উন্মুক্ত হলো গ্রামবাসীর অর্থে মধুমতি নদীতে ভাসমান সেতু|207446|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২০ ০৯:৪৪
উন্মুক্ত হলো গ্রামবাসীর অর্থে মধুমতি নদীতে ভাসমান সেতু
শেখ মফিজ শিপন, ফরিদপুর

উন্মুক্ত হলো গ্রামবাসীর অর্থে মধুমতি নদীতে ভাসমান সেতু

গ্রামবাসীর নিজস্ব তহবিলে ও স্বেচ্ছাশ্রমে মধুমতি নদীর উপর প্লাস্টিক ড্রাম ও লোহা দিয়ে নির্মিত ভাসমান সেতু জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৮শ মিটার লম্বা এ ভাসমান সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৭০ লাখ টাকারও বেশি। সরকারি সহায়তা ছাড়া গ্রামবাসীদের দেওয়া টাকা থেকেই এই নির্মাণের পুরো ব্যয় মেটানো হচ্ছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নে নির্মিত হয়েছে এই সেতু।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদ হাসান বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত মধুমতি নদীর বেষ্টিত সাত গ্রামের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে পিছিয়ে ছিলো। তাদের দাবি ছিলো একটি ব্রিজের। কিন্তু ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। যে কারণে স্থানীয়রা কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে নিজেদের চেষ্টায় তৈরি করলো স্বপ্নের সেতু। যার উপর দিয়ে চলাচল করবে ওই গ্রামগুলোর খেটে খাওয়া মানুষ ও তার পরিবার পরিজন।

এলাকাবাসীর বহু প্রত্যাশিত ভাসমান এ সেতুটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাচান শিপন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভাসমান সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গণজমায়েত নিষিদ্ধ। তাই জনসাধারণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আর অপেক্ষা না করে আজ  থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। ‘

এদিকে সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়ার খবরে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।

ওই এলাকার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, মধুমতি নদীতে আগে খেয়াঘাট ছিল। তাদের নৌকা দিয়ে অনেক কষ্ট করে নদী পারাপার হতে হতো। এখন সেতু খুলে দিলে তাদের আজন্ম দুর্ভোগ লাঘব হবে।

আলফাডাঙ্গা কামারগ্রাম আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কাশেম জানান, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ওই ছয় গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকের বসবাস। বংশপরম্পরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ায় রুদ্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের এ মাধ্যমও। এতে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় এমপি মনজুর হোসেন বুলবুল জানান, টগরবন্ধ ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামের মানুষের এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করছে ভাসমান সেতুটি।

প্লাস্টিকের ব্যারেল আর স্টিলের পাত দিয়ে ভাসমান এ সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। ৮শ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৫২টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা। পরে দুই পাড়ে কংক্রিটের সংযোগ সেতুর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে ভাসমান কাঠামোটিকে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মানুষের মনোবল আর ইচ্ছা শক্তি থাকলে অনেক অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে তার প্রমাণ দিয়ে টগরবন্ধের মানুষ।

তিনি বলেন, ‘মধুমতি নদীর উপরের গ্রামবাসীর উদ্যোগে যে ভাসমান ব্রিজ তৈরি করছে তা প্রশংসার দাবি রাখে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি লিখবো যাতে ওই স্থানে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।’