logo
আপডেট : ১১ এপ্রিল, ২০২০ ২২:১৬
ঘরে থাকুন, ইউরোপ-আমেরিকার দিকে তাকান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘরে থাকুন, ইউরোপ-আমেরিকার দিকে তাকান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের করোনা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশবাসীকে ইউরোপ-আমেরিকার ভয়াবহ অবস্থার দিতে তাকিয়ে ঘরে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন। তাহলেই আক্রান্ত হবেন না। করোনা পরীক্ষা করান, নিজে বাঁচুন, প্রিয়জনকে ও অন্যকে বাঁচান। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

শনিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, অলিগলিতে এবং সকালের বাজারে লোকজনের উপস্থিতি অনেক বেশি হচ্ছে। এতে আমরা মনে করি সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যাবে। মনে রাখতে হবে এটা লকডাউন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো আমাদেরকে মেনে চলতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকার দিকে তাকান, কী ভয়াবহ চিত্র সেখানে বিরাজ করছে। লকডাউন ভালোভাবে কার্যকর হলেই সংক্রমণ কমবে।

নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর ও বাসাবো এলাকায় করোনাভাইরাস বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেকে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মানুষকে আক্রান্ত করেছে। এ বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ বিষয়টিকে আরও কঠিনভাবে দেখতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে।

আরও কয়েকটি হাসপাতালকে করোনার জন্য প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, মিডওয়ে হাসপাতালসহ আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে আমরা করোনার জন্য নিয়ে আসব। এছাড়া বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালকেও করোনার জন্য প্রস্তুত করা হবে। হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যে সুসজ্জিত রয়েছে।

তিনটি প্রতিষ্ঠানকে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে সুসজ্জিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২০০০ বেড, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ভবনে ১৩০০ বেড ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে ৪টি বহুতল ভবনে ১২০০ বেডসহ মোট সাড়ে ৪ হাজার আইসোলেশন বেড দ্রুতই প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের গতি থামিয়ে দিয়েছে। ঘরে বন্দী করেছে। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনোদন সব সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা যেন এ কয়টা দিন একটু কষ্ট করে বাড়িতে থাকি। পুলিশ, সেনাবাহিনী সকলেই কষ্ট করছেন। লকডাউন কার্যকরে তাদেরকে আরেকটু কষ্ট করতে হবে।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু ডাক্তার, নার্স, সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী তাদের সুস্থতা কামনা করেন।