logo
আপডেট : ৯ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:১৭
প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ইন্তেকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ইন্তেকাল

প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক, ভাষা সৈনিক একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. সুফিয়া আহমেদ (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফোকলোর গবেষক শামসুজ্জামান খান। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের স্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিচারপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিমের কন্যা। তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যসহ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। এমন অবদানের জন্য মহান একুশে পদক লাভ করেন তিনি।

‘৫২’র ভাষা আন্দোলনের এ সংগ্রামী মৃত্যুকালে এক ছেলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, এক মেয়ে ডা. রাইনা আহমেদ, জামাতা ব্যারিস্টার আনাতুল ফাতেহ এবং তিনজন নাতি নাতনি রেখে গেছেন।

এক নজরে সুফিয়া আহমেদ:

সুফিয়া আহমেদ ১৯৩২ সালের ২০ নভেম্বর তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহম্মদ ইবরাহিম ছিলেন একজন বিচারপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মাতা লুৎফুন্নেসা ইবরাহিম। ১৯৪৮ সালে প্রাইভেটে মেট্রিকুলেশন পাস করেন এবং পরে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৫০ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে মিছিলকারী নারীদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি ১৯৬০ সালে লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৪৩-৪৪ সালে তার পিতা মুহম্মদ ইবরাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পাঠদান করতেন। তখন থেকে তার মাঝে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন লালিত ছিল। ১৯৬১ সালে লন্ডন থেকে পিএইচডি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিজের বিভাগ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে অধ্যাপক হন। দেশের বাইরেও তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান করেছেন। তিনি ইস্তানবুলের বসফরাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং উইজকনসিনের মিলোউকির আলভার্নো কলেজের আমন্ত্রিত অধ্যাপক ছিলেন।

সুফিয়া আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সুফিয়া আহমেদ ১৯৫৫ সালের জুনে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইশতিয়াক আহমেদ ছিলেন একজন বিচারক ও আইনজীবী। তাদের দুই সন্তান। পুত্র সৈয়দ রিফাত আহমেদ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং কন্যা রাইনা আহমেদ একজন চিকিৎসক।