এমন স্বাধীনতা দিবস দেখেনি বাংলাদেশ|206973|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
এমন স্বাধীনতা দিবস দেখেনি বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমন স্বাধীনতা দিবস দেখেনি বাংলাদেশ

এমন দৃশ্য কেউ দেখেনি আগে। শহর কিংবা গ্রাম সবাই ঘরবন্দি। করোনা-আতঙ্কে স্থবির বিশ্ব। বাংলাদেশেও একই চিত্র। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকী। এ দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। সারা দেশে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ, জেলা উপজেলায় কুচকাওয়াজ এবং সব ধরনের জনসমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনও তাদের কর্মসূচি বাতিল করেছে। তবে জনসমাগম এড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় সংক্ষিপ্ত আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলা শহরে পতাকা উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন। এদিন প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সকালে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম সংখ্যক উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়েছে। সার্ক মহাসচিব, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষকে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে ন্যূনতম উপস্থিতিতে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রমে উন্নতমানের খাবার ও মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এদিন জোহরের নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন : ঢাকায় প্রাপ্ত বিভিন্ন দূতাবাস থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের কথা জানানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ প্রতিরোধে ভারতে ‘লকডাউন’ থাকায় মুম্বাই উপ-হাইকমিশনের আলোচনা সভায় শুধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় সেখানকার সরকারের নির্দেশনা মেনে জনসমাগম পরিহার করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ সময় হাইকমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মিশন কর্মকর্তাবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস হ্যানয়, ভিয়েতনাম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

জেলা-উপজেলায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন : সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রতি বছর শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এবারই প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সকালে সাভার উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুরে স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

নড়াইলে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু মঞ্চ চত্বরে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা পতাকা উত্তোলন করেন। পরে স্বাধীনতা দিবস এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক।

মাগুরায় সকাল ৭টায় শহরের নোমানী ময়দানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুন্ডু প্রমুখ।

ঝিনাইদহে সকালে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সকাল ৮টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, ইউএনও আশেকুল হক ও অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।