logo
আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:৫৬
করোনা শনাক্তে যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
অনলাইন ডেস্ক

করোনা শনাক্তে যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

করোনার উপসর্গ আছে এরকম অনেকেই অভিযোগ করছেন, টেস্ট করাতে চেয়েও আইইডিসিআরের সাড়া পাচ্ছেন না তারা। আবার রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম ছাড়া বাকী বিভাগীয় শহরে এখনো ল্যাব প্রস্তুত না হওয়ায় স্থানীয় মানুষ কীভাবে টেস্টের আওতায় আসবেন তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, ঢাকার বাইরে ল্যাবরেটরিগুলো চালু হতে এত সময় কেন লাগছে? আর টেস্ট করতেই বা এত যাচাই-বাছাই কেন?

একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী আমিনুল ইসলাম (ছদ্মনাম) জানান, হঠাৎ করেই শরীরে সর্দি-জ্বরের সঙ্গে শুরু হয় গলা ব্যাথা। ডায়রিয়াও শুরু হয়। কাজের সূত্রে সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ফলে করোনার উপসর্গ শরীরে দেখা দেওয়ায় ভয় পেয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সংযোগ পাননি।

আমিনুল বলেন, “আমি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করি। কত ধরনের লোক আসে অফিসে। সে জন্যেই ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু টেস্ট করাতে গিয়ে দেখি হটলাইনে কাউকেই পাওয়া যায় না। পরের দিন সরাসরি আইইডিসিআরে'র কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। তারা বলেছে হটলাইনেই চেষ্টা করতে। কিন্তু সেটা আর হয় নাই।”

পরে তিনি গ্রামে চলে যান। এখন অনেকটা সুস্থ। তবে কিন্তু করোনা ভাইরাস শরীরে থাকতে পারে এমন আশংকায় নিজেকে আলাদা করে রেখেছেন তিনি।

আমিনুলের মতো আরও অনেকেই আছেন, যারা করোনা শনাক্তের টেস্ট করাতে চেষ্টা করেও হটলাইনে সংযোগ পাননি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সরাসরি আইইডিসিআরের কার্যালয়ে গেলেও লাভ হয়নি।

আবার যারা যোগাযোগ করতে পেরেছেন এবং টেস্ট করানোর জন্য আইইডিসিআরের তালিকাভূক্ত হয়েছেন তাদেরও কেউ কেউ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেখানে টেস্ট করানোর জন্য তদ্বির করতে হচ্ছে। তালিকাভূক্ত হয়েও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে একাধিক দিন।

বিবিসিকে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আমার লক্ষণ শুনে আইইডিসিআর থেকে বলা হয়, আমার করোনা টেস্ট করা হবে। দ্রুত লোক পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু সেদিন টেস্টের জন্য কোন লোক আসেনি। পরদিনও আসেনি। ফোন করলে বলে দ্রুত পাঠাচ্ছে।”

এভাবে তিন দিন চলে যায়। এ দিকে তার শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল। অবস্থা দেখে পরিচত কয়েকজন তদবিরের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিনের মাথায় এসে স্যাম্পল নিয়ে যায় আইইডিসিআরে'র লোক।

এই সব কারণে প্রশ্ন, পরীক্ষায় এত যাচাই-বাছাই কেন? বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেওয়া হয় প্রতিবেদনে। ২৫ মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্টে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার। অথচ ৩০ মার্চে এসে সেই সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে, দেশটির প্রায় সবগুলো অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ভিত্তিতে টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো।

অথচ বাংলাদেশে শুরু থেকেই এর উল্টো চিত্র। প্রথমে শুধু বিদেশ ফেরত কিংবা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন এরকম ব্যক্তিদের মধ্যে করোনার উপসর্গ থাকলে টেস্ট করা হয়েছে। এখন এর আওতা বাড়িয়ে ষাটোর্দ্ধ বয়সী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ যাদের রয়েছে কিংবা যারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এবং এর কারণ নির্ণয় করা যায়নি তাদেরকেও টেস্টের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া চিকিৎসা, গণপরিবহন খাতের মতো পেশার সঙ্গে জড়িতদেরও করোনার উপসর্গ থাকলে টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে।

যারা এর বাইরে তাদের কোয়ারেন্টিনে থেকে উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে। কিন্তু টেস্ট করানো হচ্ছে না।

এ দিকে প্রতিদিন হটলাইনে হাজার হাজার কল আসলেও পরীক্ষা হচ্ছে অল্প সংখ্যায়। সোমবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ১,৩৩৮।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, ব্যাপক ভিত্তিতে টেস্ট করতে আইইডিসিআরের সক্ষমতা নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলছেন, উপসর্গ থাকলেই টেস্ট করাতে হবে বিষয়টি এমন নয়।

“এখানে সক্ষমতার প্রশ্ন নেই। যাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন তাদের প্রত্যেকেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে। ...আমাদের দেশে সংক্রমণ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েনি যে, কারো জ্বর-কাশি হলেই সেটাকে কভিড-নাইনটিনের সংক্রমণ ভাবতে হবে। আমরা রোগীর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেই।”

তিনি বলছেন, “যার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক টেস্ট প্রয়োজন, সেখানে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর কারো ক্ষেত্রে যদি এরকম হয় যে, কেবলমাত্র জ্বর রয়েছে অথবা কাশি। সেক্ষেত্রে আমরা তাকে পরামর্শ দেই আরেকটু পর্যবেক্ষণ করার জন্য এবং আমরাও তাকে পর্যবেক্ষণে রাখি।”

এ দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কয়েকবারই জানানো হয়েছে যে, শীগগিরই ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে ল্যাব চালু হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য কোন বিভাগে সেটা চালু হয়নি।

রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেট এবং ময়মনসিংহে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এর কোনটিতেই এখনো পর্যন্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। কোথাও বায়ো সেফটি'র কাজ চলছে, কোথাও পিসিআর মেশিন ইনস্টলের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ময়মনসিংহ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে জানানো হয়, দুয়েকদিনের মধ্যেই তাদের ল্যাবে পরীক্ষা শুরু করা যাবে বলে আশাবাদি তারা।

এসব ল্যাব চালু হতে সময় লাগা প্রসঙ্গে মীরজাদী সেব্রিনা বলছেন, মূলত যারা ল্যাবে পরীক্ষার কাজ করবেন তাদের নিরাপত্তা এবং সেখান থেকে যেন সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করার জন্যই প্রস্তুতিতে সময় নেওয়া হয়েছে। আশা প্রকাশ করেন, কয়েকদিনের মধ্যেই কোন কোন ল্যাবে পরীক্ষা শুরু করা যাবে।