উল্টো পথে ট্রাম্প|207571|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০
উল্টো পথে ট্রাম্প
রূপান্তর ডেস্ক

উল্টো পথে ট্রাম্প

করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ভয়াবহ দিন পার করেছে। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের কোয়ারেন্টাইন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্টো অবস্থানে আতঙ্ক বেড়েছে এবং এতদিন মহামারী নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের লকডাউন প্রচেষ্টা হুমকিতে পড়েছে। যদিও বর্তমানে বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ঘরবন্দি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, গতকাল রবিবার পর্যন্ত করোনায় বিশ্বে ৩০ হাজার ৮শ’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যে, ভাইরাসটি সমাজের প্রত্যেক খাতে স্পষ্ট ধ্বংসের ছাপ রেখে চলেছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় কোষাগার উজাড় হচ্ছে।

ইউরোপ একাই ২০ হাজারের বেশি লাশ গুনেছে। সবচেয়ে বিপদে ইতালি ও স্পেন, প্রত্যেক দিন সেখানে ৮শ’র বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। মাদ্রিদ হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট পাবলো রদ্রিগেজ রোগীর আগমনকে ‘সুনামি’ বলেছেন। কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে, করোনা সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় এখনো আসেনি। কিন্তু চীনের উহান শহর, যেখানে গত বছরের শেষদিকে ভাইরাসটির উৎপত্তি, সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে। প্রায় দুই মাস আইসোলেশনে থাকা সোয়া কোটি মানুষের শহর খুলে দেওয়া শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সরকার যখন করোনা ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিপরীতে হাঁটছেন। গত শনিবার রাতে তিনি ঘোষণা করেন, নিউ ইয়র্কে দুই সপ্তাহ লকডাউনের কোনো ‘দরকার’ নেই। হোয়াইট হাউজ করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের পরামর্শে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলা হলেও, নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো ও নিউজার্সির গভর্নর নেড ল্যামন্টের প্রভাব রয়েছে। তারা বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক লকডাউন করলে ভীতি সৃষ্টি হবে। এতে অর্থবাজার আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিউ ইয়র্কে এখন ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত। সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৫ জন। করোনায় শনিবারই নিউ ইয়র্কে ১২২ জন মারা গেছে। এ যাবৎ অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু ৬৭২। করোনা প্রাদুর্ভাবের পরবর্তী কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বলার পর নিউ ইয়র্ক মেট্রোপলিটন অঞ্চল পুরো রাজ্যে কোয়ারেন্টাইন প্রস্তাবের আট ঘণ্টা পর ট্রাম্পের টুইট, ‘কোয়ারেন্টাইনের কোনো দরকার নেই। নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি ও কানেটিকাটের গভর্নরদের সিডিসির সঙ্গে কথা বলে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছি।’ ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সিডিসি তিন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের প্রয়োজন না হলে ১৪ দিন ভ্রমণ এড়াতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু বেড়ে যেদিন ২ হাজার ১০০ জনে পৌঁছে, সেদিনই ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন। এর মধ্যে গত তিন দিনে মৃত্যু দ্বিগুণ হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সত্যিই আতঙ্কিত। চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার মধ্যে এমন ঘোষণায় নিউ ইয়র্ক হয়তো ইতালির পথই ধরতে যাচ্ছে। অন্য নামে নিউ ইয়র্ক হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু বলেন, ‘এ ঘোষণা সত্যিই ভয়ংকর। এখানে যথেষ্ট টাকা নেই, পরীক্ষা নেই। এমনকি সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই রোগী দেখতে হচ্ছে।’ নিজেই আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই যখন ধুঁকছে, দাতা সংস্থার হুঁশিয়ারি, নিম্ন আয়ের দেশ এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধপ্রবণ এলাকায় করোনা ছড়ালে লাখো মানুষ মারা যাবে। কারণ এসব দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আগেই ভঙ্গুর।