।

চীন থেকে ছড়ালেও এখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারী কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইউরোপ। মহাদেশটির ইতালি মৃত্যু সংখ্যায় সব দেশকে ছাড়িয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করে ভাইরাসটি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা দেখাচ্ছে। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত সরকারি হিসাবের ১০ গুণ বেশি বলে দেশটির তথ্য সংগ্রাহক সংস্থার প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বুধবার দুপুর  পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৬, মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৮২০ এবং সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৬ জন।

মৃতের সংখ্যায় স্পেন ইতিমধ্যে চীনকে ছাড়িয়েছে। ইতালির পরেই স্থান নিয়েছে স্পেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে একলাফে রেকর্ডসংখ্যক ৭৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদিন দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৪ দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী হওয়ায় দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ফ্রান্স কভিড-১৯-এ মৃত্যুর দিক দিয়ে পঞ্চম দেশ হিসেবে মঙ্গলবার এক হাজারের কোটা পার করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৬৩৫, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১০২ ও সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ জন।

জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৯৫২, মৃতের সংখ্যা ১৭১ ও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ হাজার ২৯৯ জন।

যুক্তরাজ্যে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ১৬৭, মৃতের সংখ্যা ৪২৩ এবং সুস্থ হয়েছেন ১৪০ জন। দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান ৭১ বছর বয়সী যুবরাজ চার্লসও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ১০ হাজার ১৭১, মৃত্যু ১৩৫ ও সুস্থ হয়েছেন ১৩১ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৫ হাজার ৫৮৫, মৃত্যু ২৭৭ ও সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৯৩, মৃত্যু ১৭৮ ও সুস্থ হয়েছেন ৫৪৭ জন।

চীনে বুধবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আরও হ্রাস পেয়েছে, বিদেশ প্রত্যাগতদের মধ্যে আক্রান্ত কমেছে এবং স্থানীয়ভাবে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। পরিস্থিতি উন্নতির ধারাবাহিকতায় নভেল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশ বুধবার সব ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এ প্রদেশটির প্রায় ছয় কোটি লোক জানুয়ারি থেকে লকডাউন অবস্থায় ছিল। সংক্রমণ যেখান থেকে ছড়িয়েছে হুবেইয়ের সেই রাজধানী শহর উহান থেকে ৮ এপ্রিল লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ পর্যন্ত চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৬৬১ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭০ জন।

এশিয়ার অন্যতম প্রাদুর্ভাব আক্রান্ত দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ১৭, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭৭ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৬২৫ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত ৯ হাজার ১৩৭ জন, মৃত্যু ১২৬ এবং সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৭৩০ জন। জাপানে আক্রান্ত ১ হাজার ১৯৩, মৃত্যু ৪৩ ও সুস্থ হয়েছেন ২৮৫ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯০, মৃতের সংখ্যা ৫৮ ও সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৬ ও মৃতের সংখ্যা ৭ জন। সৌদি আরবে আক্রান্ত ৭৬৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২৮ জন। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ছড়ানোর নতুন বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে বলে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে। তবে ইস্টারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যদিও ভাইরাসটি ‘বুলেট ট্রেনের’ চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ২২৫, মৃত্যু হয়েছে ৮০২ ও সুস্থ হয়েছেন ৩৫৪ জন। কানাডায় আক্রান্ত ২ হাজার ৭৯২ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ১১০ জন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে আক্রান্ত ১ হাজার ৮২ জন, মৃতের সংখ্যা ২৭ ও সুস্থ হয়েছেন ৩ জন।